Published : 06 Mar 2026, 11:03 AM
আগের ম্যাচে ৯৭ রানে অপরাজিত। এবার ৮৯ রানে আউট। পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি ফসকে গেল একটুর জন্য। সংবাদ সম্মেলনে একজন সংবাদকর্মী প্রশ্নটি করতেই সাঞ্জু স্যামসনের স্বতস্ফূর্ত উত্তর, “ভাইরে, দুটি সেঞ্চুরি হারাইনি, বরং ৯৭ ও ৮৯ রান করেছি, বিশাল ব্যাপার…!”
গ্লাস পুরোপুরি ভরেনি, এই ছবি দেখতে পারেন অনেকে। কিন্তু স্যামসন দেখছেন, গ্লাসের অনেকটুকুই ভরেছে। সুপার এইটের শেষ ম্যাচ, কার্যত যেটি ছিল কোয়ার্টার-ফাইনাল এবং পরে সেমি-ফাইনাল, দুই ম্যাচে অসাধারণ ব্যাটিং করে ম্যাচ-সেরা হওয়া ও দলের জয়, এসবই মন ভরিয়ে দিচ্ছে স্যামসনের। শতরানের আক্ষেপ সেখানে সেখানে উঁকিঝুকি মারতে পারছে না মোটেও।
কলকাতায় গত রোববার কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের রোমাঞ্চকর রান তাড়ার নায়ক ছিলেন স্যামসন। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ করে সেদিন হয়েছিলেন ম্যাচ-সেরা। সেমি-ফাইনালে বৃহস্পতিবার ৪২ বলে ৮৯ রান করে দলকে নিয়ে গেলেন তিনি আরও বড় স্কোরের দিকে। এবারও লড়াই হলো তুমুল। অনেক নাটকীয়তার পর ৭ রানে জিতে ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। ম্যাচের সেরা সেই স্যামসনই।
আগের ম্যাচে অপরাজিত থেকেও স্রেফ তিন রানের জন্য শতরান হয়নি দল জিতে যাওয়ায়। এবার তিনি যখন ছক্কার চেষ্টায় আউট হলেন, ম্যাচের তখনও ৭ ওভার বাকি। আক্ষেপ থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে ম্যাচের পর তিনি বললেন উল্টো কথা।
“মোটেও না (সেঞ্চুরি না করার আক্ষেপ নেই)। সত্যি বলতে, সেঞ্চুরি করা যায় না। এটা প্রক্রিয়ার পথ ধরে হয়ে যায়। এটা তো টেস্ট বা ওয়ানডে খেলা নয়, যেখানে উঠানামা থাকে বা সময় নেওয়া যায়। এখানে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে একবার শুরুটা করতে পারলে শুধু ছুটে যেতেই হয়, অন্য কোনো পথ নেই। যতটা সম্ভব চেষ্টা করেই যেতে হয়।”
এই ইনিংসটি অবশ্য থেমে যেতে পারত ১৫ রানেই। মিড অনে তার সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। এই সৌভাগ্যকে খেলার অংশই ধরে নিচ্ছেন স্যামসন। তিনি উচ্ছ্বসিত সুযেগি কাজে লাগাতে পারায়।
“অতীতে অনেক সময়ই দুর্ভাগ্যের শিকার হতে হয়েছে। তবে কখনও কখনও তো সৌভাগ্যও পাশে পাওয়া যায়। খুবই সৌভাগ্যবান যে সুযোগটি পেয়েছি, আমাকে তা লুফে নিতে দিন। বলটি মারার মতো ছিল, মেরেছি। ক্যাচ পড়েছে। কোনো সমস্যা নেই। পরেরবার আরেকটু জোরে মারব।”
“যে রানই করতে পারছি, যা করছি, তাতেই আমি খুশি। আমার দেশের জয়ে অবদান রাখতে পেরেই খুব খুশি।”
স্যামসনের লক্ষ্য ছিল আগের ম্যাচের ফর্মকে এই ম্যাচে বয়ে আনা। বিশাল লক্ষ্যের পেছনে ছুটেও ম্যাচ জমিয়ে তোলাল কৃতিত্ব দিলেন তিনি ইংল্যান্ডকে।
“খুবই ভালো লাগছে। সত্যি বলতে, জানতাম যে গত ম্যাচ থেকে ফর্ম আমার সঙ্গী, কাজেই সেটা ধরে রাখতে চেয়েছি। দেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো ফর্ম পাওয়া সহজ নয়। আমার মনে হয়েছে, বড় ম্যাচে এই ফর্ম যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে হবে। এজন্য নিজেকে সময় দিয়েছি, হিসাব করে ইনিংস গড়েছি। প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল এবং সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে।”
“ওয়াংখেড়েতে অনেক ম্যাচ খেলেছি বলেই আমরা জানি, কোনো স্কোরই এখানে যথেষ্ট নয়। এজন্য চেয়েছি যত বেশি সম্ভব রান করতে। দেখুন, শেষ পর্যন্ত আড়াইশ রানও তাড়া হয়ে যাচ্ছিল। ইংল্যান্ড দারুণ ব্যাট করেছে। তারা যেভাবে খেলেছে, কৃতিত্ব দিতে হবে। দুর্দান্ত সেমি-ফাইনাল হলো।”