দিন শেষে ‘আক্ষেপটাই বড়’ জয়ের কাছে

দলীয় স্কোর তিনশ পেরোনোর সন্তুষ্টি থাকলেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারার আক্ষেপ মাহমুদুল হাসান জয়ের।

শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদশাহাদাৎ আহমেদ সাহাদসিলেট থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Nov 2023, 01:44 PM
Updated : 28 Nov 2023, 01:44 PM

ইশ সোধির হালকা ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি সামনের পা বাড়িয়ে বেশ জোরের সঙ্গে ডিফেন্স করতে চাইলেন মাহমুদুল হাসান জয়। টার্ন করে ব্যাটের বাইরের কানা ছুঁয়ে বল জমা পড়ল স্লিপে থাকা ড্যারিল মিচেলের হাতে। হতাশা আর আক্ষেপে যেন ক্রিজে জমে গেলেন জয়। ড্রেসিং রুমে ফেরার পথটা যেন তখন তার কাছে অনেক  দূরের পথ!

জয়ের সামনে ছিল সেঞ্চুরির হাতছানি। তার আগে আউট হওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হকরাও উইকেটে জমে গিয়েছিলেন। বড় ইনিংস খেলার সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তারাও। কিন্তু হয়নি কোনোটিই। অন্য ব্যাটসম্যানরাও দুই অঙ্ক ছুঁয়ে ফিরে যান ইনিংস বড় করার আগেই। সম্মিলিত অবদানে প্রথম দিন তিনশ পেরোলেও ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপটাই বড় জয়ের কাছে। 

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ম্যাচের প্রথম দিনের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য তেমন কঠিন ছিল না। নতুন বলে নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের কয়েকটি ডেলিভারি টার্ন করলেও সেগুলোয় কোনো বিষ ছিল না। বলের বাউন্স অসমান ছিল না খুব একটা। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে টার্নও কমতে থাকে। বল পুরোনো হওয়ার পর তীক্ষ্ন টার্ন দেখা যায়নি তেমন একটা। 

এমন উইকেটে বাংলাদেশের ১১ ব্যাটসম্যানের দশজন দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন। কিন্তু পঞ্চাশ করেছেন শুধু একজন। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে জয় আউট হয়েছেন ৮৬ রানে। ত্রিশ পেরিয়ে শান্ত-মুমিনুল দুজনই খেলেছেন ৩৭ রানের ইনিংস। মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহানরাও ডুবিয়েছেন হতাশায়।

তবে কেউই তেমন ভালো কোনো ডেলিভারিতে আউট হননি। প্রায় সবাই ফেরেন আলগা শট খেলে। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাই জয়ের কাছে বারবার শোনা গেল আক্ষেপের কথা।

“অবশ্যই (আক্ষেপের জায়গাই বড়)…। আমার ইনিংস বড় করার সুযোগ ছিল। কিন্তু আমি দূর্ভাগ্যবশত মিস করে ফেলেছি। একজন ওপেনার হিসেবে আমার প্রতিদিন এমন সুযোগ আসে না... সেট হওয়ার, বড় স্কোর করার। আজকে এসেছিল, মিস হয়ে গেছে।” 

“(সেঞ্চুরি না হওয়ার আক্ষেপ) অবশ্যই আছে। দেখেন যেটা বললাম, ওপেনার হিসেবে আমার প্রতিদিন সুযোগ আসে না এমনভাবে সেট হওয়ার। একটা ইনিংসে আমি মিস করে ফেলেছি। চেষ্টা করব যে সামনে আরও ভালো করার।”

এজাজ প্যাটেলের বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণের পথে হেঁটে সফল হওয়া শান্ত আউট হন গ্লেন ফিলিপসের লোপ্পা এক ফুল টসে ছক্কা মারতে গিয়ে। অথচ এর আগে নিউ জিল্যান্ডের মূল স্পিনার এজাজকে তিন ছক্কার সঙ্গে একাধিক বাউন্ডারিও মারেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।

শান্তর মতোই আলগা শটে উইকেট বিলিয়ে আসেন মুশফিকুর রহিম। এজাজের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে লং অফ দিয়ে খেলার চেষ্টায় তিনি ক্যাচ তুলে দেন মিড অফে থাকা কেন উইলিয়ামসনের হাতে। তার বিদায়েই মূলত বড় ধাক্কা লাগে বাংলাদেশের ইনিংসে।

হতাশাটুকু স্বীকার করেই সতীর্থদের কিছুটা আড়াল করতে চাইলেন জয়।

“হতাশা তো থাকবেই। একটা ব্যাটসম্যান কিন্তু সব সময় সেট হওয়ার সুযোগ পায় না। যখনই সেট হয়, কেউ যদি ৩০-৪০ করে আউট হয়ে যায়, তখন সবাই একটু হতাশ থাকে। হতে পারে এমন একটা দিন... সবাই তো আর সবদিন রান করবে না। একটা দিন আউট হতেই পারে।”

“সবাই মোটামুটি ভালো শুরু করেছে কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারেনি। এটা আমাদের জন্য আক্ষেপের ব্যাপার। আরেকটা ব্যাপার হলো, আমাদের স্কোরবোর্ডে ৩০০ রান আছে। তো এখন আমরা একটা ভালো অবস্থানে আছি।” 

শেষ দিকে নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটিংয়েও দেখা যায় আগ্রাসী ধরন। তার খেলার ধরন দেখে মনে হতেই পারে, উইকেটে টিকে থাকা ছিল খুবই কঠিন। তাই দ্রুত যতটা সম্ভব রান করতে চাইছেন বাংলাদেশের কিপার-ব্যাটসম্যান। এই প্রচেষ্টায় লেগ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে কট বিহাইন্ড হন তিনি। 

দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা জয়ের মতে, ব্যাটিংয়ের এই ধরন মূলত ব্যাটসম্যানদের নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ।

“(টিকে থাকা) তেমন কঠিন নয়। যদি নিজের ডিফেন্সের ওপর বিশ্বাস করেন, তাহলে সহজ। এখন একেক জনের খেলার পরিকল্পনা একেকরকম। শান্ত ভাই তার স্বাভাবিক খেলায় ছিলেন, আমি আমার স্বাভাবিকে ছিলাম, সোহান ভাই তার নিজের স্বাভাবিকে ছিলেন। তো একেক জনের খেলার পরিকল্পনা একেক রকম।”