অলৌকিক কিছু ছাড়া এখন আর আশা দেখছে না আফগানিস্তান
অতি নাটকীয় কিছু না হলে মিরপুর টেস্টে যে ফেরার সম্ভাবনা নেই, তা মেনেই নিয়েছেন আফগানিস্তান কোচ জোনাথন ট্রট।
পরিস্থিতি যত বিরুদ্ধই হোক, আশা দেখানোই কোচদের দায়িত্ব। জোনাথন ট্রটও তাই কিছু সম্ভাবনার কথা বললেন। তবে বাস্তবতা যে আসলে কতটা কঠিন, তার তো আর অজানা নয়। আফগানিস্তান কোচ তাই এটাও অকপটে স্বীকার করে নিলেন, অতি নাটকীয় কিছু না হলে এই টেস্টে তাদের আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে দুই ইনিংস মিলিয়ে আফগানিস্তান পিছিয়ে ৩৭০ রানে। উইকেটের যা অবস্থা, তাতে লক্ষ্য বলা যায় এখনই ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাকি এখনও ৯ উইকেট। এই লিডের পাহাড় তাই ক্রমেই আরও উঁচুতে নেবে বাংলাদেশ।
শেষ সেশনে জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর দারুণ ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আফগানদের আলগা বোলিং মিলিয়ে জুটি হয়েছে শতরানের। তবে উইকেট আদতে ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ কঠিন। তৃতীয়-চতুর্থ দিনে আরও চ্যালেঞ্জিং হওয়ার কথা। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের সামনে আশার আলো বলতে কিছু নেই।
দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তার কথা বললেন ট্রট। তবে তার নিজেরও যে তাতে ভরসা খুব একটা নেই, পরিষ্কার হলো তার কথাতেই।
“অবশ্যই কাজটি হবে কঠিন। বিশেষ করে পিচের যা অবস্থা, আরও কঠিন হবে কাজ। আমাদের স্রেফ লড়াই করতে হবে আরেকটু ভালো কিছু করতে এবং কিছুটা সম্মানের জন্য খেলতে ও নিজেদের মানসিকতা মেরে ধরতে।”
“কাজটি অবশ্যই কঠিন হবে। কালকে সকালে আমাদের অনেক ভালো বোলিং করতে হবে। এরপর ব্যাটিংয়ে অসাধারণ কিছু করতে হবে। সবকিছুই তো সম্ভব, ক্রিকেটে কত নাটকীয় কিছুই তো আমরা দেখেছি। তবে নিজেদের সামর্থ্যকে ছাপিয়ে যেতে হবে আমাদের।”
অথচ দিনের শুরুটা আফগানিস্তানের জন্য ছিল আশা জাগানিয়া। ৫ উইকেটে ৩৬২ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ যোগ করতে পারে আর স্রেফ ২০ রান। নিজাত মাসুদ ও ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের দারুণ বোলিংয়ে ৯ রানের মধ্যে পতন হয় শেষ ৫ উইকেটের। তবে এরপর ব্যর্থ হন তাদের ব্যাটসম্যানরা। দিনের শেষ ভাগে জাকির হাসান ও নাজমুল হাসানের সামনে ভালো বোলিং করতে পারেননি বোলাররাও। সেই হতাশাই ফুটে উঠল কোচের কণ্ঠে।
“আজকে সকালে আমরা বেশ ভালো বোলিং করেছি। ২০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছি। উইকেটও সহায়তা করেছে। তবে দিনের শেষভাগে বোলিং খুব ভালো করিনি। এজন্যই বাংলাদেশ এখন শক্ত অবস্থানে।”
ব্যাটিংয়ের দুর্দশায় অবশ্য খুব অবাক নন ট্রট। ২৭ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমেছে আফগানিস্তান। দলের বেশ কজন ক্রিকেটার প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন না অনেক দিন ধরেই। ইংল্যান্ডের হয়ে ৫২ টেস্ট খেলা সাবেক ব্যাটসম্যানের মতে, অনভ্যস্ততার ছাপই পড়েছে আফগানদের ব্যাটিংয়ে।
“কিছু আলগা শট… ম্যাচ সচেতনতার অভাব… এবং দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট ম্যাচ বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট না খেলার যে জড়তা, সব মিলিয়ে হয়েছে অমন। কোনো প্রস্তুতি ম্যাচও ছিল না। শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে সিরিজ খেলে সরাসরি এখানে এসেছি। সেখানে যারা খেলেছে, তাদের মধ্যে বেশ কজন এই সিরিজে আছে। তারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে না অনেক দিন ধরে।”
এটিকে অবশ্য অজুহাত দিতে চান না কোচ। বরং দলকে বললেন এখান থেকে শিখতে।
“কোনো অজুহাত অবশ্য দিচ্ছি না। বাংলাদেশ অবশ্যই ভালো খেলেছে। আমাদের আরও ভালো করা উচিত ছিল। তবে আমাদের জন্য এটা ভালো একটি অভিজ্ঞতা ও কঠিন একটি শিক্ষা। আশা করি, ছেলেরা এই অভিজ্ঞতা থেকে লাভবান হবে।”
