Published : 07 Mar 2026, 11:37 AM
আলোচনায় থাকতেই ভারতকে নিয়ে নানা কিছু বলছেন মোহাম্মাদ আমির, এমন মন্তব্য করেছিলেন মোহাম্মাদ কাইফ। ভারতের সাবেক এই ব্যাটসম্যানকে এবার তীব্র ভাষায় জবাব দিলেন পাকিস্তানের পেসার। কাইফের ক্যারিয়ার নিয়ে খোঁচা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বললেন, ক্রিকেটার হয়ে এরকম কথা বলা মানায় না।
এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল বাদ পড়ে গেছে সেমি-ফাইনালের আগেই। তবে আমির ঠিকই আলোচনায় আছেন তার নানা মন্তব্য ও ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে।
সুপার এইট পর্বে তিনি তিন দফায় বলেছিলেন, ভারত সেমি-ফাইনালে উঠতে পারবে না। কিন্তু শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দল। তখন আমির বলেন, সাঞ্জু স্যামসনের অসাধারণ একটি ইনিংসে ভারত উতরে গেছে। তবে তারা ফাইনালে উঠতে পারবে না। ভারত ঠিকই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে। এবার আমির বলেন, স্যামসনের ক্যাচ না পড়লে ইংল্যান্ড ম্যাচ জিতে যেত বেশ সহজেই।
এছাড়াও আভিশেক শার্মাকে ‘স্রেফ স্লগার’ বলাসহ নানা মন্তব্যে বেশ আলোচনার জন্ম দেন তিনি।
এসব প্রসঙ্গেই কাইফ তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেছিলেন, আমিরকে নিয়ে আলোচনা করা মানেই তাকে গুরুত্ব দেওয়া।
“আমির কি সত্যিই জানত না যে ভারত সেমি-ফাইনালে পৌঁছবে? অবশ্যই সে জানত যে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ঠিকই সেমিতে উঠতে। তবে সে এসব কথা বলেছে খবরে থাকার জন্য। তাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। আমাদের নেই দরকার তাদের পর্যায়ে নামার ও জবাব দেওয়ার।”
“কেন আমরা তার দিকে এত মনোযোগ দিচ্ছি? তাদের দেশে আমাদের চেয়ে এতটা পেছনে- তাদের ক্রিকেটার নেই, ভালো অধিনায়ক নেই, ভালো বোলার নেই, কিছুই নেই। তারা তাদের মতো থাকুক। তারা যা বলবে, সবকিছুর জবাব দেওয়া জরুরি নয়। তারা তো আমাদের পর্যায়ে আসতে পারবে না। তাদের সমস্যার শেষ নেই। তাদের মন্তব্য নিয়ে কথা বলা মানে তাদের গুরুত্ব দেওয়া। তারা তো এটাই চায়।”
গত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানের পরাজয়ের ম্যাচে আমিরের ভূমিকার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন কাইফ।
“২০২৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে ম্যাচে তারা হেরেছিল, এই বোলারই ছিল দায়ি। ওই ওভারে সে বাউন্ডারি দিয়েছিল মাত্র একটি, তবে অনেক ওয়াইড করেছিল। তার বল এমনকি পিচেও পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভয় পেয়ে দলকে হারিয়েছিল কোন বোলার? আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই আমার।”
কাইফের এসব মন্তব্য নিয়ে এবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আমির খোঁচা মারেন সাবেক এই ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ার নিয়ে।
“তার (কাইফ) ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে কিছু জানা নেই আমার, কত ম্যাচ সে খেলেছে…। তার পরিসংখ্যান দেখলাম, আইপিএলে মাত্র ২৯ ম্যাচ খেলেছে, স্ট্রাইক রেট ১০৩। সে বলেছে, আমি ভারতকে নিয়ে কথা বলছি নাকি নজর কাড়ার জন্য। প্রথমত, ভারতকে নিয়ে কথা বলে নজর কাড়তে হবে না আমার। জনাব কাইফ, আমি সাড়ে তিনশ টি-টোয়েন্টি খেলেছি, আমার পরিসংখ্যান পরখ করে দেখুন।”
“তার ওপর, আমি স্রেফ ফিল্ডিং দিয়ে ক্রিকেট খেলিনি। পারফম্যান্স দিয়ে খেলিনি। আপনি দাদার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। শুনেছি যে আপনাকে দলে নেওয়া হতো শুধু ফিল্ডিংয়ের কারণে। আপনি একজন ক্রিকেটার, এই ধরনের মন্তব্য মানায় না।”
‘দাদা’ বলতে আমির বুঝিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলির কথা। তিনি অধিনায়ক থাকার সময় কাইফ, ইউভরাজ সিং, হারভাজান সিংয়ের মতো তরুণ ক্রিকেটারদের পাশে থেকেছেন এবং ভারতীয় ক্রিকেটে তাদেরকে প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রেখেছেন। ইউভরাজ, হারভাজানের মতো ঝলমলে ও সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার অবশ্য হয়নি কাইফের। ভারতের হয়ে তিনি খেলেছেন ১৩ টেস্ট ও ১২৫ ওয়ানডে।
কাইফকে দলে নেওয়ার পেছনে বড় কারণ ছিল ফিল্ডিং। ভারতের সর্বকালের সেরা ফিল্ডারদের একজন মনে করা হয় তাকে।