Published : 08 Jun 2026, 03:31 PM
দুজনই স্পিনিং অলরাউন্ডার। তবে দুজনের ধরন ভিন্ন। মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে একসঙ্গে একাদশে খেলতে তাই সমস্যার কিছু দেখেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের মতে, মোসাদ্দেকের মতো একাদশে থাকলে দলের ভারসাম্য আরও সমৃদ্ধ হবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াড দিয়ে সাড়ে তিন বছর পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে ফিরেছেন মোসাদ্দেক। এত লম্বা সময় তার বাইরে থাকার নানা কারণের মধ্যে একটি মনে করা হতো, দলে মিরাজের উপস্থিতি।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে মোসাদ্দেক দীর্ঘদিন সুযোগ না পাওয়ায় প্রশ্ন উঠত নিয়মিতই। সেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছিল সাবেক প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেনের একটি মন্তব্য। তিনি বলেছিলেন, মিরাজ দলে থাকলে মোসাদ্দেকের সুযোগ নেই। পরে অবশ্য সেই বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। তবে তাদের ভাবনার ছবিটা ফুটে উঠেছিল ঠিকই।
সেই সময়টা পেরিয়ে মোসাদ্দেক অবশেষে স্কোয়াডে ফিরেছেন। কিন্তু সেই প্রশ্নটা রয়েই গেছে। দুই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার কি একাদশে একসঙ্গে জায়গা পেতে পারেন?
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগের দিন মিরাজ বললেন, সেটি খুবই সম্ভব।
“আমি আর মোসাদ্দেক কিন্তু একসঙ্গে বাংলাদেশ দলে অনেকদিন খেলেছি। ২০১৯ বিশ্বকাপেও আমরা খেলেছি একসঙ্গে। আমার কাছে মনে হয়, এটা কোনো ভিন্ন ইস্যু নয়। মোসাদ্দেক তার ভূমিকা পালন করবে, আমি আমার কাজ করব। মোসাদ্দেক হলো ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি হলো বোলিং অলরাউন্ডার। দুজনের ভূমিকাটা আলাদা।”
“আমার কাছে মনে হয়, সে যদি পারফর্ম করতে পারে, এটা আমার জন্য এবং দলের জন্য অনেক বিরাট সহায়তা হবে। দিন শেষে আমরা সবাই চিন্তা করি যে, দলটাকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় এবং আমার কাছে মনে হয়, আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী তাকে নিয়ে, যেভাবে সে ঘরোয়াতে ভালো পারফর্ম করেছে। যদি সুযোগ আসে, ভালো করবে নে।”
মিরাজের বক্তব্যের স্বাক্ষ্য দেবে পরিসংখ্যানও। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মোসাদ্দেক ৪৩ ম্যাচ খেলেছেন, এর ২৭টিতেই একাদশে ছিলেন মিরাজও।
মোসাদ্দেক এমনিতে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে, বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তাকে জেনুইন অলরাউন্ডারই বলা যায়। গত মৌসুমের লিগে আবাহনী লিমিটেডকে শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে রান করেছিলেন ৪৮.৭০ গড় ও ১০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৪৮৭। বল হাতে তার সাফল্য ছিল আরও চোখধাঁধানো। ওভারপ্রতি মাত্র ৪.০৪ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছিলেন ৩০টি, যা ছিল যৌথভাবে লিগের সর্বোচ্চ।
এবারের লিগে তো ব্যাট হাতে তিনি আরও বিধ্বংসী, বল হাতে যথারীতি কার্যকর। দলে ডাক পাওয়ার আগে আবাহনীর হয়ে ৬ ইনিংসে তার রান ৭৭.৫০ গড়ে ৩১০, স্ট্রাইক রেট ১২৯.১৬। বল হাতে উইকেট ছিল ১২টি। রান জোয়ারের আসরেও ওভারপ্রতি দেন মোটে ৩.৭৪ রান।
মোসাদ্দেকের মতো অলরাউন্ডার দলে থাকলে অধিনায়কের জন্য তার স্বস্তির, বললেন মিরাজ।
“এরকম একটা অপশন যদি থাকে, আমাদের দলের জন্য অনেক সহায়তা হবে। আপনি যখন পাঁচটা বোলার নিয়ে খেলবেন, সঙ্গে বাড়তি বোলার থাকবে, তখন অনেক ভরসা থাকবে। একটা বোলারের খারাপ দিন যেতেই পারে। ব্যাকআপ হিসেবে বোলার থাকলে দলের ভারসাম্য খুব ভালো থাকে।”
“সে ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক ভালো বোলিং করেছে এবং সে পরীক্ষিত। আমার কাছে মনে হয়, সে ভালো জায়গায় বল করলে ভালো হবে এবং অধিনায়ক হিসেবে আবারও অনেক বিশ্বাস থাকবে, যদি সে ভালো করে।”