Published : 10 Feb 2026, 02:29 PM
ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে পাকিস্তানের সরে আসাকে ক্রিকেটের জয় হিসেবে দেখছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি। এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মধ্যে একটি টেস্ট সিরিজে দেখছে চেয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গেলেও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মাঠে নামবে না পাকিস্তান, চলতি মাসের শুরুতে এমনটা জানায় পাকিস্তান সরকার। এরপর ক্রিকেট আঙিনায় শুরু হয়ে যায় তোলপাড়।
বাণিজ্যিক দিক থেকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটি আয়োজন করতে উঠেপড়ে লাগে আইসিসি। রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আইসিসির সভা শেষে সমাধানের পথে মেলে।
অনেক টানাপোড়েনের পর পরদিন বিবৃতি দিয়ে ভারতের বিপক্ষে আগামী রোববারের ম্যাচটি খেলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় পাকিস্তান সরকার।
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেটে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে বলে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে লেখেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক আফ্রিদি।
“ক্রিকেটীয় চেতনা জয়ী হয়েছে। অংশগ্রহণের (ভারত ম্যাচ খেলার) সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান সরকার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পবিত্রতা রক্ষা করেছে এবং বিশ্বব্যাপী খেলাটির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছে। ক্রিকেট জিতেছে-যার মানে বিস্তৃত বিভাজন দূর করতে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবে।”
রাজনৈতিক শীতল সম্পর্কের কারণে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না ভারত-পাকিস্তান। প্রতিবেশি দুই দলের দেখা হয় কেবল আইসিসি ও এসিসি এর টুর্নামেন্টে।
এবার ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের লড়াই দেখতে চান ভন।
“এটা প্রতিযোগিতাটি ও ক্রিকেটের জন্য দারুণ সিদ্ধান্ত। যেভাবে হোক শিগগিরই তাদের মধ্যে একটি টেস্ট সিরিজ খেলার ব্যবস্থা করতে হবে… তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য যুক্তরাজ্য হতে পারে দারুণ জায়গায়।”
পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত বদলে একদমই অবাক হননি জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে। তার মতে, ভারতের বিপক্ষে খেলতে শুরু থেকেই তৈরি ছিল পাকিস্তান।
“পাকিস্তান এই ম্যাচ খেলতই। এটা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার ছিল। ভারত ম্যাচ বর্জন কখনোই সম্ভব ছিল না।”
ভারতের বিশ্বকাপে না খেলার পাকিস্তানের শুরুর সিদ্ধান্তে আইসিসির পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতো শ্রীলঙ্কারও। কারণ ম্যাচটি যে হবে কলম্বোয়।
সেসব দিক তুলে ধরে কদিন আগেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের করতে পিসিবিকে অনুরোধ করেছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজকে ফোন করেছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমারা দিশানায়েকেও।
শেষ পর্যন্ত তাদের অনুরোধ রাখায় পাকিস্তান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ।
“শ্রীলঙ্কার অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি সহযোগিতার জন্য পিসিবি ও পাকিস্তানের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানাই। এটি ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা, বন্ধুত্ব এবং আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতিফলন।”
চরম আলোচিত এই ঘটনা ও সমস্যার সূত্রপাত গত মাসে, আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর। এর পাল্টা জবাবে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। ম্যাচগুলো সেখান সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলে বিসিবি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দাবি নাকচ করে দেয় আইসিসি। বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় থাকলে তাদেরকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। তখনই আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত দ্বিচারিতার সামিল বলেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিল পাকিস্তান
এরপর আসে তাদের ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত। সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে রোববার লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বসে আইসিসি। সেই সভায় উপস্থিত থাকতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকেও ডেকে নেওয়া হয়। আর সেখানেই পিসিবিকে ম্যাচটি খেলার অনুরোধ জানান বিসিবি প্রধান।