Published : 08 Feb 2026, 11:31 PM
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে টানলেন কুসাল মেন্ডিস। ছয়ে নেমে ঝড় তুললেন কামিন্দু মেন্ডিস। তাদের আগ্রাসী জুটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পেল শ্রীলঙ্কা। চমৎকার বোলিংয়ে বাকিটা সারলেন মাহিশা থিকশানা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গারা। জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরু হল সহ-আয়োজকদের পথচলা।
কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে রোববারের তৃতীয় ম্যাচে ২০ রানে জিতেছে দাসুন শানাকার দল। ১৬৩ রানের পুঁজি নিয়ে দলটি আয়ারল্যান্ডকে গুটিয়ে দিয়েছে ১৪৩ রানে।
চতুর্থ ওভার শেষে ক্রিজে যাওয়া কুসাল মেন্ডিস খেলেন শেষ পর্যন্ত। ৪৩ বলে খেলা এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের ৫৬ রানের ইনিংস গড়া পাঁচ চারে। তার সঙ্গে কেবল ৩০ বলে ৬৭ রানের জুটি উপহার দেওয়া কামিন্দু স্রেফ ১৯ বলে ৪৪ রান করার পথে দুটি ছক্কার সঙ্গে হাঁকান চারটি চার।
শ্রীলঙ্কার দুই মূল স্পিনার থিকশানা ও হাসারাঙ্গা নেন তিনটি করে উইকেট। থিকশানা দেন ২৩ রান, হাসারাঙ্গা ২৫।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ ওভারে ভাঙে লঙ্কানদের উদ্বোধনী জুটি। মার্ক অ্যাডায়ারের বলে ক্যাচ দেন কামিল মিশারা।
অনেকটা সময় ক্রিজে থাকলেও, ঠিক স্বচ্ছন্দ ছিলেন না পাথুম নিসাঙ্কা। জর্জ ডকরেলের বলে গায়ের জোরে মারার চেষ্টায় পল স্টার্লিংয়ের হাতে ধরা পড়েন এই ওপেনার। একটি করে ছক্কা ও চারে ২৩ বলে নিসাঙ্কা করেন ২৪ রান।
পরের দুই ব্যাটসম্যান পাভান রাত্নায়েকে ও দুনিথ ওয়েলালাগে করতে পারেননি তেমন কিছু। চতুর্দশ ওভারে ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন বেশ চাপে শ্রীলঙ্কা।
পাল্টা আক্রমণে তখন স্বাগতিকদের পথ দেখান কামিন্দু। ক্রিজে গিয়েই ঝড় তোলেন তিনি। রানের গতি কিছুটা বাড়ান কুসাল মেন্ডিসও। তাদের জুটিতে দ্রুত এগোতে থাকে শ্রীলঙ্কা।
ব্যারি ম্যাককার্থির বলে মিড অফে কামিন্দু ক্যাচ দিলে ভাঙে বিপজ্জনক জুটি। পরের বলে বিদায় নেন অধিনায়ক শানাকা। টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে ১৬ বার শূন্য রানে আউট হলেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৫ বারের বেশি নেই আর কারও।
কুসাল মেন্ডিসের ব্যাটে শেষ সাত বলে আরও ১০ রান যোগ করে শ্রীলঙ্কা।
রান তাড়ায় শুরুতেই স্টার্লিংকে হারায় আয়ারল্যান্ড। চতুর্থ ওভারে বিস্ফোরক ওপেনারকে বোল্ড করে দেন থিকশানা।
আরেক ওপেনার মার্ক অ্যাডায়ার মন দেন দ্রুত রান তোলায়। হাসারাঙ্গার গুগলিতে বোল্ড হয়ে থামেন তিনি। ২৩ বলে খেলা তার ৩৪ রানের ইনিংস গড়া এক ছক্কা ও পাঁচ চারে।
তৃতীয় উইকেটে হ্যারি টেক্টর ও লর্কান টাকার গড়েন ৪৯ রানের জুটি। কিন্তু কেউই দ্রুত রান তুলতে পারেননি। নিজের ইনিংসও খুব একটা বড় করতে পারেননি কেউ। টাকারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ওয়েলালাগে।
এরপর বেশি দূর যেতে পারেননি টেক্টরও। হাসারাঙ্গার বলে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার প্রতিরোধ। অনেকটা সময় ক্রিজে থাকা টেক্টর ৩৪ বলে কেবল একটি চারে করেন ৪০ রান।
এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি আয়ারল্যান্ড। শেষ ছয় ব্যাটসম্যানের পাঁচজনই যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। শেষ পর্যন্ত তারা অলআউট হয়ে যায় ১ বল বাকি থাকতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৬৩/৬ (নিসাঙ্কা ২৪, মিশারা ১৪, কুসাল মেন্ডিস ৫৬*, রাত্নায়েকে ৫, ওয়েলালাগে ১০, কামিন্দু মেন্ডিস ৪৪*, শানাকা ০, হাসারাঙ্গা ১*; হ্যামফ্রিজ ৪-০-৪৪-০, মার্ক অ্যাডায়ার ৪-০-৩৩-১, ম্যাককার্থি ৩-০-৪০-২, ডকরেল ৪-০-১৭-২, ডেল্যানি ৪-০-২৪-১, টেক্টর ১-০-৫-০)
আয়ারল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১৪৩ (স্টার্লিং ৬, রস অ্যাডায়ার ৩৪, টেক্টর ৪০, টাকার ২১, ক্যাম্ফার ১৩, কালিৎজ ৪, ডেলানি ০, ডকরেল ৯, মার্ক অ্যাডায়ার ০, ম্যাককার্থি ০*, হামফ্রিজ ০; চামিরা ৩-০-২৫-১, থিকশানা ৪-০-২৩-৩, পাথিরানা ২.৫-০-২৬-২, ওয়েলালাগে ৪-০-২৮-১, হাসারাঙ্গা ৪-০-২৫-৩, শানাকা ২-০-১২-০)
ফল: শ্রীলঙ্কা ২০ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: কামিন্দু মেন্ডিস