গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যে কারণে এত পরে বোলিংয়ে সাকিব

ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে সপ্তম বোলার হিসেবে একাদশ ওভারে আক্রমণে আনা হয় রংপুর রাইডার্সের অভিজ্ঞ স্পিনারকে, ম্যাচে মাত্র ১.৩ ওভার বোলিং করেন তিনি।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Feb 2024, 05:56 PM
Updated : 28 Feb 2024, 05:56 PM

ফরচুন বরিশালের ইনিংসের দশ ওভার শেষ। রংপুর রাইডার্সের হয়ে বোলিং করে ফেলেছেন ততক্ষণে ছয়জন। কিন্তু তখনও দেখা গেল না সাকিব আল হাসানকে! অবশেষে একাদশ ওভারে আক্রমণে এলেন তিনি। এক ওভার করেই শেষ ওই স্পেল। ১৯তম আবার যখন বল হাতে নিলেন, ম্যাচ ততক্ষণে বরিশালের হাতের মুঠোয়। 

অথচ টুর্নামেন্টে রংপুরের সর্বোচ্চ উইকেট সাকিবের। তাছাড়া উইকেট বা কন্ডিশন যেমনই হোক, তর্কসাপেক্ষে দলের সেরা বোলারও তিনি। সাকিবের এত পরে বোলিংয়ে আসা তাই বিস্ময় জাগানিয়া বটে। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ব্যাখ্যা করলেন, উইকেটে স্পিনারদের তেমন সাহায্য না থাকায় পেসারদের দিয়ে চেষ্টা করেছেন তারা। 

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুরের পুঁজি তেমন বড় ছিল না। ৭৭ রানে ৭ উইকেট হারানো দলকে ১৪৯ রানে নিয়ে যায় শামীম হোসেনের ২৪ বলে ৫৯ রানের টর্নেডো ইনিংস। ফরচুন বরিশাল ৪ উইকেট হারিয়ে ৯ বল বাকি থাকতেই টপকে যায় সেটি। 

রান আটকানোর অভিযানে ফাজালহাক ফারুকিকে দিয়ে আক্রমণ শুরু করে রংপুর। পরের ওভারে বোলিং করেন শেখ মেহেদি হাসান। এরপর টানা সাত ওভার বোলিং করেন চার পেসার ফারুকি, আবু হায়দার, জিমি নিশাম ও হাসান মাহমুদ। 

দশম ওভারে বোলিংয়ে আনা হয় মোহাম্মদ নাবিকে। এরপর আসেন সাকিব। কিন্তু এক ওভারের বেশি করেননি তিনি। দুটি চারসহ ৯ রান খরচের পর আবার সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। স্রেফ ৬ রান বাকি থাকতে ১৯তম ওভারে ফের আসেন সাকিব। তিন বলে ম্যাচ জিতে নেয় বরিশাল। তাকে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করে ডেভিড মিলার। 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে এত পরে বোলিংয়ে আনার পেছনে নিজেদের ভাবনা জানান রংপুর অধিনায়ক সোহান। 

"আজকে যে উইকেট ছিল, সিমিং অনেক বেশি হচ্ছিল। সাকিব ভাইয়ের সঙ্গেও আমার এটা নিয়ে কথা হচ্ছিল। তিনিও বলছিলেন, পাওয়ার প্লেতে আমাদের যেহেতু উইকেট দরকার ছিল, তো সিমিং উইকেটে স্পিনারদের খুব একটা সাহায্য হচ্ছিল না। এই কারণে আসলে আমাদের যে মূল ফাস্ট বোলাররা আছে, তাদের দিয়ে চেষ্টা করেছি।" 

বরিশালের জয়ের নায়ক মুশফিকুর রহিমের ভাবনা অবশ্য এখানে অন্যরকম। তার মতে, বরিশালের পরিকল্পনা সফল হওয়াতেই সাকিবকে এত পরে বোলিং করাতে বাধ্য হয়েছে রংপুর।

"(সাকিবের পরে বোলিং করা বিস্ময়কর ছিল কিনা) না, একদমই না। আমি মনে করি, আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, সেই কারণে তারা বাধ্য হয়েছে সাকিবকে ওই সময় বোলিং করাতে। গত ম্যাচে সৌম্যকে দিয়ে আমরা ওপেন করিয়েছি। আজকের ম্যাচে কিন্তু ডানহাতি-বাঁহাতি সমন্বয় রেখেছি। যেহেতু এক পাশের সীমানা ছোট, তাই আমরা এটি নিশ্চিত করেছি সবসময় যেন ডানহাতি-বাঁহাতি সমন্বয়টা থাকে।" 

"এই পরিকল্পনার কাছে কিন্তু ওরা... কারণ জানেন, যে কোনো সময় যে কোনো উইকেটে, বিশেষ করে এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাকিব খুবই মূল্যবান বোলার। আমরা যে পরিকল্পনাটা করেছি, তাতে কিছুটা হলেও সফল হয়েছি। কারণ ওদের তুলনামূলক দুর্বল বোলাররা আগে বোলিং করেছে। এতে আমাদের রান করা কিছুটা হলেও সহজ হয়েছে।"