Published : 30 Jun 2026, 07:24 PM
গোটা বিশ্বের জন্য যেমন চমক, তেমনি চমকে গিয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালামও। বেন স্টোকস অবসরের সিদ্ধান্ত জানার পর তার মন ঘোরাতে চেয়েছিলেন ইংল্যান্ড কোচ। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক নিজের সিদ্ধান্তেই অটল রয়ে যান।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের চতুর্থ দিন সকালে ড্রেসিং রুমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান স্টোকস। সেদিন বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় সেটি।
এই সিরিজের প্রথম টেস্টের পর নাইটক্লাব কাণ্ডের সময়ও তার অবসরের আলোচনা ছড়িয়েছিল। তবে সেটা ছিল মূল সার্বিক পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে। ইংল্যান্ডে ম্যানেজমেন্ট সেটি সামলে নিয়েছিল। শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে দলে ফেরেন স্টোকস। ধারণা করা হচ্ছিল, অন্তত আগামী বছরের অ্যাশেজ পর্যন্ত তিনি থাকবেন। কিন্তু বড়সড় চমকই দিলেন এই অলরাউন্ডার।
টেস্ট শেষে ‘বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল’-এ ম্যাককালাম শোনালেন স্টোকসের সঙ্গে তার কথোপকথন।
“প্রথমত, যখন সে আমাকে বলল, আমি তাকে এটা থেকে বিরত করার চেষ্টা করেছিলাম। বলেছিলাম, ‘স্লো ডাউন, স্লো ডাউন…চলো আমরা এটা নিয়ে একটু ভাবি।’ কিন্তু সে বলল, ‘নো বাজ, আই অ্যাম ডান…।’ এরপর ১০ সেকেন্ডের মতো দুজনের কেউ কোনো কথা বলিনি।”
“এরপর আমি বললাম, ‘আমার মন খারাপ লাগছে।’ সে বলল, ‘আমি জানি। তবে আমি খুশি এবং সবকিছু নিয়ে সন্তুষ্ট। তুমি তো জানোই, সময়টা হয়ে গেছে…।’ আমার কিছুটা ধারণা ছিল যে, এমনটা হতে পারে। তবে নিশ্চিত ছিলাম না, সেটা কখন হতে পারে। যখন সে কথাটা বলল, তখন ব্যাপারটা বেশ যৌক্তিকই মনে হলো।”
ম্যাককালাম জানালেন, নিজের কাছে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্টোকস এবং সেখান থেকে তাকে ফেরানোর উপায় ছিল না।
“সে মনস্থির করে ফেলেছিল এবং এটা বেশ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, সে সরে যেতে আগ্রহী। যখন বুঝতে পারলাম সে অটল, সত্যি বলতে খারাপ লাগছিল। খারাপ লাগছিল, কারণ চার বছর ধরে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করেছি এবং একসঙ্গে অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে গিয়েছি।”

“তার সঙ্গে কাজ করাটা ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। তাকে আমি ভালো বন্ধু মনে করি এবং তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই।”
স্টোকসের মতো ম্যাককালামেরও চুক্তি আগামী অ্যাশেজ পর্যন্ত। এই দুজনের কোচিং ও নেতৃত্বের ধরনও মিলে যেত দারুণভাবে। স্টোকস চলে যাওয়ার পর ম্যাককালামের ভাবনাও জানতে চাওয়া হয়। নিউ জিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক জানালেন, তার আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি এখনও।
“ইংলিশ ক্রিকেটের প্রতি আমার উৎসাহ এবং এর প্রতি আমার অঙ্গীকার কখনও টলেনি। এই দল কোন পথে এগোতে পারে, তা নিয়ে আমার বিশ্বাস দৃঢ়। আমাদের নিজস্ব একটি পরিচয় এখনও আছে, কিন্তু আমরা সেটিকে আরও সমৃদ্ধ করকে ও কাজে লাগাতে চাই, যাতে আমরা সেই দলে পরিণত হতে পারি যা আমরা হতে চাই এবং এই দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।”
“এই দেশে প্রতিভা প্রচুর।। আমাদের শুধু এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা যেন সেই সুযোগ দেওয়া অব্যাহত রাখি এবং পাশাপাশি ফলাফলও অর্জন করি।"