প্রক্রিয়া আর পরিবর্তনে চোখ রেখে সোহানদের দুবাই যাত্রা

প্রক্রিয়া ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে চান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, মাঠের ক্রিকেটে ছাপ রাখতে চান বদলে যাওয়া মানসিকতার।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Sept 2022, 09:48 AM
Updated : 22 Sept 2022, 09:48 AM

পরিবর্তনের ডাক উঠেছে বেশ কিছুদিন আগেই। কিন্তু সেই ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রমাণ খুব একটা মেলেনি পারফরম্যান্স ও মানসিকতায়। দুবাইয়ে ক্যাম্প ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সেই জায়গাগুলোতেই নিজেদের শানিত করে নিতে চান নুরুল হাসান সোহান। নিজেদের এমনভাবে তৈরি করে নিতে চান, যেন মাঠের লড়াইয়েও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন পড়ে দ্রুত। 

সোহানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের দল ঢাকা ছাড়বে বৃহস্পতিবার। দুবাইয়ে অনুশীলন ক্যাম্পের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আছে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। 

সফরের দিনই সকালে গোটা দলের ছিল ফিটনেস পরীক্ষা। এশিয়া কাপ থেকে ফেরার পর যেহেতু বিরতি ছিল, সবার ফিটনেসের অবস্থা একটু পরখ করে নেওয়া হলো যাওয়ার আগে। 

সাত-সকালে ফিটনেস পরীক্ষা শেষ করেই সোহান ছুটে যান বাসায়, সফরের আগে পরিবারের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে। পরে মেয়ের আব্দার মেটাতে তাকে নিয়ে বের হন আইসক্রিম খাওয়াতে। যেতে যেতে মেয়ের সঙ্গে খুনসুটির ফাঁকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শোনালেন আরব আমিরাত সফর নিয়ে তার ভাবনা। 

চোটের ধকল কাটিয়ে এই সফর দিয়েই আবার ফিরছেন সোহান। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়েতে চোটে পড়ার সময় তিনিই ছিলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। এবার ফিরছেনও অধিনায়ক হিসেবেই। নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান খেলছেন সিপিএলে, সহ-অধিনায়ক হিসেবে সোহানের কাঁধেই পড়েছে দায়িত্ব। 

চোটের কারণে তিনি খেলতে পারেননি এশিয়া কাপে। দেশের জার্সিতে আবার মাঠে নামতে তর সইছে না তার। 

“এত বড় ইনজুরিতে আগে পড়িনি কোনো সময়। একটা অভিজ্ঞতাও হলো। বেশ লম্বা বিরতির পর মাঠে ফিরছি যেহেতু, খুবই রোমাঞ্চিত আমি। মাঠে নেমে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে চাই।” 

চোটের থাবা এখনও অবশ্য পুরোপুরি মুছে যায়নি। আঙুল এখনও পুরোপুরি ভাঁজ করতে পারেন না। তবে ব্যাটিং ও কিপিংয়ে তাতে সমস্যা হবে না বলেই জানালেন তিনি। ব্যথাও কিছুটা আছে এবং রয়ে যাবে কিছুদিন। সেটুকু সয়েই খেলতে হবে। 

চোটে পড়ার আগে বেশ ভালো ছন্দে ছিলেন তিনি। তার কিপিং নিয়ে তো প্রশ্ন নেই কখনোই। ব্যাটিংয়েও উন্নতির ছাপ রাখতে শুরু করেছিলেন। জিম্বাবুয়েতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দলের বিপদের সময় ২৬ বলে ৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে করেন ১৬ বলে ২৫। ক্যারিবিয়ায় ওয়ানডে সিরিজের দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে করেন অপরাজিত ২০ ও অপরাজিত ৩২। 

কোনো ইনিংসই খুব বড় নয়, তবে দলের জন্য কার্যকর। ফেরার পরও সেই একই চাওয়া নিয়ে মাঠে নামবেন সোহান। 

“ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া সেভাবে নেই। অবশ্যই নিজের প্রস্তুতি নিতে চাই। দলের যেমন প্রয়োজন, সেভাবে খেলতে চাই। রান কত করলাম, এর চেয়ে জরুরি দলের প্রয়োজনের সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী কতটা অবদান রাখতে পারলাম। দলের চাওয়া মেটানোর চেষ্টা করব। তবে দলটাকে নিয়েই সবচেয়ে বড় ভাবনা।” 

নেতৃত্বে থাকায় দল নিয়ে ভাবনাটা স্বাভাবিক। তার সেই ভাবনার কেন্দ্রে আছে মানসিকতার বদল। টি-টোয়েন্টিতে ধরন ও ঘরানা বদল নিয়ে দেশের ক্রিকেটে আলোচনা চলছে বেশি কিছুদিন ধরেই। শরীরী ভাষা বদলের হাওয়া বইছে। তবে সবই আপাতত আছে স্রেফ কথায় আর ভাবনায়। দুবাই সফর থেকে সোহানের চাওয়া, মাঠেও তা করে দেখানোর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে তোলা। 

“জিম্বাবুয়েতে যখন অধিনায়ক ছিলাম, সবসময় একটা কথা বলেছি যে এনার্জি ও অ্যাপ্রোচ যেন ঠিক থাকে। এবারও সেই একই কথা থাকবে। প্রক্রিয়া ঠিক রাখার চেষ্টা করব। মাঠে যেন সবাই শতভাগ দিতে পারি।” 

“ওখানে যাওয়ার পর আরও ভালো করে বুঝতে পারব আমরা কী অবস্থায় আছি। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পরিবর্তনের ছাপ রাখাটা। আমরা তো একটা পরিবর্তন চাচ্ছি, সেটা আমরা বলে আসছি। মাঠেও তা করে দেখাতে চাই, সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে চাই। আমাদের ধরন, মানসিকতায় অনেক উন্নতির জায়গা আছে।” 

সোহানের বিশ্বাস প্রক্রিয়া ধরে রেখে প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে পরিবর্তনটা শিগগিরই ফুটে উঠবে তাদের কথায়। 

“সবাই সবার জায়গা থেকে চেষ্টা করছে। আশা করি আমরা পারব। ফলাফলের দিকে না তাকিয়ে কাজগুলো ঠিকঠাক করলে, প্রক্রিয়া ঠিক রাখলে ফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।” 

টি-টোয়েন্টি দলের টেকনিক্যাল কানসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরামের সঙ্গে এখনও সেভাবে মেশা বা কথা বলার সুযোগ হয়নি সোহানের। এবার দুবাইয়ের ক্যাম্পে সেই সুযোগ হবে। অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপে ভালো করার জন্য পরিকল্পনা সাজানোর পালাও চলবে মরুর বুকে।

যদিও অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনের বিশ্বকাপের জন্য দুবাইয়ের এই প্রস্তুতি ক্যাম্প ও সিরিজ আদৌ কতটা কাজে দেবে, সেই প্রশ্ন থাকছে। তবে এই সময়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে পারাটাকে বড় ব্যাপার মনে করছেন সোহান। 

“কন্ডিশন এক নয় দুবাই আর অস্ট্রেলিয়ায়। তবে ম্যাচ অনুশীলন সবসময়ই ভালো। ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সবসময়ই বাড়তি কিছু যোগ করে। প্রস্তুতি ক্যাম্প থাকবে, দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ থাকবে, এটা বড় সুযোগ। অবশ্যই এসব কাজে দেবে সামনে। এরপর তো নিউ জিল্যান্ড সফর আছেই। অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচও আছে। সব মিলিয়ে আশা করি প্রস্তুতি ভালো হবে আমাদের।” 

বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে স্ট্যান্ড বাই তালিকায় থাকা সৌম্য সরকার, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেনও আছেন এই সফরে। 

দুবাইয়ে আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচ দুটি রোববার ও মঙ্গলবার। দুটি ম্যাচই শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক