২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

‘সাকিবের একার দোষ নয়, দলে আরও ১০ জন খেলে’

টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদের মতে, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায় শুধু অধিনায়কের নয়, বরং দলের সবারই।

‘সাকিবের একার দোষ নয়, দলে আরও ১০ জন খেলে’

মাঠে দল ভুগছে প্রচণ্ড, তাতে সমালোচনার মূল ঝাপটা-টা লাগছে অধিনায়ক সাকিবের গায়েই।

আরিফুল ইসলাম রনি আরিফুল ইসলাম রনি

দিল্লি থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Nov 2023, 10:15 PM

Updated : 04 Nov 2023, 02:12 AM

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতায় সমালোচনার তোপ সবচেয়ে বেশি দাগানো হচ্ছে সম্ভবত সাকিব আল হাসানের দিকেই। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে দলের ব্যর্থতার দায় শুধু অধিনায়ককে দিতে নারাজ টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ। তার মতে, ব্যর্থতার জন্য দায়ী ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সবাই।

সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে সমালোচনার শিকার নানা সময়েই হয়েছেন সাকিব। মাঠের ভেতরে-বাইরে নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন অনেক অনেক বার। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করে আইসিসির নিষেধাজ্ঞাও পেয়েছেন। তবে সবসময়ই ২২ গজের দাপট দিয়ে আড়াল করে দিয়েছেন অন্য সবকিছু। ব্যাট-বলে তার দ্যুতিময় পারফরম্যান্সে ম্লান হয়ে গেছে নেতিবাচক যাবতীয় আলোচনা।

কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ব্যর্থ তার সেই শক্তির জায়গাতেই। অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে গিয়ে পারফর্ম করতে পারেননি নিজে। চূড়ান্ত ভরাডুবি হয়েছে দলের। ব্যাট হাতে ৬ ইনিংস মিলিয়ে তার রান ১০৪। বল হাতে প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিতে পারলেও পরের ৫ ম্যাচে শিকার স্রেফ ৪ উইকেট। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দল হেরেছে টানা ৬ ম্যাচ। এমনকি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও বিধ্বস্ত হয়েছেন তারা।

মাঠের পারফরম্যান্স বাজে বলেই এবার তার মাঠের বাইরের নানা কিছুও আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। দলকে কতটা সামলাতে বা উজ্জীবিত করতে পারলেন, সেই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, বিশ্বকাপে রওনা হওয়ার ঠিক আগে টি-স্পোর্টস চ্যানেলে তার বিতর্কিত সাক্ষাৎকারের ঘটনায় দলের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে ও দলীয় আবহে প্রভাব ফেলেছে, এরকম আলোচনা চলছে ব্যাপকভাবে।

বাংলাদেশের সর্বকারের সেরা ক্রিকেটার ও তুমুল জনপ্রিয় হয়েও বিরূপ অভিজ্ঞতার শিকার তাকে এবার হতে হয়েছে। বিশ্বকাপের মাঝপথে যখন দেশে ফিরলেন শৈশবের কোচের সঙ্গে ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার জন্য, মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দুুয়ো শুনতে হলো তাকে। পরে একই অভিজ্ঞতা হলো তার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সের গ্যালারিতেও।

সাকিবের পারফরম্যান্সের এমন পড়তিতে কিছুটা অবাক খালেদ মাহমুদও। দিল্লিতে টিম হোটেলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টিম ডিরেক্টর বললেন, সাকিবের পারফরম্যান্সের ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে উঠছে দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে।

“সাকিব তো তার শতভাগের ১০ ভাগও নেই… সে নিজেও বোঝে খুব ভালো। এই জন্যই হয়তোবা ঢাকায় গিয়েছিল ট্রেনিং করতে। ওর মাথার মধ্যে ছিল বা ও মরিয়া ছিল পারফর্ম করার জন্য। শুধু ওর পারফম্যান্স নয়, ও চায় দল জিতুক। ওর সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, দল পারফর্ম করতে পারছে না। জিততে পারছে না। অধিনায়ক হিসেবে… ২০১৯ বিশ্বকাপে দলকে যেভাবে এগিয়ে নিয়েছে, এবার অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে পারফর্ম করতে না পারাও একটা কারণ হতে পারে।”

তবে দলের না পারার জন্য যেভাবে সাকিবকে কাঠগড়ায় দাড় করানো হচ্ছে, সেটির সঙ্গে একমত নন খালেদ মাহমুদ। বিসিবির এই পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের মতে, দল সংশ্লিষ্ট সবারই দায়টা সমান।

“শুধু সাকিবকে একা দোষ দিয়ে লাভ নেই। সাকিব একা খেলে না, আরও ১০ জন খেলে। অধিনায়ক তো অবশ্যই ভিন্ন ব্যাপার, আলাদা দায়িত্ব আছে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে তো সবারই দায়িত্ব এক। সাকিব যখন ব্যাট করে, তখন তো আর সে অধিনায়ক নয়, সে একটা ব্যাটসম্যান। যখন বোলিং করে, তখন সে বোলার। তবে দিনশেষে সব ব্যাটসম্যান বা বোলারকেই সমান দায় নিতে হবে।”

“সাকিবের একার ব্যর্থতা নয়। হ্যাঁ, অধিনায়ক হিসেবে সমালোচনা নিতেই হবে। সেটি স্বাভাবিক। তবে সেটি সাকিবের একার নয়, আমাদের সবারই সেই সমালোচনা নিতে হবে। আমি যেমন দলের অংশ, আমারও হয়তো ব্যর্থতা আছে। আমি মনে করি, ব্যর্থতা আমাদের সবারই, আমরা করতে পারিনি।”