Published : 04 Jul 2026, 11:44 PM
দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল-ফকিরদের ওপর হামলা ও জোর করে তাদের চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে আদালত।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুলও জারি করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
গেল ২১ জুন বিচারপতি রাজিক-আল-জালিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেয়। বিষয়টি শনিবার সংবাদমামধ্যমে জানান রিটকারীদের একজন।
আদালত বলেছে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ৬০ দিনের মধ্যে, যেখানে জড়িতদের নামও থাকতে হবে।
মামলায় চার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীকে বিবাদী করা হয়েছে। তারা হলেন— ফেইসবুক পেইজ 'মাহবুব ক্রিয়েশনস ফোর' ও ইউটিউব চ্যানেল 'স্ট্রিট হিউম্যানিটি অব বাংলাদেশ'-এর অ্যাডমিন মো. মাহবুব সরকার, 'হিউম্যানিটি ফাস্ট বিডি'র অ্যাডমিন মুফতি সোহরাব হোসেন আশরাফী, যুগ্ম অ্যাডমিন মোহাম্মদ আফসার আহমেদ এবং 'কেএম রিয়াজ' চ্যানেলের অ্যাডমিন কে এম রিয়াজ।
তাদের বিচারের আওতায় আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সেটাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ ও জাসিদুল ইসলামসহ সহ কয়েকজন।
শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ অন্তর্বর্তী আদেশের বিরোধিতা করেছিল বলে আদেশে বলা হয়েছে।
লিটন চন্দ্র সাহা, নারী অধিকার কর্মী শিরীন পারভীন হক, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সাংবাদিক নূরুল কবীর, অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, অধ্যাপক আমেনা আখতার মহসীন, নজীর আমিন চৌধুরী জয় ও মাহাথির মোহাম্মদসহ ৩০ জন নাগরিক এই রিট আবেদন করেন।
এরমধ্যে মাহাথির মোহাম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও ইউটিউব চ্যানেলগুলো আবারও জোর করে চুল-দাড়ি ও জটা কাটার ভিডিও আপলোড করছে। এটি কোনো অতীত ঘটনা নয়, এটি একটি ‘চলমান অপরাধ’ (রানিং ক্রাইম)।"
তিনি আরো বলেন, “তারা (ফকির- সন্ন্যাসী) নিজেরা কখনো থানায় গিয়ে অভিযোগ করবেন না। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”