Published : 22 Feb 2026, 02:46 PM
৩ ইনিংস খেলে রান ৬৬। প্রশ্ন ওঠার জন্য যথেষ্ট এই রান সংখ্যাই। কিন্তু সমস্যার গভীরতা তো আরও বেশি। বাবর আজম রানগুলি করেছেন মাত্র ১১৫.৭৮ স্ট্রাইক রেটে। টি-টোয়েন্টিতে তার ব্যাটিং দিয়ে কাজ চলবে না, এই ভাবনার পক্ষে যুক্তি কেবল ভারীই হচ্ছে সময়ের সঙ্গে। পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতারের মতে, বাবরের নিজেরই উচিত এই সংস্করণ থেকে বিদায় নেওয়া।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রান সংগ্রহের তালিকায় শীর্ষে আছেন এখন পাকস্তানেরই সাহিবজাদা ফারহান (২২০)। বাবর আছেন সেখানে তালিকার ৭৮ নম্বরে।
মজার ব্যাপার হলো, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এখনও বাবরের। তবে সাড়ে তিন হাজার রান করা ছয় ব্যাটারের মধ্যে সবচেয়ে কম স্ট্রাইক রেটও তারই (১২৮.১৮)। সময়ের সঙ্গে নিজের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংকে বিকশিত করতে না পারায় দলে জায়গাও হারিয়েছিলেন তিনি। কোচ মাইকে হেসন বলেছিলেন, বিগ ব্যাশে গিয়ে স্ট্রাইক রেটে উন্নতি দেখাতে পারলে এই ব্যাটসম্যানকে দলে ফেরানো হবে আবার।
কিন্তু তেমন কিছুর প্রয়োজন পড়েনি। পাকিস্তান ক্রিকেটের নানা বাস্তবতায় বাবর দলে ফিরেছেন। ফেরার পর এমন কিছু পারফর্ম করতে পারেননি। প্রথমবার বিগ ব্যাশ খেলতে গিয়ে বিব্রতকর স্বাদ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তবু তাকে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ দেয় পাকিস্তান। এখানেও বাবর পারেননি নিজেকে নতুন করে মেলে ধরতে।
পুরোনো চেহারার বাবরকে নিয়ে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকদের আলোচনাগুলোও সেই আগের মতোই। তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নিত্যই।
এই উচ্চকিতদের একজন শোয়েব। ‘গেম অন হ্যায়’ শোতে সাবেক ফাস্ট বোলার সম্ভাব্য দুটি সমাধান বাতলে দিলেন বাবরকে নিয়ে।
“প্রথমত, বাবরের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল, ‘এই সংস্করণ আমার জন্য নয়।’ দ্বিতীয়ত, বাবরকে যদি খেলাতেই চান, তাহলে এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন সে প্রথম ছয় ওভারে খেলতে পারে। ব্যাপারটা খুবই সিম্পল। এখানে কোনো মহাকাশ বিজ্ঞান নেই। তাকে শুরুতে খেলাতে হবে।”
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪ হাজার ৫৭১ রানের প্রায় ৩ হাজার রানই ওপেন করতে নেমে করেছেন বাবর। তিনে নেমে করেছেন ১ হাজার ৩৭২ রান। তবে বিশ্বকাপের তিন ইনিংসে ও এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে তাকে খেলানো হয়েছে চার নম্বরে। সবশেষ ম্যাচে ৫ ব্যাটার ক্রিজে গেলেও তাকে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়নি।