Published : 06 Mar 2026, 10:09 AM
স্রেফ একজন ক্রিকেটার নন, যেন কোনো ‘সুপারপাওয়ার।’ কিংবা রূপকথার কোনো চরিত্র। আলাদিনের চেরাগের সেই জ্বীনের মতোই, তাকে যা করতে বলা হবে, করে দেবেন নিখুঁতভাবে। জাসপ্রিত বুমরাহকে ঠিক কেমন কিছুই মনে করেন ফাফ দু প্লেসি। সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের মতে, ভারতীয় দল হয়তো ঠিকঠাক বুঝতেও পারছে না, বুমরাহর মতো একজনকে পাওয়া কতটা সৌভাগ্যের।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ডের সেমি-ফাইনালে ৪৯৯ রানের টি-টোয়েন্টিতে শেষ দিকে বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন এই পেসার। ম্যাচের ওভারপ্রতি রান যেখানে প্রায় সাড়ে ১২, সেখানে বুমরাহ রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি মাত্র ৮.২৫।
বিশেষ করে, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অষ্টাদশ ওভারে অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৬ রান দেন বুমরাহ। বিধ্বংসী ব্যাটিং করতে থাকা জেকব বেথেল ও অন্য প্রান্তে স্যাম কারান অবশ্য ওই ওভারে বড় শট খেলার চেষ্টাই করেননি। সেটিই তুলে ধরছে বুমরাহর বিশেষত্ব। তিনি এতটা ভয়ঙ্কর বলেই তার বলে ঝুঁকি না নিয়ে ওভারটি নিরাপদে পার করে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছিল।
২৫২ রানের পুঁজি নিয়েও শেষ পর্যন্ত ভারত ম্যাচ জেতে মাত্র ৭ রানে। সেখানে বুমরাহর ওই ওভার কিংবা তার চার ওভার ছিল যেন একেকটি স্বর্ণের টুকরো।
এটি অবশ্যই প্রথম নয়, বরং নিয়মিত চিত্র। গত বিশ্বকাপের ফাইনালেও শেষ সময়ে অবিশ্বাস্য বোলিং উপহার দিয়েছিলেন বুমরাহ, দক্ষিণ আফ্রিকার মুঠো থেকে ম্যাচ বের করে শিরোপা জিতেছিল ভারত। সেবার বিশ্বকাপজুড়্ অসাধারণ বোলিংয়ে টুর্নামেন্ট-সেরা হয়েছিলেন এই পেসার। তিন সংস্করণেই আরও অনেক ম্যাচে ভারতের ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি।
ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইম আউট’ অনুষ্ঠানে ফাফ দু প্লেসি তুলে ধরলেন, একজন বুমরাহ আসলে কতটা স্পেশাল।
“ভারতীয় দল হয়তো বুঝতেও পারে না, তার (বুমরাহ) মতো একজনকে পাওয়া তাদের জন্য কতটা সৌভাগ্যের। বারবার এবং দফায় দফায় এটি প্রমাণিত হয়ে আসছে। স্রেফ তার হাতে বল তুলে দিন, সে ম্যাচ জিতিয়ে দেবে। এটি একট ‘সুপারপাওয়ার’, যে কোনো অধিনায়কের স্বপ্ন যা; কোনো জ্বীন পেয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার, চেরাগ ঘষলেই বুমরাহ বেরিয়ে আসে।”
বুমরাহর ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশন নিয়ে চর্চা হয়েছে অনেক। এই ম্যাচেও তার সেই অ্যাকশন কতটা ব্যবধান গড়ে দিয়েছে, অষ্টাদশ ওভারের বোলিং দিয়ে উদাহরণ মেলে ধরলেন দু প্লেসি।
“তার শেষ ওভারটিতে তারা (ব্যাটসম্যানরা) জানত যে, ফুল লেংথ বল হবে, ইয়র্কার বা স্লোয়ার বল হবে। সাধারণত এসবই করে থাকে সে তখন। দুটি লো ফুল টস করেছিল সে, দুবারই স্যাম কারান খেলেছে দেরিতে। অন্য কোনো বোলার লেংথে এরকম গড়বড় করলেই ছক্কা হজম করতে হতো। (শিভাম) দুবে যেমন শেষ ওভারে তেমন করেছে এবং ছক্কায় তুলাধুনা হয়েছে।”
“তার অ্যাকশন এতটাই ব্যতিক্রমী যে, তার কবজি থেকে বল যতটা দ্রুত বেরিয়ে আসে, তা পড়তে ভুগতে হয়। স্কিলের ব্যাপার তো আছেই, পাশাপাশি অ্যাকশনের রহস্যও আছে, আগে যেমন ছিল লাসিথ মালিঙ্গার ক্ষেত্রে।”
বুমরাহকে ঠিকঠাক সময়ে কাজে লাগানোয় দু প্লেসি প্রশংসা করলেন ভারতীয় অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের। পাওয়ার প্লেতে একটি ওভারই করানো হয় তাকে। পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই বিদায় করেন বিপজ্জনক হ্যারি ব্রুককে। পরে একাদশ ওভার, ষোড়শ ওভার ও অষ্টাদশ ওভারে তাকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক।
দু প্লেসির মতে, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকে নিখুঁতভাবে ব্যবহার করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক।
“ইনিংসের যে কোনো সময়ই সে মহামূল্য, তবে তার সত্যিকারের ‘সুপারপাওয়ার’ বেরিয়ে আসে তখনই, যখন ইনিংসের শেষ দিকে ম্যাচের ভাগ্য সুতোয় ঝুলতে থাকে। এই ম্যাচে তাকে নিখুঁতভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। ভালো অধিনায়কত্ব, দারুণ নেতৃত্ব।”
“ব্যাপারটি যখন ছিল তাকে আক্রমণে এনে রান রেট নিচে নামিয়ে আনার এবং উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করার, তারা তাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়েছে। অধিনায়কত্ব ছিল একদম ‘স্পট-অন।”