Published : 01 Jan 2026, 09:46 PM
দলের সঙ্গে একটি সেশনও অনুশীলন হয়নি। সতীর্থদের সঙ্গে রসায়ন জমে ওঠার সময় মেলেনি। তাতে কী! এই সময়ের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এসবকে ক্রিকেটাররা পাত্তা দেন সামান্যই। এই যেমন আজমাতউল্লাহ ওমারজাই দেখালেন। আইএল টি-টোয়েন্টি খেলে আগের দিন রাতে সিলেটে পৌঁছে যোগ দিয়েছেন দলের সঙ্গে। পরদিনই তিনি ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সিলেট টাইটান্সের জয়ের নায়ক!
এভাবে হুট করে কোথাও উড়ে গিয়ে আলো ছড়ানোর অভ্যাস তাদের এমনিতেই আছে। তবে ওমারজাইয়ের ভেতর বাড়তি তাড়না ছিল খেলা বাংলাদেশে বলেও। এই দেশের সঙ্গে যে বিশেষ এক বন্ধন তার!
ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার ব্যাট হাতে ২৪ বলে ৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ওমারজাই। বিপিএলে ২১ ম্যাচে তার প্রথম ফিফটি এটি। পরে বল হাতে শিকার করেন তিন উইকেট।
ম্যাচ-সেরা হওয়ার পর ওমারজাই বললেন, বাংলাদেশ তার হৃদয়ে বরাবরই আলাদা জায়গা নিয়ে আছে।
“বাংলাদেশে খেলতে সবসময় পছন্দ করি। কারণ, আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা বাংলাদেশেই। এজন্য এখানে খেলতে ভালো লাগে, খুব উপভোগ করি এখানে।”
ওমারজাই যেভাবে বলেছেন, তার শুরুটা ঠিক এরকম বাংলাদেশে নয়। তবে তার প্রস্ফুটিত হওয়ার শুরু এই দেশ থেকেই।
২০২২ সালের বিপিএলে যখন তিনি মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার হয়ে খেলতে এলেন, তখনও তিনি প্রায় অচেনা এক নাম। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ১০ ম্যাচের। দেশের বাইরের লিগে খেলার তো প্রশ্নই আসে না। আফগানিস্তানের হয়ে ততদিনে দুটি ওয়ানডে খেলেছেন বটে, তবে তেমন কোনো পরিচিতি তার ছিল না।

সেবার তিনি বিপিএলে খেললেন। বিপিএলের পরপরই আফগানিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার অভিষেক হলো এদেশেই। সেই তিনি এখন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। আইপিএলসহ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার তুমুল চাহিদা।
কেন তাকে নিয়ে এত টানাটানি, সেটি আরও একবার তিনি দেখালেন ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে এই ম্যাচে। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়েই শেষ ৫ ওভারে ৭৪ রান তোলে সিলেট। শেষ পর্যন্ত যা হয়ে হয়ে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটি তারা জিতেছে ৬ রানে।
ম্যাচের পর ২৫ বছর বয়সী অলরাউন্ডার বললেন, উইকেট বুঝে ব্যাটিং ও বোলিং করে তিনি সফল হয়েছেন।
“উইকেট একটু গ্রিপ করছিল, যখন তারা ডেথ ওভারে বল করছিল। এজন্য চেষ্টা করেছি নিজের শেইপ ঠিক রাখতে। বল গ্রিপ করছিল। বাঁহাতি বোলারদের অফ স্টাম্প থেকে লেগ সাইডে খেলা কঠিন ছিল। এজন্য সোজা ব্যাটে আর এক্সট্রা কাভার দিয়ে খেলার চেষ্টা করছিলাম।”
“(বোলিংয়ে) আমার কাঁধে চোট ছিল। এজন্য কিছুটা বিশ্রাম নিয়েছি। এখন ভালো আছি। চেষ্টা করেছি, সঠিক জায়গায় বল রাখতে। উইকেটে পেসারদের জন্য সহায়তা ছিল। সেটা কাজে লেগেছে।”