Published : 27 Feb 2026, 04:12 PM
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হতশ্রী ব্যাটিংয়ে তেতে ছিলেন ভারতের সবাই। জিম্বাবুয়েকে তাই উড়িয়ে দেওয়াই ছিল তাদের লক্ষ্য। সেটি পূরণ হওয়ার পর তিলাক ভার্মা বললেন, এতই আগ্রাসী হতে চেয়েছিলেন যেন তাদের দেখেই আতঙ্কে থাকে প্রতিপক্ষের বোলাররা।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইন-আপ গুলোর একটি ভারতের। যাদের একজন জ্বলে উঠলে, সেই দ্যুতিতে পুড়ে ছারখার হয়ে যেতে পারে প্রতিপক্ষ। কিন্তু বিস্ফোরক সেই ব্যাটিং লাইন-আপের সবাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেন ঘুমিয়ে ছিলেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিজের প্রথম ম্যাচে প্রোটিয়াদের সঙ্গে ১২০ রানও করতে পারেনি ভারত। ১৮৮ রান তাড়ায় শিরোপাধারীরা গুটিয়ে যায় স্রেফ ১১১ রানে। এমন বাজে ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে বয়ে যায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
ওই পরাজয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠার পথও কঠিন হয়ে পড়ে ভারতের। পরের দুই ম্যাচে তো জিততেই হবে, সঙ্গে রান রেটও বাড়াতে হবে, এমন সমীকরণ দাঁড়ায় তাদের সামনে। সেই লক্ষ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নামার আগে তাণ্ডব চালানোর পণ করেছিলেন আভিশেক শার্মা, হার্দিক পান্ডিয়ারা।
বিশ্বকাপে টানা তিন শূন্যের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ রান করা আভিশেক জ্বলে ওঠেন জিম্বাবুয়ের সঙ্গে। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন আলোচিত ওপেনার। আসরে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে দলকে ভালো শুরু এনে দেন সাঞ্জু স্যামসন। তিনে নেমে স্রেফ ১৩ বল খেললেও ৩৩ রান করে যান সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। খুনে ফিফটিতে অপরাজিত থাকেন পান্ডিয়া।
যার ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল, সেই তিলাক ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন মাত্র ১৬ বল খেলে। সবার মিলিত অবদানে ২৫৬ রান করে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ভারতের সর্বোচ্চ। অল্পের জন্য শ্রীলঙ্কার ২৬০ রানের রেকর্ডটি ভাঙতে পারেনি তারা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিলাক বলেন, এমন একটি ম্যাচের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। যেখানে তাদের ঝড়ে উড়ে যাবে প্রতিপক্ষ, তাদের দেখেই ভয়ে কাঁপতে থাকবে বোলাররা।
“আমরা এটাই (এমন পারফরম্যান্স) খুঁজছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে তো বটেই, দল হিসেবেও আমরা রানের খোঁজে ছিলাম। আলোচনা ছিল এমন, পরিস্থিতি যা-ই হোক, পাওয়ার প্লেতে যদি তিন-চারটা উইকেট হারিয়েও ফেলি, একই ছন্দে ব্যাটিং করব।”
“ওপেনারদের ভালো শুরু গুরুত্বপূর্ণ, একই আত্মবিশ্বাস পরে তিন, চার ও পাঁচ নম্বর ব্যাটসম্যানের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। সাঞ্জু ঠিক সেই কাজটাই দারুণভাবে করেছে। এটাই আলোচনা করছিলাম যে, প্রতিপক্ষ বোলারদের মধ্যে এমন ভয় দেখতে চাই যেন তারা বুঝতে পারে যে ভারতের ব্যাটসম্যানরা প্রতিটি বলেই মারতে প্রস্তুত।”
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭২ রানের জয়ে সেমি-ফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ভারত। সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে রোববার ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে তারা। ম্যাচটি কার্যত কোয়ার্টার-ফাইনাল। জয়ী দল পাবে শেষ চারের টিকেট।