Published : 08 May 2023, 09:46 AM
ব্যর্থতার আর সাফল্যের ব্যবধান মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার! সন্দিপ শর্মা আর আব্দুল সামাদ যেমন উপলব্ধি করতে পারলেন। বুঝতে পারল তাদের দলও। যেটি হওয়ার কথা আউট, সেটিই হয়ে গেল ‘নো’ বল। জয়ের উল্লাস করতে থাকা রাজস্থান রয়্যালস কয়েক মুহূর্ত পরই ডুবে গেল পরাজয়ের হতাশায়। আউট হয়ে যিনি হতাশায় নুইয়ে পড়েছিলেন, পরমুহূর্তেই তিনি দলের অবিশ্বাস্য জয়ের নায়ক। মহানাটকীয় সব উপাখ্যানের পর শেষের নায়ক সামাদ বললেন, ভাগ্যটা পক্ষে ছিল তাদের।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ও আইপিএলে নাটকীয় ম্যাচ দেখা যায় হরহামেশাই। তবে এই ম্যাচের চিত্রনাট্য ছুঁয়ে ফেলল যেন রোমাঞ্চের সর্বোচ্চ চূড়া। ১ বলে যখন প্রয়োজন ৫ রান, সন্দিপ শর্মার ফুল লেংথ বল উড়িয়ে লং অফে ধরা পড়লেন সামাদ। রাজস্থান রয়্যালস শুরু করল জয় উদযাপন। তবে ভয়াল এক শব্দে তা থেমে গেল পরমুহূর্তেই। বেজে উঠল ‘নো’ বলের সাইরেন!
সেই সাইরেনেই যেন বিজয়ের বার্তা পেলেন সামাদ। রান নিতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত নিলেন না, ফিরিয়ে দিলেন উইকেটে সঙ্গী মার্কো ইয়ানসেনকে। স্ট্রাইক ধরে রাখলেন নিজে। ১ বলে প্রয়োজন তখন ৪ রান।
রাউন্ড দা উইকেট বোলিংয়ে সন্দিপ আবার ইয়র্কারের চেষ্টা করলেন। কিন্তু সামান্য একটুর জন্য গড়বড়। সেই ফুল লেংথ বলকে সোজা ব্যাটে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করলেন সামাদ। স্মরণীয় জয়ে বাঁধনহারা উল্লাসে মেতে উঠল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

জয়পুরে রোববার জস বাটলারের ৫৯ বলে ৯৫ ও সাঞ্জু স্যামসনের ৩৮ বলে ৬৬ রানের ইনিংসে এই মাঠের রেকর্ড ২১৪ রান তোলে রাজস্থান। হায়দরাবাদ ৪ উইকেটে জিতে যায় সেই পাহাড় টপকে। ওপেনিংয়ে ৩৪ বলে ৫৫ করে অভিষেক শর্মা, তিনে নেমে ২৯ বলে ৪৭ রাহুল ত্রিপাঠি। হাইনরিখ ক্লসেনের ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ২৬। শেষ দিকে গ্লেন ফিলিপস করেন ৭ বলে ২৫, সামাদ অপরাজিত থাকেন ৭ বলে ১৭ রান করে।
২১ বছর বয়সী সামাদ ম্যাচ শেষে বললেন, ‘নো’ বলের সঙ্কেত পেয়েই নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল তার মনে।
“আমি অপেক্ষায় ছিলাম, বল যেন স্লটে পাই। শেষ পর্যন্ত তা পেয়ে যাই এবং সৌভাগ্যবশত ‘নো বলও পেয়ে যাই। আজকে ভাগ্যটা ভালো ছিল আমার।”
“(শেষ বলে) শট খেলার পর যখন ক্রিজ পেরিয়ে যাই, আম্পায়ার তখন ‘নো’ বলের সঙ্কেত দেন। আমি তখন মার্কোকে (ইয়ানসেন) বলি ফিরে আসতে। আম্পায়ার জানান যে, কেবল একটি রানই দেওয়া হবে (‘নো’ বল থেকে)। আমি অপেক্ষায় ছিলাম, ঠিক জায়গায় বল পাওয়ার জন্য, ব্যস। সেটিই হলো, বল জায়গা মতো পেলাম, শট খেলাম এবং কাজে লেগে গেল।”
শেষের নায়ক সামাদ হলেও স্রেফ ৭ বল খেলেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান গ্লেন ফিলিপস। মৌসুমে স্রেফ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা ব্যাটসম্যানের ২৫ রানের ছোট্ট ঝড়ই যে বদলে দেয় ম্যাচের মোড়!
শেষ ২ ওভারে যখন প্রয়োজন ৪১ রান, প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখান ফিলিপসই। বাঁহাতি পেসার কুলদিপ যাদবের টানা তিন বলে ছক্কা মারেন ফিলিপস, পরের বলে মারেন চার। এরপর আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় আউট হয়ে যান। তবে সামাদকে তিনিই পথটা দেখিয়ে যান।
ম্যাচ শেষে সামাদ জয়ের বড় কৃতিত্ব দিলেন ফিলিপসকেই।
“আমি যখন উইকেটে যাই, পরিস্থিতি আমাদের জন্য সহজ ছিল না। আমরা আজকে অবিশ্বাস্য খেলেছি। বিশেষ করে ফিলিপস আমাদেরকে জাগিয়ে তুলেছে। আমাদের জন্য সে ছিল গেম চেঞ্জার।’
ফিলিপস বললেন, উইকেটে যাওয়ার পর কেবল শট খেলারই চিন্তা ছিল তার। সৌভাগ্যের কথা বললেন তিনিও।
“পরিস্থিতিটাই এমন ছিল যে স্রেফ একটা পথই বেছে নিতে হতো। সৌভাগ্যবশত আজকে কাজে লেগেছে। আমি যা করেছি, ওই সময় দলের এটাই প্রয়োজন ছিল। অন্য কোনো দিন হয়তো এটা চেষ্টা করতে গেলে কাজে নাও লাগতে পারে। আজকে এটা কাজে লাগতে দেখে দারুণ খেলেছে। খুব মজা পেয়েছি ও উপভোগ করেছি।”
“যে শটে আউট হয়েছি, সেটিও মারার মতোই ছিল। সীমানা পার করা উচিত ছিল আমার। স্লটে পেয়েও মারতে না পেরে হতাশ ছিলাম। তবে সামাদ দারুণভাবে কাজ শেষ করেছে। ‘নো’ বল পেয়ে ভাগ্যও কিছুটা পক্ষে পাই আমরা।”
রাজস্থান অধিনায়ক স্যামসন ম্যাচ শেষে বললেন, ‘নো’ বলেই তাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।
“সন্দিপকে নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম (শেষ ওভারে)। সে আগেও প্রায় একই পরিস্থিতিতে আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে। আজকেও সে কাজ করে ফেলেছিল, কিন্তু ‘নো’ বল সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে।”
“ব্যাপারটি হলো, ‘নো’ বলের পর ডেলিভারিটি আবার ঠিকঠাক করতে হবে, এই তো। খুব বেশি ভাবার কিছু নেই এখানে। সন্দিপও জানে কী করতে হবে। তবে যেটা হলো, কয়েক সেকেন্ডের জন্য মানসিকতায় ছোট্ট পরিবর্তন যে, ‘কাজ শেষ হয়ে গেছে’, ওখানেই ঝামেলাটা হয়ে গেছে। সবাই উদযাপন শুরু করেছিল। তবে এটাই খেলাটির ধরন।”