জিম্বাবুয়ে-শ্রীলঙ্কা
Published : 03 Sep 2025, 09:11 PM
লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরুর পর হুট করে ছন্দপতন। ১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে গেল শ্রীলঙ্কা। পরে এক পর্যায়ে তাদের সামনে জয়ের সমীকরণ দাঁড়াল ৩ ওভারে ৩৪ রান। সেই চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে টিনোটেন্ডা মাপোসার করা ১৮তম ওভারে তাণ্ডব চালিয়ে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিলেন কামিন্দু মেন্ডিস।
হারারেতে বুধবার প্রথম ম্যাচে কামিন্দুর ঝড়ো ইনিংসে সম্ভাবনা জাগিয়েও জিততে পারল না জিম্বাবুয়ে। ৪ উইকেটে জিতে তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। প্রতিপক্ষের ১৭৫ রান তারা পেরিয়ে যায় ৫ বল বাকি থাকতে।
দলের জয়ে সঙ্গে নিয়ে ফেরা কামিন্দু ৪টি ছক্কা ও এক চারে ১৬ বলে খেলেন ৪১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। এমন ব্যাটিংয়ের পর ম্যাচের সেরা তিনি ছাড়া আর কে! ২ ছক্কা ও ৪টি চারে ৩২ বলে ৫৫ রান করা পাথুম নিসাঙ্কার অবদানও কম নয়।
ম্যাচের প্রথমভাগে আলো ছড়ান জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেট। দেশের হয়ে পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে ৮১ রান করেন এই ওপেনার। তার ৫৭ বলের ইনিংসটি গড়া ১২ চারে।
দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরা কামিন্দু ৪টি ছক্কা ও ১ চারে ১৬ বলে খেলেন ৪১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। এমন ব্যাটিংয়ের পর ম্যাচের সেরা তিনি ছাড়া আর কে! ২ ছক্কা ও ৪টি চারে ৩২ বলে ৫৫ রান করা পাথুম নিসাঙ্কার অবদানও কম নয়।
ম্যাচের প্রথমভাগে আলো ছড়ান জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেট। দেশের হয়ে পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে ৮১ রান করেন এই ওপেনার। তার ৫৭ বলের ইনিংসটি গড়া ১২ চারে।
রান তাড়ায় নিসাঙ্কা ও কামিন্দু মেন্ডিসের ব্যাটে জয়ের ভিত পায় শ্রীলঙ্কা। ১০.১ ওভারে ভাঙে তাদের ৯৬ রানের উদ্বোধনী জুটি; মাপোসার শর্ট বলে কিপার গ্লাভসে ধরা পড়েন ২৮ বলে ফিফটি করা নিসাঙ্কা।
ত্রয়োদশ ওভারের প্রথম তিন বলের মধ্যে কুসাল পেরেরা ও কুসাল মেন্ডিসকে বিদায় করেন রিচার্ড এনগারাভা। পরের ওভারে সিকান্দার রাজার শিকার হন চারিথ আসালাঙ্কা।
পরপর উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দলের হাল ধরতে পারেননি নুয়ানিদু ফার্নান্দো ও দাসুন শানাকা। হারের শঙ্কা তখন উঁকি দিতে শুরু করে সফরকারীদের শিবিরে। তখনই মাপোসার এক ওভারে ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেন কামিন্দু।
ওভারের প্রথম বলে চার হজম করা মাপোসা পরেরটি মারেন ‘বিমার’। কাঁধের উপরের বল ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কায় ওড়ান কামিন্দু। পরের দুই বল থেকে আসে চার রান। চতুর্থ ডেলিভারিতে চার মারেন অভিষিক্ত দুশান হেমান্থা। শেষ বলে স্ট্রাইক পেয়ে আবার ছক্কা হাঁকান কামিন্দু।
ওভারটি থেকে আসে ২৬ রান। শেষ দুই ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার পড়ে কেবল ৮ রান। অনায়াসেই সেই সমীকরণ মিলিয়ে ফেলেন কামিন্দু ও হেমান্থা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়েকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন বেনেট। ম্যাচের প্রথম দুই বলেই নুয়ান থুসারাকে বাউন্ডারি মারেন তিনি। পরের ওভারে মাহিশ থিকশানাকে চার হাঁকানো টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে টিকতে দেননি দুশমান্থা চামিরা।
ষষ্ঠ ওভারে অভিজ্ঞ শন উইলিয়ামসকে হারায় জিম্বাবুয়ে। তবে আরেক প্রান্তে বেনেটের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে শেষে তাদের রান দাঁড়ায় ৫৯/২।
বেনেটের আগ্রাসন চলে পরেও। ৩৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করে এগিয়ে যান তিনি। তার সঙ্গে ৫০ রানের জুটিতে ২৮ রান করেন রাজা। পরে কিছুক্ষণ বেনেটকে সঙ্গ দেন রায়ান বার্ল।
শানাকার বলে ৭৩ রানে লং-অনে জীবন পান বেনেট। পরে ১৯তম ওভারে চামিরার বলে স্কুপ খেলার চেষ্টায় বার্লের মতো বোল্ড হন তিনিও।
শেষ ওভারে থুসারাকে দুটি চার মারেন টাশিঙ্গা মুসেকিওয়া। তাতে পৌনে দুইশ পর্যন্ত যায় জিম্বাবুয়ের রান। কিন্তু শেষ দিকের বোলিংয়ে সম্ভাবনা জাগিয়েও জিততে পারল না তারা।
দুই দলের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি শনিবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (বেনেট ৮১, মারুমানি ৭, উইলিয়ামস ১৪, রাজা ২৮, বার্ল ১৭, মাসেকিওয়া ১১, মুনিয়োঙ্গা ০, ইভান্স ০, মাপোসা ২; থুসারা ৪-০-৪৭-১, থিকশানা ৪-০-৩৮-১, চামিরা ৪-০-৩০-৩, হেমান্থা ৪-০-২৮-১, কামিন্দু ২-০-১৫-০, শানাকা ২-০-১৪-০)
শ্রীলঙ্কা: ১৯.১ ওভারে ১৭৭/৬ (নিসাঙ্কা ৫৫, মেন্ডিস ৩৮, পেরেরা ৪, নুয়ানিদু ৭, আসালাঙ্কা ১, কামিন্দু ৪১, শানাকা ৬, হেমান্থা ১৪; এনগারাভা ৪-০-১৯-২, মুজারাবানি ৩.১-০-৪১-১, মাপোসা ৪-০-৪৭-১, ইভান্স ৩-০-৩০-১, রাজা ৪-০-২৬-১, উইলিয়ামস ১-০-৭-০)
ফল: শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: কামিন্দু মেন্ডিস
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে লঙ্কানরা