Published : 12 Apr 2026, 07:23 PM
চোটের কারণে পিএসএল থেকে ছিটকে পড়ে প্রচণ্ড হতাশ ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। বাংলাদেশ দলের জন্যও শঙ্কার জায়গা ছিল। সামনেই যে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ।। তবে দেশে ফেরার পর এই ব্যাটস্যমানকে পরীক্ষা করিয়ে স্বস্তির খবরই মিলেছে। পুনবার্সন প্রত্যাশিত পথে এগোলে কিউইদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগেই প্রস্তুত হয়ে উঠবেন তিনি।
পিএসএলে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলছিলেন পারভেজ। গত ৩ এপ্রিল মুলতান সুলতান্সের বিপক্ষে ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় চতুর্থ ওভারে সতীর্থ আসিফ আলির সঙ্গে ধাক্কা লাগে তার। তখনই কাঁধ চেপে ধরতে দেখা যায় তাকে। তবে চোট তখনও বোঝা যায়নি। পরের ম্যাচে তাকে দেখা যায়নি একাদশে। অবশেষে শনিবার কালান্দার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চোটের কারণে এই টুর্নামেন্টে আর খেলতে পারবেন না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান।
একই আসরে থাকা স্বদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন ও তানজিদ হোসেনের সঙ্গে তিনি দেশে ফেরেন রোববার সকালে। দুপুরেই বিসিবির চিকিৎসক ও ফিজিওদের তত্ত্বাবধানে তার পরীক্ষা করানো হয়।
বিসিবির মেডিকেল বিভাগের পক্ষ থেকে জানা গেছে, কাঁধের লিগামেন্টে চোট পেয়েছেন পারভেজ। তবে সেরে ওঠার পথেই আছেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। এই ধরনের চোটের ক্ষেত্রে সেরে উঠতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। পারভেজের চোটের পর ৯ দিন পেরিয়ে গেছে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু ২৭ এপ্রিল থেকে।
কাঁধে এখনও কিছুটা ব্যথা অনুভব করছেন পারভেজ। তবে পেস বোলিংয়ে ব্যাট করতে খুব একটা সমস্যা তার হচ্ছে না। স্পিন বোলিং খেলতে গেলে কিছুটা অস্বস্তি হচ্ছে তার। তবে কিউইদের বিপক্ষে সিরিজের আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে নেই বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে অভিষেক ওয়ানডে সিরিজের পর দেশের হয়ে এই সংস্করণে তার সুযোগ পাননি তিনি। টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য ক্রমেই জায়গা পাকা করার পথে আছেন।
পিএসএল দিয়ে দেশের বাইরের লিগে পথচলা শুরু হলো পারভেজের। কালান্দার্সের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে ১৪ ও ১২ রানের পর তৃতীয় ম্যাচে ৫ ছক্কায় করেন তিনি ১৯ বলে ৪৩। ওই ম্যাচেই ফিল্ডিংয়ে চোটে পড়েন।
টুর্নামেন্ট থেক ছিটকে পড়ে হতাশার কথা জানান তিনি সামাজিক মাধ্যমে।
“চোটের কারণে পিএসএল যাত্রা শেষ হয়ে যাওয়ায় আমি সত্যিই বিধ্বস্ত। এই সুযোগটির জন্য দারুণ রোমাঞ্চিত ছিলাম এবং মনে হচ্ছিল, সবেমাত্র নিজের ছন্দে ফিরছিলাম, কিন্তু আল্লাহই সর্বজ্ঞ এবং তিনিই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।”
“এটি ছিল আমার প্রথম বিদেশী ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং এই কালান্দার্সের ভ্রাতৃত্বের অভিজ্ঞতার স্বাদ পেয়ে আমি খুবই কৃতজ্ঞ। বিশ্বাস এবং সমর্থনের জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ। আমি দুঃখিত যে এই মৌসুমে আপনাদের সঙ্গে পথচলা চালিয়ে যেতে পারলাম না। তবে দলের খেলা সবসময় দেখব এবং সমর্থন করব পুরো সময়ে।”