Published : 08 Jan 2026, 11:33 AM
চোট থেকে ফেরার পুনর্বাসন চলছে প্যাট কামিন্সের। শেষ দিনে খানিকটা ধারাভাষ্যও দিলেন। তবে উদযাপনে না থাকলে কী আর হয়! কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহর কাছ থেকে অ্যাশেজের ‘ভস্মাধার’ বুঝে নিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তবে দলীয় উদযাপনে শামিল হলেন নিয়মিত অধিনায়ক কামিন্স। চোটের কারণে বাইরে থাকা ন্যাথান লায়নও সঙ্গী হলেন সতীর্থদের। সবাই মিলেই চলল উৎসব।
সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তাদের প্রথম তিন টেস্ট জিতেই। বক্সিং ডে টেস্টে হেরে একটু হয়েছিল ছন্দপতন। সিডনিতে আবার তারা আপন চেহারায়। শেষ টেস্টের শেষ দিনে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে স্মরণীয় করে রাখল তারা সিরিজ জয়।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আবির্ভাবের পর সেটিকেই ধরে নেওয়া হয় অভিজাত এই সংস্করণের বিশ্বকাপ। তবে ইতিহাস, ঐতিহ্য, আভিজাত্য, মর্যাদা ও নানা পারিপার্শ্বিকতা মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের কাছে অ্যাশেজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সম্ভবত সেই। সেই লড়াইয়ে দাপট ধরে রেখেই এবার ৪-১ ব্যবধানে জিতে সিরিজ শেষ করল অস্ট্রেলিয়া।
উল্লাসের মাঝে ছিল বিদায়ের রাগিনীও। উসমান খাওয়াজার ১৫ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ দিন এটি। শেষ ইনিংসে খুব ভালো করতে পারেননি। তবে দর্শকদের তুমুল করতালি, সতীর্থরা আর প্রতিপক্ষের শুভেচ্ছায় ব্যাট উঁচিয়ে মাঠে সিজদা দিয়ে শেষবারের মতো ছেড়ে যান তিনি মাঠ।
ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল চতুর্থ দিনে। অসাধারণ খেলে জেকব বেথেল টিকে ছিলেস বলে ইংল্যান্ডের লড়াইয়ের আশা টিকে ছিল। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটিতে দেড়শ ছাড়িয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল এই ক্রিকেটার। কিন্তু এরপর আর এগোতে পারেননি বেশ দূর। দলও পারেনি লড়াই জমাতে। শেষ দিনে শেষ দুই উইকেটে যোগ করতে পারে তারা ৪০ রান।
১৬০ রানের লক্ষ্য ছুঁতে গিয়ে আগ্রাসী শুরুর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে তাদেরকে খুব বিপদে মনে হয়নি কখনোই। পাঁচ উইকেট হারালেও ওভারপ্রতি পাঁচে বেশি রান তুলে জিতে যায় তারা দ্বিতীয় সেশনেই।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৮ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করে ইংল্যান্ড। পাঁচ ওভার পরই অস্ট্রেলিয়া পায় নতুন বল। ব্যস, এরপর বেশি দেরি হয়নি। সিরিজজুড়ে অসাধারণ ও অতিমানবীয় বোলিং করা মিচেল স্টার্ক শেষ দিনটিও রাঙিয়ে রাখেন শেষ উইকেট দুটি নিয়ে।
১৪২ রানে দিন শুরু করা বেথেল ১৫৪ রানে কিপারের কাছে ধরা পড়েন কাট করতে গিয়ে। শেষ ব্যাটসম্যান জশ টং ক্যাচ তুলে দেন এক্সট্রা কাভারে।
রান তাড়ায় ১০ ওভারেই ৬২ রান তুলে ফেলেন ট্রাভিস হেড ও জেইক ওয়েদেরল্ড। ৩৫ বলে ২৯ রান করে হেডের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি।
৪০ বলে ৩৫ রান করে থামেন ওয়েদেরল্ড। ৫ টেস্টে ২০১ রান নিয়ে শেষ হলো তার অভিষেক সিরিজ। পরের সিরিজে দুরু দুরু বুকে তার অপেক্ষা থাকবে সুযোগ পাওয়া নিয়ে।
জেতার খুব তাড়া ছিল মার্নাস লাবুশেনেরও। কিন্তু ৪০ বলে ৩৭ করে তিনি রান আউট হয়ে যান। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান স্টিভেন স্মিথ ১২ রানে বোল্ড হয়ে যান উইল জ্যাকসের দারুণ ডেলিভারিতে।
শেষ ইনিংসে খাওয়াজা ৬ রান করে স্টাম্পে টেনে আনেন জশ টংয়ের বল। ৮৮ টেস্টে ৪২.৯৫ গড়ে ৬ হাজার ২২৯ রান নিয়ে শেষ হলো তার টেস্ট ক্যারিয়ার।
এরপর অ্যালেক্স কেয়ারি ও ক্যামেরন গ্রিন খুব বেশি সময় নেননি দলকে জেতাতে। সিরিজজুড়ে উইকেটের সামনে ও পেছনে দারুণ পারফর্ম করা কেয়ারির বাউন্ডারিতে শেষ হয় ম্যাচ ও সিরিজ।
নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স খেলেছেন কেবল একটি টেস্ট, সেরা স্পিনার লায়ন খেলেছেন দুটিতে। সেরা বোলারদের একজন জশ হেইজেলউড ছিলেন না গোটা সিরিজে। এমনকি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্মিথও ছিলেন না একটি টেস্টে। তার পরও অস্ট্রেলিয়ার বড় জয়ে ফুটে উঠল অ্যাশেজে তাদের শ্রেষ্ঠত্বই। ২০১৫ সালের পর থেকে আর অ্যাশেজে হারেনি তারা।
শেষের কৌতূহল ছিল ম্যান অব দা সিরিজ নিয়ে। বোলারদের দাপটের সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৬২.৯০ গড় ও অবিশ্বাস্যভাবে ৮৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৬২৯ রান করেছেন ট্রাভিস হেড। সিরিজে চারশর বেশি রান নেই আর কারও। অবিস্মরণীয় বোলিংয়ে সিরিজে ৩১ উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ক্যারিয়ারের এই প্রথম পেলেন তিনি এক সিরিজে ২৫টির বেশি উইকেট। এই সিরিজে ২২টির বেশি উইকেট নেই আর কারও।
লড়াইটা ছিল দুজনেরই। ১৬৩ ও ২৯ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ হন হেড। ৩১ উইকেটের সঙ্গে ১৫৬ রান করে সিরিজ সেরার কম্পটন-মিলার ট্রফি শেষ পর্যন্ত পেয়ে যান স্টার্ক।
অস্ট্রেলিয়ার পরের টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের বিপক্ষে। তবে অপেক্ষা অনেক দিনের, আগামী অগাস্টে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৮৪
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৫৬৭
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৩৪২
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৬০) ৩১.২ ওভারে ১৬১/৫ (হেড ২৯, ওয়েদেরল্ড ৪০, লাবুশেন ৩৭, স্মিথ ১২, খাওয়াজা ৬, কেয়ারি ১৬*, গ্রিন ২২*; কার্স ৮-০-৫১-০, টং ১১-০-৪২-৩, বেথেল ৩-০-১৬-০, জ্যাকস ৬.২-১-৪২-১, রুট ৩-১-৬-০)।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৪-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: ট্রাভিস হেড।
ম্যাচ অব দা সিরিজ: মিচেল স্টার্ক।