Published : 16 Feb 2026, 08:58 PM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা। পাকিস্তান তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের ‘সবচেয়ে অন্ধকার সময়’ পার করছে বলে মনে করছেন মোহাম্মাদ ইউসুফ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিকে ইঙ্গিত করে সাবেক এই ব্যাটসম্যান বলছেন, বোর্ড রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট আগের অবস্থায় ফিরবে না।
বিশ্বকাপের তুমুল আলোচিত ম্যাচে রোববার কলম্বোয় ভারতের সামনে পাত্তাই পায়নি পাকিস্তান। ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১১৪ রানে গুটিয়ে ম্যাচ হেরে যায় তারা ৬১ রানে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই নিয়ে দুই দলের ৯ বারের দেখায় ৮টি জিতল ভারত। টি-টোয়েন্টিতে ১৭ ম্যাচে ভারতের জয় ১৪টিতে।
৫১ বছর বয়সী ইউসুফ সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পিসিবির নেতৃত্ব ও বোর্ডে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।
“পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে রাজনৈতিক প্রভাব এবং ব্যক্তিগত এজেন্ডা সরিয়ে না নিলে, আমরা আগের অবস্থানে ফিরতে পারব না। এটি আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময় এবং এর জন্য আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। অযোগ্য ব্যক্তিদের বোর্ড ও দল থেকে সরিয়ে দিতে হবে।”
ইউসুফের এই মন্তব্য পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভিকে ইঙ্গিত করে বলে ধারণ করা হচ্ছে। নাকভি বোর্ড প্রধান হওয়ার পর পাকিস্তান কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি ভারতের সঙ্গে। বরং নানা কারণে তিনি আলোচিত ও সমালোচিত। এবারও ম্যাচের আগের রাত ১০টায় টিম হোটেলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার বৈঠক করা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে। ম্যাচের সময় পাকিস্তান ৬ উইকেট হারানোর পরই বোর্ড প্রধান মাঠ ছেড়ে যান বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
নাকভি পিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে। তার হাত থেকে ভারত ২০২৫ এশিয়া কাপের ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর, তিনি মঞ্চ থেকে ট্রফিটি সরিয়ে ফেলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়, এই ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে তুমুল বিতর্কের জন্ম দেয়। তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেও নাকভি তার অবস্থানের জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে প্রশংসা পান।
এই বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনায় বসেন নাকভি। পরে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান সরকার। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান শাহবাজ শরিফ।
অনেক টানাপোড়েন, আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পিসিবি ও বিসিবির বৈঠকের পর শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে পাকিস্তান। সমালোচকদের অনেকে মনে করছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে দীর্ঘ ‘রাজনৈতিক’ নাটকীয়তা পাকিস্তান দলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং দলের বাজে পারফরম্যান্স ও বড় হারের ক্ষেত্রে এর দায় রয়েছে।