Published : 16 Feb 2026, 04:05 PM
ব্যাটের কানায় লেগে বল গেল উইকেটের পেছনে। কিন্তু সামনে ডাইভ দিয়েও নাগাল পেলেন না কিপার, বল পড়ে গেল তার গ্লাভসের সামান্য সামনে। আজমাতউল্লাহ ওমারজাই আউট হলে ম্যাচের ফয়সালা অনেকটা হয়ে যেতে পারত সেখানেই। কিন্তু হলো উল্টো। পরের দুই ডেলিভারিতেই ছক্কা ও চার মেরে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিলেন সেই ওমারজাই। শেষের ব্যাটিং ঝড়ের আগে বল হাতেও এই অলরাউন্ডার ছিলেন দলের সেরা।
ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে রাশিদ খানের ৭০০ উইকেট প্রাপ্তির জন্য। তবে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে জেতালেন ওমারজাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টের স্বাদ পেল আফগানিস্তান।
দিল্লিতে সোমবার ১৬০ রানের পুঁজি নিয়ে লড়াই দারুণভাবে জমিয়ে তোলেন আমিরাত। কিন্তু পেরে ওঠেনি তারা ওমারজাইয়ের সঙ্গে। ১৫ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও দারুণভাবে কাজ শেষ করেন তিনি তিন ছক্কায় ২১ বলে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংসে।
আফগানিস্তানের এই জয়ে এবারের বিশ্বকাপের তৃতীয় দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার।
আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে আফগানদের রান তাড়ার শুরুটা ছিল বাজে। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাট করা রাহমানউল্লাহ গুরবাজ বিদায় নেন ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই।
তিনে নেমে গুলবাদিন নাইব (১৩) আউট হয়ে যান একটি করে চার ও ছক্কা মেরেই। সেদিকউল্লাহ আটাল (১৬) বোল্ড হয়ে যান মুহাম্মাদ জাওয়াদউল্লাহর দুর্দান্ত ডেলিভারিতে।
আরেকপ্রান্ত থেকে দলকে এগিয়ে নেন ইব্রাহিম জাদরান। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ ওপেনার এবার করেন ফিফটি। তবে এরপরই ইব্রাহিমকে (৪১ বলে ৫৩) আউট করে আমিরাতকে ম্যাচে ফেরান মুহাম্মাদ আরফান।

শেষ ৬ ওভারে ৬১ রান প্রয়োজন ছিল আফগানদের। দারভিস রাসুলি ও ওমারজাই দারুণ কয়েকটি শটে সমীকরণ নাগালে আনার চেষ্টা করেন। অষ্টাদশ ওভারে রাসুলিকে (২৩ বলে ৩৩) বোল্ড করে ম্যাচ আবার জমিয়ে দেন আমিরাতের সেরা বোলার জুনায়েদ সিদ্দিক।
শেষের আগের ওভারে টানা দুই বলে ওমারজাইকে রান নিতে দেননি জাওয়াদউল্লাহ। এর দ্বিতীয়টিতে অল্পের জন্য আউট হননি ওমারজাই। ৮ বলে প্রয়োজন তখন ১৪ রানের। পরের বলেই বিশাল এক ছক্কা মেরে দেন ওমারজাই। ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি পেয়ে যান তিনি ব্যাটের কানায় লেগে।
শেষ ওভারে আরেকটি বাউন্ডারিতে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনিই।
এই ওমারজাই দলকে সাফল্য এনে দেন ম্যাচের প্রথম ওভারেই। এর আগে অবশ্য হয়ে যায় বিস্তর নাটক।
ম্যাচের প্রথম বলেই কট বিহাইন্ডের জোরাল আবেদন করে আফগানিস্তান। আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় রিভিউ নেয় তারা। লম্বা সময় নিয়ে রিপ্লে দেখে টিভি আম্পায়ার পল রাইফেল রায় দেন, গ্লাভসে জমার আগে বল সামান্য স্পর্শ করেছে মাটি। সেই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট মনে হয়েছে আফগানদের।
ওভারের চতুর্থ বলে আবার একই ঘটনা। এবারও আম্পায়ার কট বিহাইন্ড না দেওয়ায় রিভিউ নেন আফগানরা। এবার লম্বা সময় রিপ্লে দেখে আউট দেন টিভি আম্পায়ার।
এই পরিক্রমায় প্রথম ওভার শেষ হতে লেগে যায় প্রায় ১১ মিনিট!
পরের ওভারে মুজিব উর রাহমকে দুটি চার মেরে দারুণ এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে যান আমিরাতের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক মুহাম্মাদ ওয়াসিম।
আগের ম্যাচে ফিফটি করা সোহেইব খান অবশ্য নেমেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। তার সঙ্গে আশিলান শারাফুও দারুণ খেলে সরিয়ে দেন চাপ।
তৃতীয় উইকেটে ৫৭ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়েন দুজন।

১০ ওভারে ৯৩ রান তুলে ফেলা আমিরাত তখন ১৯০-২০০ রানের স্কোরের দিকে ছুটছে।
এই জুটি ভাঙার পর সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। মুজিব শেষ স্পেলে ফিরে বিদায় করেন শারাফুকে (৩১ বলে ৪০)।
একটু পর ওমারজাই পরপর দুই বলে শিকার করেন দুটি উইকেট। পরে আউট করেন তিনি ৪৮ বলে ৬৮ রান করা সোহেইবকও।
এসবের মধ্যেই রাশিদের বলে রিভার্স সুইপের চেষ্টায় ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে মেরে বসেন আরফান। প্রথম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৭০০ উইকেট পূরণ করেন আফগান অধিনায়ক।
শেষ ১০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৬৭ রান যোগ করতে পারেন আমিরাত।
সেই পুঁজি নিয়েই লড়াই কম করেনি তারা। কিন্তু পারেনি ওমারজাইকে হারাতে।
কোনোরকমে আশা জিইয়ে রাখা আফগানরা পরের ম্যাচে কানাডার সঙ্গে লড়বে বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে। ছিটকে পড়া আমিরাত শেষ ম্যাচে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দিল্লিতে বুধবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সংযুক্ত আরব আমিরাত : ২০ ওভারে ১৬০/৯ (আরিয়ানশ ০, ওয়াসিম ১০, শারাফু ৪০, সোহেইব ৬৮, সৈয়দ হায়দার ১৩, হার্শিত ০, আরফান ০, হায়দার আলি ১৩, সিমরানজিত ৩, জুনায়েদ ৩*; ওমারজাই ৪-০-১৫-৪, মুজিব ৪-০-৩১-২, জিয়াউর ৪-০-৪৩-০, রাশিদ ৪-০-২৪-১, নুর ৩-০-৩৫-০, গুলবাদিন ১-০-৮-০)।
আফগানিস্তান : ১৯.২ ওভারে ১৬২/৫ (গুরবাজ ০, ইব্রাহিম ৫৩, গুলবাদিন ১৩, আটাল ১৬, রাসুলি ৩৩, ওমারজাই ৪০*, নাবি ৩*; জুনায়েদ ৩.২-০-২৩-২, হায়দার আলি ৪-০-৩৩-০, জাওয়াদউল্লাহ ৪-০-৩৯-১, আরফান ৪-০-৩০-২, সিমরানজিত ৪-০-৩৭-০)।
ফল: আফগানিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: আজমাতউল্লাহ ওমারজাই।