Published : 01 Mar 2026, 01:09 AM
দলের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে করেছেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। নাম লিখিয়েছেন একগাদা রেকর্ডে। শেষ ওভারের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে দল পেয়েছে জয়। নিজে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। কিন্তু তৃপ্ত হতে পারছেন না সাহিবজাদা ফারহান। তার দল যে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে!
সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শনিবার ২১২ রানের পুঁজি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ৫ রানে হারায় পাকিস্তান। কিন্তু এই জয় কোনো কাজে আসেনি তাদের।
সেমি-ফাইনালে যেতে হলে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো পাকিস্তানের। সেটা তারা না পারায় সেমি-ফাইনালে উঠে গেছে নিউ জিল্যান্ড।
পাল্লেকেলেতে পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয় সাহিবজাদা ও ফাখার জামানের ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি এটি।
ফাখার ৪২ বলে ৮৪ করে ফিরলেও, সেঞ্চুরি করে শেষ ওভারে থামেন সাহিবজাদা। ৯ চার ও পাঁচ ছক্কায় ৬০ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৩৯ ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি ছিল না সাহিবজাদার। বিশ্বকাপে ছয় ইনিংসেই তিনি সেঞ্চুরি করলেন দুটি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে দুটি সেঞ্চুরি নেই আর কারো। বিশ্বকাপে একটির বেশি সেঞ্চুরি আছেই আর কেবল ক্রিস গেইলের। ভিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও তিনি গড়েছেন।
তবে ম্যাচ-সেরার পুরস্কার নিয়ে সাহিবজাদা বললেন, দলের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় হতাশ তিনি।
“প্রথমত, আমার বিশ্বাস ছিল যে, আমরা দল হিসেবে ভালো করব। ফাখার যেভাবে খেলছিলেন, তাতে আমার মনে হয়েছিল, তিনি যদি সেঞ্চুরি করতেন, তাহলে দলের জন্য আরও ভালো হতো। কিন্তু আমার ভাগ্যে ছিল যে, এটা আমি পাব। সত্যি বলতে, এই সেঞ্চুরি দলকে জেতাতে (সেমি-ফাইনালে যেতে) সাহায্য করেনি, তাই আমি হতাশ। ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার জন্য ভালো ছিল, কিন্তু দলের ফলাফলের জন্য ভালো ছিল না।”
ছয় ইনিংসে দুটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে ৭৬.৬০ গড় আর ১৬০.২৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৮৩ রান নিয়ে আসর শেষ করলেন সাহিবজাদা। বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটকে কৃতিত্ব দিলেন ২৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
“আমি আগেই বলেছি, অনেক অবদান আছে ঘরোয়া ক্রিকেটের। গত চার বছর ধরে আমি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি। ঘরোয়া ক্রিকেট, পিএসএলে রানের তালিকার শীর্ষে, এশিয়া কাপে তিনে ছিলাম এবং এখানেও আমি সর্বোচ্চ রান করেছি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে খেলার ফলে ভালো স্ট্রাইক রেটে শতরান করতে অভ্যস্ত হয়েছি। আমার মনে হয় এখানেও সেই ফর্ম অব্যাহত থেকেছে। পাকিস্তানের হয়ে রেকর্ড গড়া আমার জন্য খুবই আনন্দের মুহূর্ত।”