Published : 20 Feb 2026, 01:55 PM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্লেসিং মুজারাবানির বোলিং আগুনে পুড়ছে দলগুলো। জিম্বাবুয়েকে সুপার এইটে তোলার কারিগরদের একজন তিনি। বিশ্ব মঞ্চে এই পেসারের চমৎকার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ মোহাম্মাদ কাইফ। ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যানের বিশ্বাস, আইপিএল নিলামটা বিশ্বকাপের পর হলে আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক পেতেন দীর্ঘদেহী পেসার।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচও হারেনি জিম্বাবুয়ে। তাদের এই চমকপ্রদ ছুটে চলায় বড় ভূমিকা রেখেছেন মুজারাবানি। ৩ ম্যাচে এখন পর্যন্ত ৯ উইকেট নিয়েছেন তিনি ওভারপ্রতি ছয়ের কম রান দিয়ে। আসরে তার চেয়ে বেশি শিকার ধরতে পেরেছেন কেবল একজন-যুক্তরাষ্ট্রের পেসার শাডলি ফন স্কল্কভাইক (১২)।
ওমানকে হারানোর পথে স্রেফ ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মুজারাবানি। পরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় জয়ের ম্যাচে ৪ শিকার ধরেন কেবল ১৭ রান খরচায়। এই দুই ম্যাচেই সেরার পুরস্কার জিতে নেন ডানহাতি পেসার।
বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকে তাদের ঘরের মাঠেই হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে জিম্বাবুয়ে। কলম্বোতে লঙ্কানদের বিপক্ষে একটু খরুচে ছিলেন মুজারাবানি, তবে ২টি উইকেট ধরা দেয় এই ম্যাচেও।
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মুজারাবানির এখনও আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি। নিলাম থেকে তো কখনও দলই পাননি তিনি। একবার তাকে নেট বোলার হিসেবে দলের সঙ্গে রেখেছিল লাক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস। গত আইপিএলে লুঙ্গি এনগিডির অস্থায়ী বদলি হিসেবে তাকে দলে যোগ করেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
২০২৬ সালের আইপিএলের নিলাম হয়ে গেছে গত ডিসেম্বরে। কাইফ তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, নিলামটা যদি বিশ্বকাপের পরে হতো, তাহলে মুজারাবানিকে নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত।
“ব্লেসিং মুজারাবানি অসাধারণ একজন বোলার। ভবিষ্যতে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নজরে থাকবে সে। ম্যাচের প্রতিটি পর্যায়ে সে বোলিং করছে, নতুন ও পুরনো দুই বলেই। তার উচ্চতা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি, উচ্চতার বাড়তি সুবিধাও সে পায়। এখন যেভাবে বোলিং করছে মুজারাবানি, আইপিএল নিলাম যদি বিশ্বকাপের পরে হতো, নিশ্চিত করে বলতে পারি, নিলাম থেকে সে অন্তত ২০ কোটি রুপি পেত। তার দুর্ভাগ্য, আইপিএল নিলাম হয়ে গেছে।”
বাছাই পার হতে না পারায় বিশ্বকাপের গত আসরে খেলতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। এবার তাদেরকে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন রূপে। বাছাই পর্বে কোনো ম্যাচ না হারা দলটি মূল পর্বেও এখন পর্যন্ত অপরাজিত।
গ্রুপ সেরা হয়ে সুপার এইটে ওঠা জিম্বাবুয়ে দলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন কাইফ।
“অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সহজ কাজ নয়, এরপর শ্রীলঙ্কাকে তাদের মাঠে হারানো। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল। তাই প্রতিপক্ষের মাঠে মন্থর উইকেটে, যেখানে পাকিস্তান ১৭৬ রান তাড়া করতে ভুগছে, সেখানে জিম্বাবুয়ে ১৭৯ রান রান তাড়া করে ফেলল। এমন উইকেটে কীভাবে খেলতে হয়, জিম্বাবুয়ে সেটা দেখিয়েছে।”
সুপার এইটে ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে জিম্বাবুয়ে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী সোমবার ক্যারিবিয়ানদের মুখোমুখি হবে সিকান্দার রাজার দল।