Published : 01 Jan 2024, 05:22 PM
টি-টোয়েন্টি লিগকে ‘গুরুত্ব দিয়ে’ নিউ জিল্যান্ডে টেস্ট সিরিজের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় সারির দল দেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্টিভ ওয়াহ। টেস্ট ক্রিকেটের এমন অবস্থায় আইসিসি ও শীর্ষ ক্রিকেট বোর্ডগুলোর ‘কিছু যায়-আসে না’ বলে মন্তব্য করেছেন এই অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট।
আগামী ৪ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিউ জিল্যান্ডে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় হবে এসএটোয়েন্টির দ্বিতীয় আসর।
ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় নিউ জিল্যান্ড সফরে প্রথম পছন্দের বেশিরভাগ খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের জন্য কদিন আগে ঘোষিত ১৪ সদস্যের দলের কেবল সাত জনের আছে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা। কখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না খেলা নিল ব্রান্ডকে করা হয়েছে অধিনায়ক।
ওই স্কোয়াডের সদস্যদের একটি ছবি রোববার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ওয়াহ।
“এটিই কি টেস্ট ক্রিকেটের শেষের শুরু? আইসিসির পাশাপাশি ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের অবশ্যই খেলাটির বিশুদ্ধতম এই সংস্করণ রক্ষায় এগিয়ে আসা উচিত। সকল টেস্ট খেলোয়াড়ের সমান ম্যাচ ফি একটি ভালো পদক্ষেপ হতে পারে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবশ্যই মূল্য আছে। আমরা যদি শুধু লভ্যাংশকেই মানদণ্ড ধরে নিই, তাহলে (ডন) ব্র্যাডম্যান, (ডব্লিউজি) গ্রেস, (গ্যারি) সোবার্সের লেগ্যাসি মূল্যহীন হয়ে পড়বে।”
পরে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট প্রশাসকদের এক হাত নেন ওয়াহ। বলেন “তারা পাত্তাই দেয় না।”
এমনটা চলতে থাকলে বক্সিং ডে টেস্টের মতো ক্রিকেটের বড় ইভেন্টগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাবে বলে মনে করেন ওয়াহ।
“দক্ষিণ আফ্রিকান বোর্ডের নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের দেশে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যদি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত হয়, তাহলে এমনই ঘটবে। আমি যদি নিউ জিল্যান্ড হতাম, তাহলে এই সিরিজ খেলতাম না। তারা কেন খেলছে, সেটাই আমি বুঝতে পারছি না। নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রতি সম্মানের ঘাটতি পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, তাহলে কেন খেলছেন?”
ওয়াহ তুলে ধরেছেন পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অস্ট্রেলিয়া সফরের কথাও। ফাস্ট বোলার হারিস রউফকে ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলছে পাকিস্তান। এরপর সেখানে টেস্ট খেলবে ক্যারিবিয়ানরা, যাদের দলে আছেন টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ৭ ক্রিকেটার।
“সমস্যাটা কী, তা স্পষ্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের পূর্ণ শক্তির দল পাঠাচ্ছে না। কয়েক বছর ধরেই তারা পূর্ণ শক্তির টেস্ট দল নির্বাচন করছে না। নিকোলাস পুরানের মতো একজন সত্যিকারের টেস্ট ব্যাটসম্যান টেস্ট ক্রিকেট খেলে না। জেসন হোল্ডার, হয়তো তাদের সেরা খেলোয়াড়, সেও এখন খেলছে না। এমনকি পাকিস্তানও পূর্ণাঙ্গ দল পাঠায়নি।”
“যদি আইসিসি বা কেউ দ্রুত এগিয়ে না আসে, তাহলে টেস্ট ক্রিকেট আর টেস্ট ক্রিকেট থাকবে না। কারণ, আপনি সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে নিজেকে পরীক্ষা করছেন না।”
টেস্ট ক্রিকেটে সবার জন্য সমান ম্যাচ ফি নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন ওয়াহ।
“আমি বুঝি, কেন খেলোয়াড়রা আসছে না। তারা ঠিকমতো অর্থ পাচ্ছে না। আমি বুঝি না, আইসিসি বা শীর্ষ দেশগুলো যারা অনেক আয় করছে, তারা কেন টেস্ট ম্যাচের জন্য একটা ম্যাচ ফি নির্ধারণ করে দেয় না, যে পরিমাণটা হবে ভালো। যাতে সবাই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত হয়। অন্যথায় তারা শুধু টি-টেন বা টি-টোয়েন্টি খেলবে। এতে দর্শক ভুগবে, কারণ পূর্ণাঙ্গ দল না খেললে এটি টেস্ট ক্রিকেট নয়।”