Published : 19 Feb 2026, 11:24 PM
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলে দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিলেন ইব্রাহিম জাদরান। সঙ্গে সেদিকউল্লাহ আটালের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে যে উচ্চতায় উঠল আফগানিস্তানের স্কোর, তার ধারেকাছে যেতে পারল না কানাডা। মোহাম্মাদ নাবির চমৎকার বোলিংয়ে বড় জয় পেল আফগানরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে আফগানিস্তানের জয় ৮২ রানে।
চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার ২০ ওভারে ২০০ রান করে আফগানিস্তান। বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর এটি। ২০২১ আসরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯০ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
জবাবে ১১৮ রানের বেশি করতে পারেনি কানাডা।
অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি ইব্রাহিম। সাত চার ও পাঁচ ছক্কায় ৫৬ বলে অপরাজিত ৯৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনিই।
আফগানিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে এই ওপেনারের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস এটি। গত মাসে দুবাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৭ ছিল তার আগের সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও এখন ইব্রাহিমের। এই আসরেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রাহমানউল্লাহ গুরবাজের ৮৪ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (৯৫*), ওয়ানডে বিশ্বকাপ (১২৯*) ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (১৭৭)- তিনটি টুর্নামেন্টেই আফগানিস্তানের রেকর্ড স্কোরার ইব্রাহিম।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে চার ওভারে স্রেফ ৭ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার নাবি। ৪১ বছর ৪৯ দিন বয়সে এমন বোলিং করলেন তিনি। বিশ্বকাপে (টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে) তার চেয়ে বেশি বয়সে ৪ উইকেট নিতে পারেননি আর কেউ।
প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর, শেষ দুই ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল গত আসরের সেমি-ফাইনালিস্ট আফগানিস্তান।
চিপকের এমএ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে গুরবাজ ও ইব্রাহিমের ব্যাটে ভালো শুরু পায় আফগানিস্তান। ২০ বলে ৩০ রান করে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বিদায় নেন গুরবাজ। থামে ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি।
তিন নম্বরে নেমে একই ওভারে ফেরেন গুলবাদিন নাইব। সেখান থেকে তৃতীয় উইকেটে ৬০ বলে ৯৫ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন ইব্রাহিম ও সেদিকউল্লাহ।
দুটি করে চার ও ছক্কায় সেদিকউল্লাহ করেন ৩২ বলে ৪৪ রান।
আগের ম্যাচে ৫৩ রান করা ইব্রাহিম এবার ৩৩ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর জীবন পান ৫৪ রানে, সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান তিনি। ইনিংসের শেষ দুই বলে বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে অপরাজিত রয়ে যান ২৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
একটি ছক্কায় ৭ বলে ১৩ রান করেন আজমাতউল্লাহ ওমারজাই।

রান তাড়ায় পাওয়ার প্লের মধ্যে ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কানাডা। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি তারা।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা ওপেনার ইউভরাজ সিং সামরা এবার থামেন ১৭ রানে।
নিজের দ্বিতীয় বলে উভরাজকে ফিরিয়ে শিকার ধরা শুরু করেন নাবি। পরের ওভারে তিনি বিদায় করেন নিকোলাস কার্টনকে। নিজের শেষ দুই ওভারে আরও দুটি উইকেট নিয়ে বোলিং শেষ করেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।
গুরবাজ ক্যাচ না ছাড়লে পাঁচ উইকেটও হয়ে যেত নাবির।
চার নম্বরে নেমে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩০ রান করতে পারেন হার্শ। সাদ বিন জাফার করেন ২৬ বলে ২৮ রান।
১৯ রানে ২ উইকেট নেন আফগান অধিনায়ক রাশিদ খান।
চার ম্যাচের সবকটি হেরে আসর শেষ করল কানাডা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ২০০/৪ (গুরবাজ ৩০, ইব্রাহিম ৯৫*, গুলবাদিন ১, সেদিকউল্লাহ ৪৪, ওমারজাই ১৩, রাসুলি ৪*; কালিম ৩-০-২৩-০, হেলাইগার ৪-০-৪১-১, দিলপ্রিত ৩-০-১৮-০, জাসকারান ৪-০-৫২-৩, স্বাদ ৩-০-৩৫-০, আনশ ৩-০-২৪-০)
কানাডা: ২০ ওভারে ১১৮/৮ (ইউভরাজ ১৭, দিলপ্রিত ১৩, নাভনিত ০, হার্শ ৩০, কার্টন ১০, শ্রেয়াস ২, স্বাদ ২৮, হেলাইগার ৩, জাসকারান ৭*, আনশ ২*; মুজিব ৪-০-২৪-১, ওমারজাই ২-০-১৮-১, নাবি ৪-০-৭-৪, আহমাদজাই ৩-০-২২-০, রাশিদ ৪-০-১৯-২, জিয়াউর ৩-০-২৪-০)
ফল: আফগানিস্তান ৮২ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ইব্রাহিম জাদরান