Published : 16 Feb 2026, 11:36 AM
ভারতের কাছে আরও একবার নাস্তানাবুদ হওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তানের গোটা ক্রিকেট মহল। শোয়েব আখতারের সব ক্ষোভ গিয়ে পড়ল মহসিন নাকভির ওপর। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একহাত নিয়ে সাবেক গতি তারকা বললেন, এই লোকটিই দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করছে।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচটিই হয়েছে একদম একতরফা। পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে ৬১ রানের জয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে ভারত।
বেশ কয়েক বছর ধরেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বির লড়াইয়ের নিয়মিত চিত্র এটি। গত এশিয়া কাপের ফাইনাল বাদ দিলে লড়াই খুব একটা জমেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই নিয়ে দুই দলের ৯ লড়াইয়ের ৮টি জিতল ভারত। টি-টোয়েন্টিতে ১৭ ম্যাচে ভারতের জয় ১৪টিতেই। ওয়ানডেতেও মীমাংসা হওয়া সবশেষ ৬ ম্যাচের সবকটি জিতেছে ভারত।
মহসিন নাকভি বোর্ড প্রধান হওয়ার পর পাকিস্তান কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি ভারতের সঙ্গে। বরং নানা কারণে তিনি আলোচিত ও সমালোচিত। এবারও ম্যাচের আগের রাত ১০টায় টিম হোটেলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার বৈঠক করা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে। ম্যাচের সময় পাকিস্তান ৬ উইকেট হারানোর পরই বোর্ড প্রধান মাঠ ছেড়ে যান বলে খবর জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
ম্যাচের পর ভারতের এবিপি নিউজে কথোপকথনে শোয়েব বললেন, ক্রিকেট খেলাটি সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই নাকভির।
“দেখুন, যদি আমাকে আপনাদের চ্যানেল চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়, যদি চ্যানেলের চেয়ারম্যান বানানো হয়… একটা চ্যানেল কীভাবে চালাতে হয়, আমি এসবের কী জানি! এরকমই একজন লোক, যে কিছুই বোঝে না (ক্রিকেটের), সে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে গেছে, সে কি করতে পারে? দল কীভাবে চলবে…!”
“দুনিয়াতে সবচেয়ে বড় অপরাধ কোনটি, জানেন? সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো একজন অদক্ষ ব্যক্তিকে যখন বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়। আপনি যখন কোনো অদক্ষ ও অজ্ঞ ব্যক্তিকে বড় দায়িত্ব দেবেন, সে দেশ ধ্বংস করে দেবে। যে কোনো কিছু ধ্বংস করে দেবে। উদাহরণ তো আপনার সামনেই আছে, আপনি বিচক্ষণ…।”
শোয়েবের মতে, ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ে এখন কোনো ক্রিকেটীয় উত্তেজনা নেই, স্রেফ বাইরের আলোচনাই রয়ে গেছে। ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম বোলারের আশা, নামিবিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব উতরাবে তার দেশ।
“আপনাদের (ভারতের) ক্রিকেট অনেক এগিয়ে গেছে, আমরা অনেক পেছনেই রয়ে গেছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলতে তো কিছু নেই। এখন তো স্রেফ টিআরপির (টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট) ব্যাপার রয়ে গেছে। টিআরপি বিক্রি করো, ব্যস! মাঠে তো লড়াই কিছুই নেই।”
“আশা করি, নামিবিয়ার সঙ্গে জিতবে, সুপার এইটে উঠবে এবং এরপর অলৌকিক কোনো কিছু হবে… আমি তো পাকিস্তানের পাশে রয়ে যাব, সমর্থন করা তো ছাড়ব না।”