বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে অবসরে ক্যারিবিয়ান তারকা

দলীয় আবহে মানিয়ে নিতে না পারার কথা বলে আচমকা অবসরে ডটিন।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 August 2022, 06:08 AM
Updated : 1 August 2022, 06:08 AM

বয়স মোটে ৩১। নিজ দলের তো বটেই, মেয়েদের ক্রিকেটে বিশ্ব সেরাদের একজন তিনি। সেই ডিয়েন্ড্রা ডটিন আচমকাই ঘোষণা দিলেন অবসরের। তার সিন্ধান্তের পেছনে কারণও চমকপ্রদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার টুইটারে জানালেন, এখনকার দলীয় সংস্কৃতি ও আবহে নিজের সেরাটা দিতে পারছেন না তিনি।

ডটিন এখন বারবাডোজের হয়ে খেলছেন বার্মিংহামে কমনওয়েলথ গেমসের মেয়েদের ক্রিকেটে। সেখান থেকেই রোববার নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। তার এই অবসর শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল থেকে। বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগগুলোয় তিনি খেলে যাবেন।

এই মাসেই প্রথম মেয়েদের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা তার। তবে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের তত্ত্বাবধানে এই টুর্নামেন্টে তিনি খেলবেন কিনা, তা পরিষ্কার নয়।

অবসরের পেছনের কারণ তুলে ধরে টুইটারে তার বক্তব্যে মিশে থাকল অভিমান আর ক্ষোভের ছোঁয়া।

“আমার ক্যারিয়ারে অনেক প্রতিবন্ধতা এসেছে এবং তা জয় করেছি। তবে এখনকার আবহ ও দলীয় পরিবেশ আমার নিজেকে এগিয়ে নেওয়া ও প্যাশনকে পুনরুজ্জীবিত করার জন‍্য সহায়ক নয়। আমাকে যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটির জন্য আমি কতৃজ্ঞ এবং লম্বা সময় ধরে ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও এই অঞ্চলের হয়ে খেলা আমার জন্য ছিল সম্মানের।”

“১৪ বছরের ক্যারিয়ারে আমি সেরাটা দিয়ে নিজেকে তৈরি করেছি এবং শারীরিক, মানসিক ও আবেগের দিক থেকে বেড়ে উঠেছি। এই বেড়ে উঠতে পারাই আমাকে এখন সহায়তা করেছে নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি বেছে নিতে। আক্ষেপ যদিও নেই, তবে অনেক দুঃখ নিয়ে অনুভব করছি, দলীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতি আমি আর অনুগত থাকতে পারছি না, কারণ এটা আমার সর্বোচ্চ পারফর্ম করার ক্ষমতাকে খাটো করছে।”

২০০৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অভিষেক ডটিনের। তবে বিশ্ব ক্রিকেটে তিনি প্রথম সাড়া ফেলেন ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৫ বলে ১১২ রানের বিম্ফোরক ইনিংসের পথে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৩৮ বলে। ছেলে-মেয়ে মিলিয়েই তখন তা ছিল টি-টোয়েন্টির দ্রুততম সেঞ্চুরি।

মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনও ৪৫ বলের নিচে সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটার তিনিই। সময়ের পরিক্রমায় তিনি হয়ে ওঠেন দলের মহীরূহ ও মেয়েদের ক্রিকেটে বিশ্বের বড় তারকা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার তিনি, খেলেছেন ১৪৩ ওয়ানডে ও ১২৪ টি-টোয়েন্টি। ওয়ানডেতে রান করেছেন ৩ হাজার ৭২৭, দেশের হয়ে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টি-টোয়েন্টিতে তার রান ২ হাজার ৬৯৭। এখানেও তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সেরা, বিশ্ব ক্রিকেটের চতুর্থ সেরা।

বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ওয়ানডেতে ৭২টি, টেস্ট ৬২টি। চোটের কারণে অবশ্য বেশ কিছুদিন বোলিং থেকে দূরে থাকতে হয়েছে তাকে। গত মার্চে বিশ্বকাপে তবু তিনি ছিলেন বল হাতে দলের জয়ের নায়ক। শেষ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল স্রেফ ৬ রান। কিন্তু প্রায় ৬ মাস পর বল হাতে নিয়ে ওই ওভারটিতে স্রেফ ২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে দলকে জেতান ডটিন।

বিশ্বকাপের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আর মাঠে নামেননি তিনি। সিদ্ধান্ত না বদলালে, ওই মেরুন জার্সিতে মাঠে নামাও হবে না আর।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক