‘আরে না, আমি তো ভালো বোলার নই’, শামির খেদ
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করেও ভারতের জাতীয় দলে ফেরার ডাক না পেয়ে নির্বাচকদের খোঁচা দিলেন মোহাম্মদ শামি।
বয়স ৩৬ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন ভুবনেশ্বর কুমার। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে প্রায় চার বছর পর এই পেসার ফিরেছেন ভারতীয় দলে। সেই উদাহরণ তুলে ধরেই মোহাম্মদ শামিকে জিজ্ঞেস করা হলো, “আপনিও তো ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করছেন...!” প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই শামির ঝটপট উত্তর, “আরে না না, আমি তো ভালো বোলার নই…।”
বলার অপেক্ষা রাখে না, অনেক কষ্ট, অভিমান ও ক্ষোভ নিয়েই কথাটি বলেছেন শামি। তিনি কেমন বোলার, গোটা ক্রিকেট দুনিয়া তা জানে। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাকে দূরে রাখা হয়েছে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই তার তেজ ফুটে উঠছে। ‘ভালো বোলার নই’ বলার দিনেও দারুণ বোলিং করেছেন। রাঞ্জি ট্রফির নতুন মৌসুমের প্রথম দিনেই বাংলার হয়ে উইকেট নিয়েছেন চারটি।
রাঞ্জি ট্রফিতে গত মৌসুমেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল শামির। ১৬.৭২ গড়ে ৭ ম্যাচে ৩৭ উইকেট নিয়ে আসরের দ্বিতীয় সেরা পেসার ছিলেন তিনি। ঘরোয়া অন্যান্য টুর্নামেন্টেও পারফর্ম করেছেন। কিন্তু ভারতীয় দলের দুয়ার বন্ধই রাখা হয়েছে তার জন্য।
৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট শিকারি পেসার সবশেষ টেস্ট খেলেছেন সেই ২০২৩ সালের জুনে, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। ওই বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি উইকেট নিয়েছেন নামতা গুনে। পরে বড় এক চোট বিশাল ধাক্কা হয়ে আসে তার জন্য, যেটি তার ক্যারিয়ারকে টালমাটাল করে রেখেছে এখনও। সেই চোটের প্রায় দেড় বছর পর গত বছরের শুরুর দিকে ভারতীয় দলে ফেরেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকার করেন, সেমি-ফাইনালে তিনটি। কিন্তু ওই আসরের পর আর ভারতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি কোনো সংস্করণেই।
ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করায় তিনি আলোচনায় রয়ে গেছেন। বিশেষ করে, লাল বলের ক্রিকেটে তার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক। অনেত তরুণ ও আনকোরা পেসারও গত কিছুদিনে সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে। কিন্তু শামির ফেরার ডাক আর আসেনি।
তার ফিটনেস নিয়ে সংশয়ের আলোচনাও নানা সময়ে উঠেছে। এবার দিল্লির বিপক্ষে চার উইকেট নিয়ে রাঞ্জি মৌসুম শুরুর পর ফিটনেসের কথা জিজ্ঞেস করতেই তার পাল্টা তির, “আপনি তো দেখছেন আমার ফিটনেস। লিখে দিন, আপনারা তো দেখছেনই! আমার কথায় কি হবে? আমি মাঠে আছি, খেলছি। যেখানে সম্ভব হয়, খেলে যাচ্ছি…।”
তার এই হতাশার মধ্যেই আলোর রেখা বলা যায় ভুবনেশ্বরের দলে ফেরাকে। সামনের নিউ জিল্যান্ড সফরে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ফেরানো হয়েছে ৩৬ বছর বয়সী পেসারকে। গত আইপিএলে ২৮ উইকেট নিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন এই পেসার। আগের আসরে নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট। শামির মতে, এই সুযোগ আরও আগেই প্রাপ্য ছিল ভুবনেশ্বরের।
“ভুবিকে আরও অনেক আগেই দলে নেওয়া উচিত ছিল। সে তো কারও সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলে না। সে ওরকম নয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এরকম প্রতিভাবান একজনকে এত লম্বা সময় দল থেকে দূরে রাখতে হবে। তার জন্য ভালো হয়েছে। আইপিএলে সে পরপর পারফর্ম করে গেছে। এটা তার প্রাপ্য ছিল।”
বয়সে ভুবনেশ্বরের চেয়ে সাত মাসের ছোট শামি। পারফর্মও করে চলেছেন শামিও। যৌক্তিক প্রশ্নটাও তাই করে রাখলেন তিনি।
“ভুবি অনেক দিন পর দলে ফিরেছে। কেউ যদি পরিশ্রম করে যায় এবং সম্ভাবনা থাকে, কেন তাকে সুযোগ দেওয়া হবে না?”
