Published : 11 Feb 2026, 01:27 PM
উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে বিশ্বকাপ শুরুর বেশ আগে থেকেই। বৈশ্বিক আসরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের পর সেই আলোচনা পেয়েছে নতুন মাত্রা। পাকিস্তান স্পিনারের অ্যাকশন নিয়ে দুইরকম মত ভারতের সাবেক দুই ক্রিকেটার শ্রিভাৎস গোস্বামী ও রাভিচান্দ্রান অশ্বিন।
চলতি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তারিককে খেলায়নি পাকিস্তান। কলম্বোতে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেক হয় তার। চমৎকার বোলিংয়ে ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের ৩২ রানের জয়ে অবদান রাখেন এই অফ স্পিনার।
এই ম্যাচের পর তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে চলছে তুমুল চর্চা। অনেকের মনেই সংশয় তার অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে, অনেকে সরাসরিই তুলছেন চাকিংয়ের অভিযোগ। বিস্ময় আর প্রশ্ন উঠছে তার ‘পজ অ্যান্ড ডেলিভার’ অ্যাকশন নিয়ে।
বোলিংয়ের সময় স্টাম্পের কাছে এসে একটু থেমে এরপর কিছুটা সাইড-আর্ম অ্যাকশনে বল ছাড়েন তারিক। বোলিং করার সময় এভাবে থেমে যাওয়া কিছুতেই মানতে পারছেন না শ্রিভাৎস। ফুটবলের একটি নিয়মের উদাহরণ টেনে ভারতের এই কিপার-ব্যাটসম্যান নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
“এমনকি ফুটবলেও এখন আর পেনাল্টি রান-আপের সময় খেলোয়াড়দের থেমে তারপর শট নেওয়ার অনুমতি নেই। এটা কীভাবে ঠিক? (বোলিং) অ্যাকশন-সবই ঠিক আছে। কিন্তু থেমে যাওয়া? তাও ডেলিভারি করার সময়! এটা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না।”
শ্রিভাৎসের কথার জবাব দেন ভারতের তারকা স্পিনার অশ্বিন। তারিকের বোলিংয়ে কোনো সমস্যা দেখেন না ১০৬ টেস্ট, ১১৬ ওয়ানডে ও ৬৫ টি-টোয়েন্টি খেলা এই অফ স্পিনার।
“একমত যে ফুটবল এমনটার অনুমতি দেয় না! ব্যাটাররা যখন একপাশ হয়ে দাঁড়িয়ে ব্যাটিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পর সুইচ-হিট কিংবা রিভার্স খেলে, সেটাও আম্পায়ার কিংবা বোলারকে না জানিয়ে, বিধিনিষেধগুলো কেন কেবল বোলারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? এমনকি বোলাররা তো আম্পায়ারকে না জানিয়ে যে হাতে বল করছে সেটাও পরিবর্তন করতে পারে না। তাদের (নীতিনির্ধারকদের) আগে এই নিয়ম পরিবর্তন করা উচিত।”
গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন তারিক। পরে ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের শেষ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন একটি ম্যাচ।
ওই ম্যাচে তারিকের বলে আউট হয়ে একরাশ বিরক্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্যামেরুন গ্রিন। ফিরতে ফিরতে তারিকের বোলিং অ্যাকশনের অনুকরণ করতে দেখা যায় তাকে। গ্রিনের ওই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দুইবার তারিকের বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। তবে পরীক্ষায় কোনোবারই তার বোলিংয়ে সমস্যা ধরা পড়েনি।