Published : 20 Feb 2026, 04:44 PM
মোহাম্মাদ ইউসুফের পাকিস্তান দলের নির্বাচকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর। লম্বা সময় পর এসে সেই পদত্যাগের আসল কারণ খোলসা করেছেন তিনি। বাবর আজমকে দলে রাখা নিয়ে ঝামেলায় তখন সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন দেশটির ব্যাটিং গ্রেট।
একটা সময় পাকিস্তানের নায়ক ও প্রবল জনপ্রিয় ছিলেন বাবর। কিন্তু বাজে ফর্মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ক্রিকেটে চর্চা চলছে তাকে নিয়ে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও শুরু করেন তিনি সমালোচনাকে সঙ্গী করে।
টি-টোয়েন্টিতে এমনিতে রান পাচ্ছেন বাবর। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় এই সংস্করণে তার ব্যাটিংয়ের ধরন, স্ট্রাইক রেট নিয়ে। সময়ের সঙ্গে সে সব প্রশ্নগুলো আরও উচ্চকিত হচ্ছে।
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ফিফটি করতে পারেননি বাবর। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় পাকিস্তান। এবারও এখন পর্যন্ত পঞ্চাশের দেখা পাননি ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তিন ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে করেছেন যথাক্রমে ১৫, ৪৬ ও ৫ রান।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নির্বাচক কমিটিতে ইউসুফকে যোগ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর কমিটিতে কিছু রদবদল হলেও টিকে যান ইউসুফ।
কিন্তু সন্তুষ্ট ছিলেন না তিনি দল নির্বাচন নিয়ে। দায়িত্বে থাকার সময় বাবরকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন ইউসুফ। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে, টেকনিক নিয়ে কাজ করার পর উত্তরসূরিকে দলে ফেরানোর লক্ষ্য ছিল তার।
ইউসুফের পরামর্শ ওই সময় আমলে নেয়নি কেউ। মতবিরোধের জেরে দায়িত্বের মেয়াদ ছয় মাস যেতেই পরে সরে দাঁড়ান পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান। ওই সময় বলেছিলেন ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করার কথা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় ১৮ হাজার রান করা ক্রিকেটার এক পডকাস্টে এবার খোলাসা করলেন মূল কারণ।
“গত ২-৩ বছর ধরে এটা বলে আসছি যে, বাবরের টেকনিক খারাপ হয়ে গেছে। একজন ক্রিকেটার তিন বছর ধরে বাজে ফর্মের মধ্যে থাকতে পারে না, ফর্ম খারাপ থাকতে পারে সর্বোচ্চ দুই-তিন সিরিজে। চারদিকে বলতে শোনা শোনা যায়, বাবর আজকালই না ফর্মে নেই, তো কি হয়েছে? কিন্তু সে আজকাল নয়, তিন বছর ধরে রান করছে না।”
“যখন আমি নির্বাচক ছিলাম, তখন পরামর্শ দিয়েছিলাম যে, বাবরকে বিশ্রাম দাও, তাকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে পাঠাও, তখন সে একাডেমিতে এসে টেকনিক নিয়েও কাজ করতে পারবে। যখন সে সমস্যা কাটিয়ে উঠবে তখন তাকে ফেরানো যাবে। তখন সবাই আমার বিরুদ্ধে চলে যায়। এই কারণে আমি পদত্যাগ করতে বাধ্য হই। কয়েকটি সিরিজ পর ঠিকই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। আজ বাবরের সঙ্গে যা ঘটছে, সেটা একই ব্যক্তিদের কারণে, যারা ওই সময় আমার কথায় সন্দেহ প্রকাশ করেছিল।”
ইউসুফের দাবি ভিত্তিহীন নয়। গত তিন বছর ধরে নিজের সেরা রূপে নেই বাবর। যে সংস্করণে তিনি বেশি সফল, সেই ওয়ানডেতে গত তিন বছরে ৪৮ ম্যাচ খেলে সেঞ্চুরি করতে পেরেছেন কেবল তিনটি। মাঝে তো লম্বা একটা সময় সেঞ্চুরি খরায় ভুগেছিলেন তিনি।
আর টেস্টে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পাঁচটি করে ম্যাচ খেলে একবারও তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পাননি বাবর। পাকিস্তানের জার্সিতে টি-টোয়েন্টিতে তিনটি সেঞ্চুরি আছে বাবরের, তবে সবগুলোই ২০২৪ সালের আগে।