১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘কঠোর সিদ্ধান্ত’, আইপিএলে বিতর্কিত ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউট নিয়ে শেবাগ

ওভাবে আউট হয়ে ‘আক্রমণাত্মক’ প্রতিক্রিয়া দেখানোয় শাস্তি পেয়েছেন কলকাতার ব্যাটসম্যান আঙ্করিশ রাঘুভানশি।

‘কঠোর সিদ্ধান্ত’, আইপিএলে বিতর্কিত ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউট নিয়ে শেবাগ
আলোচিত সেই ঘটনাটি। ছবি: স্ক্রিনশট

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Apr 2026, 08:52 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:30 PM

লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যাটসম্যান আঙ্করিশ রাঘুভানশির বিতর্কিত ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। তৃতীয় আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন ভারতের সাবেক দুই ব্যাটসম্যান ভিরেন্দার শেবাগ ও রোহান গাভাস্কার।

লখনৌতে রোববার কলকাতার ইনিংসের পঞ্চম ওভারের ঘটনা এটি। পেসার প্রিন্স ইয়াদাভের লেংথ ডেলিভারি মিড-অনের দিকে খেলে রানের জন্য দৌড় শুরু করেন রাঘুভানশি। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে দেন অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যান ক্যামেরন গ্রিন। প্রায় মাঝপথে চলে আসা রাঘুভানশি উল্টো ঘুরে ফেরার চেষ্টায় যখন ডাইভ দেন, মিড-অন থেকে মোহাম্মাদ শামির থ্রোয়ে বল লাগে ব্যাটসম্যানের পায়ে, তখনও তিনি ক্রিজে পৌঁছাননি। ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউটের আবেদন করেন লাক্ষ্নৌর ফিল্ডাররা। তাদের আবেদন যদিও খুব একটা জোরাল ছিল না। সিদ্ধান্ত পাঠানো হয় তৃতীয় আম্পায়ার রোহান পান্ডিতের কাছে।

একাধিকবার রিপ্লে দেখে ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার জন্য রাঘুভানশিকে আউট দেওয়া হয়। তৃতীয় আম্পায়ার এই সিধান্তে উপনীত হন যে, রাঘুভানশি ফেরার সময় তার দৌড়ের দিক ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ পরিবর্তন করেছিলেন।

আইপিএলের প্লেয়িং কন্ডিশনের ৩৭.১.৪ ধারায় বলা হয়েছে, “সন্দেহ নিরসনের জন্য, যদি আম্পায়ার মনে করেন যে, কোনো ব্যাটসম্যান উইকেটের মাঝে দৌড়ানোর সময় যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই তার দৌড়ের দিক উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছেন এবং এর মাধ্যমে কোনো ফিল্ডারের রান আউট করার চেষ্টায় বাধা দিয়েছেন, তাহলে আবেদনের ভিত্তিতে, ব্যাটসম্যানকে ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউট দেওয়া যাবে। রান আউট হতো কি না, সেটা এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হবে না।”

৩৭.২ ধারায় আরও বলা হয়েছে, “কোনো ব্যাটসম্যান ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউট হবেন না, যদি বাধা দেওয়া বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটানোটা অনিচ্ছাকৃত হয়, অথবা আঘাত এড়ানোর জন্য বাধা দেওয়া হয়…।”

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ-এর এক আলোচনায় কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনিল গাভাস্কারের ছেলে রোহান বলেন, রাঘুভানশির দৃষ্টি বলের দিকে ছিল না এবং সেই কারণে তাকে আউট দেওয়া উচিত হয়নি।

“সে যেভাবে ঘুরেছিল, ডাইভ দিয়েছিল এবং লাফিয়েছিল, সে কারণে আমি মনে করি, এটা আউট নয়। তার চোখ বলের দিকে ছিল না…বলটা থামানো তার উদ্দেশ্য ছিল না। যদি সে বল থামাতে চাইত, তাহলে সে এক জায়গায় স্থির থাকত, কারণ সে ততক্ষণে থ্রোয়ের লাইনে ছিল। বলটা তার শরীরে লাগত। কিন্তু যখন সে ডাইভ দেয়, তখন বোঝা যায় যে, এটা ছিল অনিচ্ছাকৃত। তাই আমার মতে, এটা আউট নয়।”

রোহানের সঙ্গে একমত পোষণ করেন শেবাগও। সাবেক এই ওপেনারের মতে, ডাইভ দেওয়াটাও যুক্তিসঙ্গত ছিল।

“বল যখন যে ফিল্ডারের দিকে যায়, তখন প্রত্যেক ব্যাটসম্যানই ওই ফিল্ডারের দিকে তাকায়। এক রান নিক বা দুই রান, ব্যাটসম্যান দেখে যে, কোন প্রান্তটি বেশি নিরাপদ। যদি থ্রোটি বোলিং প্রান্তের দিকে আসত, তাহলে ডাইভ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু যখন ব্যাটসম্যান জানে যে, থ্রোটি তার প্রান্তের দিকে আসছে, তখন সে ডাইভ দেবে। তার চোখ স্বাভাবিকভাবেই ফিল্ডারের দিকে যাবে। এমন নয় যে, সে ভেবেছিল, ‘আমি কিছু আটকাতে যাচ্ছি।’ তাই আমি মনে করি, এটা আউট নয়।”

“বলটা কোথা থেকে আসছে, তা দেখার জন্য ঘোরার সময় সে ফিল্ডারের দিকে তাকাচ্ছিল। কিন্তু ঘোরার পরই সে দৌড়ে গিয়ে লাফ দেয়। তখন সে আর ফিল্ডারের দিকে তাকাচ্ছিল না, এমনকি তার মনোযোগও সামনের দিকে ছিল না। আমার মতে, এখানে কিছুটা কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

সরাসরি সম্প্রচারে ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার ড্যারেন গাঙ্গাও বলেন, রাঘুভানশি দিক পরিবর্তন করেননি। ধারাভাষ্য প্যানেলের অন্যরাও তার সঙ্গে একমত হন।

আউট হয়ে ফেরার সময় বেশ ক্ষুব্ধ দেখা যায় রাঘুভানশিকে। তিনি ব্যাট দিয়ে বাউন্ডারি কুশনে আঘাত করেন এবং হেলমেট ছুড়ে ফেলেন। চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায় কলকাতার কোচ আভিশেক নায়ারকে।

আইপিএলে ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউট হওয়া চতুর্থ ক্রিকেটার রাঘুভানশি। তার আগে ২০১৩ সালে ইউসুফ পাঠান, ২০১৯ সালে আমিত মিশ্রা ও ২০২৪ সালে রাভিন্দ্রা জাদেজার এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল।

রিঙ্কু সিংয়ের ৫১ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের দারুণ ইনিংসে ১৫৫ রানের পুঁজি গড়ে কলকাতা। তুমুল নাটকীয় ম্যাচটি ‘টাই’ হয় শেষ বলে শামির ছক্কায়। সুপার ওভারে সুনিল নারাইনের প্রথম তিন বলের মধ্যে নির্ধারিত ২ উইকেট হারিয়ে লাক্ষ্নৌ করতে পারে স্রেফ ১ রান। রিঙ্কুর চারে প্রথম বলেই জিতে যায় কলকাতা।

ওভাবে আউট হয়ে ফেরার সময় ‘আক্রমণাত্মক’ প্রতিক্রিয়া দেখানোয় শাস্তি পেয়েছেন রাঘুভানশি। আইপিএলের আচরণবিধির লেভেল ১ লঙ্ঘনের জন্য তার ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। একটি ডিমেরিটও পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে।