Published : 26 Feb 2026, 12:17 PM
ঠিক যেন আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখার মতোই ব্যাপার। শেন ওয়ার্নকে এখনও মাঝেমধ্যে কিছু লিখে পাঠান ইশ সোধি। ভালো কোনো ফ্লিপার করতে পারলে নেই ভিডিও পাঠিয়ে দেন। ওয়ার্নের জগতে সেই বার্তা পৌঁছায় কি না, জানেন না সোধি। সেই ভাবনাও তার নেই। আছে কেবল অন্তরের তৃপ্তিটুকু। লেগ স্পিনের জাদুকরকে যে হৃদয়ে লালন করেন তিনি! কিংবদন্তির সঙ্গে আবেগময় নানা স্মৃতি আর কৃতজ্ঞতার কথা শোনালেন নিউ জিল্যান্ডের লেগ স্পিনার।
চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সেভাবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাননি সোধি। গ্রপ পর্বে মাঠে নামতে পারেননি। সুপার এইটে শ্রীলঙ্কার উইকেটে তাকে মনে পড়েছে দলের। পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে থাকলেও ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ ওভার বোলিং করে ১৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। সামনের সময়টায় তার সুযোগ আসবে হয়তো।
টি-টোয়েন্টিতে ১৬২ উইকেট নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের সফলতম স্পিনার তিনি। আর মোটে ৩টি উইকেট নিলেই টিম সাউদিকে ছাড়িয়ে হয়ে উঠবেন দেশের সফলতম স্পিনারও। সেই পথচলা নিয়েই কথা বললেন তিনি ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর সঙ্গে। সেখানে উঠে এলো তার ফ্লিপারের প্রসঙ্গও। সাম্প্রতিক সময়ে এই ডেলিভারিতে দারুণ উন্নতি করেছেন তিনি।
ক্রিকেটের কঠিনতম শিল্প লেগ স্পিনের খুবই ভয়ঙ্কর এক অস্ত্র ফ্লিপার, যা কার্যকরভাবে রপ্ত করা ভীষণ কঠিন। সর্বকালের সেরা লেগ স্পিনার ওয়ার্ন ছিলেন ফ্লিপারের মাস্টার।
সোধি বললেন, ওয়ার্নকে দেখেই ফ্লিপারের অনুরাগী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
“এই ডেলিভারি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ করছি। পুরোনো ঘরানার ফ্লিপার এটা, ওয়ার্নি যেভাবে শিখিয়েছিলেন। বেড়ে ওঠার সময়টায় ওয়ার্নির ফ্লিপার দেখায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। আগে এটা সেভাবে ব্যবহার করিনি, গত বছর দুয়েক একটু বেশি ব্যবহার করছি। তবে এটা আমার ধরনের ডেলিভারি, যেটি তুলনামূলক একটু দ্রুতগতির।”
“১৩ বছর বয়স থেকেই চেষ্টা করছি ফ্লিপার করার। এই ডেলিভারি রপ্ত করা এত কঠিন! সাম্প্রতিক সময়ে খুব ভালোভাবে এটা করতে পারছি এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহার করছি, কিছু উইকেটও নিয়েছি এতে।”
ফ্লিপার নিয়ে ওয়ার্নের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও তার হয়েছে। ২০১৮ ও ২০১৯ আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসে ছিলেন সোধি। সেই দলের মেন্টর ছিলেন তখন ওয়ার্ন।
সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন ও বর্ণময় এই চরিত্র ৫২ বছর বয়সে মারা যান ২০২২ সালে। কিন্তু তার সঙ্গে হৃদয়ের যোগাযোগ এখনও আছে সোধির।
“এমনকি এখনও মাঝেমধ্যেই ওয়ার্নিকে টেক্সট মেসেজ পাঠাই আমি, ফ্লিপারে উইকেট পেলে সেই ভিডিও পাঠাই। মনে হয়, ‘ওয়ার্নি যদি এটা দেখতে পেত!’ তিনি অবশ্যই এসব দেখতে পাচ্ছেন না, কিংবা কে জানে, হয়তো দেখছেন! রাজস্থান রয়্যালসে তার সংস্পর্শে এসেছিলাম এবং ফ্লিপারের কিছু কৌশল তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন। এখন সেসব যখন পারছি, খুবই খারাপ লাগে যে তিনি দেখে যেতে পারলেন না।”
“আমি এখনও এসব পাঠাই তাকে (হাসি)। তিনি ইশ্বরের মতো… এত অসাধারণ এক মেন্টর এবং তার পাশে থাকা এক দারুণ ছিল! অসাধারণ ছিলেন তিনি।”