মায়াঙ্কের গতি দেখে টেইটের কথা মনে পড়ছে ম্যাক্সওয়েলের

মায়াঙ্ক ইয়াদাভের গতিকে ‘ভয়ঙ্কর’ উল্লেখ করে ম্যাক্সওয়েল বলছেন, তার মতো এতটা গতি ক্রিকেট বিশ্বে নিয়মিত দেখা যায় না।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 April 2024, 12:55 PM
Updated : 4 April 2024, 12:55 PM

আইপিএলে গতি দিয়ে আলোড়ন তুলেছেন মায়াঙ্ক ইয়াদাভ। এই মুহূর্তে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি তার গতি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের চোখে, তরুণ এই পেসারের গতি ‘ভয়ঙ্কর।’ মায়াঙ্কের মাঝে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গতিতারকা শন টেইটের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন তিনি।

লাক্ষৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গত শনিবার আইপিএল অভিষেক হয় মায়াঙ্কের। সেদিন দুর্দান্ত এক স্পেলে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হন ২১ বছর বয়সী এই ভারতীয় পেসার।

ওই ম্যাচে তিনি নিয়মিত গতি তোলেন ১৫০ কিলোমিটারের আশেপাশে। একটি ডেলিভারির গতি ছিল ১৫৫.৮ কিলোমিটার। তখন পর্যন্ত যা চলতি আইপিএলের সবচেয়ে দ্রুততম ডেলিভারি।

পরের ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে তিনি ছাড়িয়ে যান নিজেকে। এবার তার একটি ডেলিভারিতে গতি ওঠে ১৫৬.৭ কিলোমিটার! যেটি আইপিএল ইতিহাসের চতুর্থ দ্রুততম ডেলিভারি।

এবার ৪ ওভারে স্রেফ ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ফের ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন মায়াঙ্ক। আইপিএলে নিজের প্রথম দুই ম্যাচে ম্যাচ সেরা হওয়া প্রথম ক্রিকেটার তিনিই।

বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মায়াঙ্কের ওই ৩ শিকারের একটি ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে ১৫১ কিলোমিটার গতির বাউন্সার পুল করার চেষ্টায় ক্যাচ তুলে শূন্য রানে বিদায় নেন অস্ট্রেলিয়ার বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। পরের ওভারে আরেকটি গতিময় ডেলিভারিতে আরেক অস্ট্রেলিয়ান ক্যামেরুন গ্রিনকে বোল্ড করে দেন মায়াঙ্ক।

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর একটি শো-তে ম্যাক্সওয়েল বললেন, পাঞ্জাবের বিপক্ষে মায়াঙ্কের বোলিং দেখে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামলেও কাজে আসেনি তা। 

“সে (মায়াঙ্ক) পাঞ্জাবের কয়েকজন ব্যাটারকে গতিতে বিভ্রান্ত করেছিল। তার বিপক্ষে নামার আগে কিছুটা হোমওয়ার্ক করেছিলাম। তবে কারও বল খেলার আগে হোমওয়ার্ক করে খুব একটা লাভ হয় না। আমাকে করা তার প্রথম বলটি বাউন্সার ছিল, বেঙ্গালুরুর উইকেট বেশি গতিসম্পন্ন, আমার ধারণার চেয়ে বলটি কিছুটা ধীরগতিতে এসেছিল।”

“পরের বলটি আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে দ্রুত স্কিড করেছিল এবং যেমন দেখেছেন, আমি পুল করতে গিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম আমি বলের লেংথ খুব ভালোভাবে ধরতে পেরেছি, কিন্তু ব্যাটের ওপরে দিকে লেগে বল আকাশে উঠে যায়।”

আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম ডেলিভারির (১৫৭.৭১) রেকর্ড যার, সেই টেইটের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা আছে ম্যাক্সওয়েলের। মায়াঙ্ককে দেখে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের।

“তার বাড়তি গতি আছে, যা এই মুহূর্তে বিশ্ব ক্রিকেটে খুব একটা দেখতে পাবেন না। এখন দেখা যায়, ছেলেরা ১৪০ কিলোমিটার বা এর কিছু বেশি গতিতে ধারাবাহিকভাবে বোলিং করছে। কিন্তু আপনার অস্ত্রভাণ্ডারে ধারাবাহিকভাবে ১৫০ বা এর বেশি গতিতে বল করতে পারা একজন থাকা ভয়ানক ব্যাপার।”

“সুন্দর মসৃণ অ্যাকশন তার। আমি মনে করি, গতির দিক থেকে একমাত্র যার সঙ্গে তার সাদৃশ্য দেখতে পারি, সে হলো শন টেইট, সে যখন তার সেরা সময়ে ছিল।”

চলতি আইপিএলে দলের মতো ম্যাক্সওয়েলের নিজের শুরুটাও ভালো হয়নি। প্রথম চার ম্যাচের তিনটিই হেরেছে বেঙ্গালুরু। চার ম্যাচে ম্যাক্সওয়েলের রান ০, ৩, ২৮, ০। তার মতে, বেঙ্গালুরুর উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ভুগছেন দলের বিদেশি ক্রিকেটাররা।