Published : 24 Feb 2026, 11:02 AM
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরাজয়ের পর ভারতের বোলিং আক্রমণের দিকে আঙুল তুলছেন শোয়েব আখতার। পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলারের মতে, ধারহীন এই বোলারদের তুলাধুনা করতে কোনো সমস্যাই হয়নি প্রোটিয়ার ব্যাটসম্যানদের। বিশেষ করে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন হার্দিক পান্ডিয়া ও শিভাম দুবেকে।
সুপার এইটের ম্যাচটিতে রোববার ২০ ওভারে ১৮৭ রান তুলে ভারতকে ৭৬ রানে হারিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতের মূল দুই পেসার সেদিন দুর্দান্ত বোলিং করেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরেকবার মেলে ধরেন জাসপ্রিত বুমরাহ। তার নতুন বলের সঙ্গী আর্শদিপ সিং ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে উইকেট নেন ২টি। কিন্তু বাকি বোলারদের সবাই ছিলেন নখদন্তহীন।
মূল স্পিনার ভারুন চক্রবর্তি ৪ ওভারে রান দেন ৪৭। পান্ডিয়ার ৪ ওভার থেকে আসে ৪৫ রান। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের উইকেট নিতে পারলেও দুবে ২ ওভারে খরচ করেন ৩২ রান।
ব্রেভিস ও ডেভিড মিলারকে আউট করার পর শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার রানের রাশ ভালোভাবেই টেনে ধরতে পেরেছিল ভারত। কিন্তু ইনিংসের শেষ ওভারে পান্ডিয়াকে শিক্ষা দিয়ে ২০ রান নেন ট্রিস্টান স্টাবস।
ট্যাপম্যাডে আলোচনায় পান্ডিয়াদের এই পারফরম্যান্সকেই একহাত নিলেন শোয়েব।
“হার্দিকক পান্ডিয়া ও শিভাম দুবে বল করছিল ১২০ কিলোমিটারের আশেপাশে গতিতে। তারা তো আর ম্যালকম মার্শাল নয় যে দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটিং লাইন আপে ভীতির সঞ্চার করবে। এমন বোলারদের শেষ তিকে বোলিংয়ে আনলে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের এমন পাল্টা আক্রমণই তো স্বাভাবিক।”
ম্যালকম মার্শালের গতি অবশ্য পান্ডিয়া-দুবের মতো এত কম ছিল না। একসময় তো অনেক গতিময় বোলিংই করতেন। পরে একটা পর্যায়ে কিছুটা কমে আসে গতি। তবে খুব বেশি উচ্চতা ও তুমুল গতি না থাকার পরও অসাধারণ স্কিলের জন্য তিনি ছিলেন দারুণ ভীতি জাগানিয়া বোলার। দুই দিকে সুইং, কার্যকর বাউন্সার, ভয়ঙ্কর লেগ কাটারসহ বিভিন্ন স্কিলে তিনি ছিলেন সমৃদ্ধ। তাকে মনে করা হয় ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পেসার। অনেকের চোখেই তিনি সর্বকালের সেরা পেসার। তার টেস্ট বোলিং গড় (২০.৯৪) ও স্ট্রাইক রেট (৪৬.৭০) অবিশ্বাস্য। ৮১ টেস্টে ৩৭৬ উইকেট নেওয়া পেসার ১৯৯৯ সালে মাত্র ৪১ বছর বয়সে মারা যান ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে।
পান্ডিয়া-দুবের পাশাপাশি শোয়েব তুলে ধরলেন এই ম্যাচে ভারুনের করুণ চিত্রও।
“ভারতের বোলিংয়ের দুর্বলতা এ দিন প্রকাশ্য হয়ে গেছে। ভারুনের দিকে তাকান, যার শক্তির জায়গা ৯৭-৯৮ কিলোমিটার গতিতে বল করা, এই ম্যাচে সে নেমে এসেছিল ৯৪ কিলোমিটারে। সে বোলিংয়ে আসার পর তাকে ‘নো-লুক’ শটে ছক্কায় উড়িয়ে দিয়েছে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস।”
সর্বকালের সবচেয়ে গতিময় পেসার শোয়েবের মতে, এই ম্যাচে কুলদিপ ইয়াদাভের অভাব অনুভব করেছে ভারত।
“ভারতের বোলিংয়ে একটি ‘মিসিং লিংক’ ছিল কুলদিপ। সে এমন একজন, ব্যাটসম্যানদের যে বিভ্রান্ত করতে পারে ফ্লাইটে এবং প্রয়োজনের সময় উইকেট এনে দিতে পারে। তার ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য প্রমাণিত।”