Published : 13 Jul 2025, 11:20 AM
শুরুর চাপ ভালোভাবেই সামাল দিচ্ছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। চা বিরতির আগে গ্রিনকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙলেন জেডেন সিলস। আর বিরতির পর স্মিথকে আউট করলেন শামার জোসেফ। পরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। আরও একবার অল্পে গুটিয়ে গেল তারা।
জ্যামাইকায় হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর অভিযানে দিন-রাতের টেস্টের প্রথম দিনের শেষ ভাগে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজও অবশ্য খুব একটা স্বস্তিতে নেই।
স্যাবাইনা পার্কে ম্যাচের প্রথম দিন শেষে ২০৯ রানে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। তাদের ২২৫ রানের জবাবে ১৬ রানে ১ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করে স্বাগতিকরা। উইন্ডিজের উইকেটটি নেন শততম টেস্ট খেলতে নামা মিচেল স্টার্ক।
কোনোরকম বৃষ্টি বা আলোকস্বল্পতা না হলেও, পুরো দিনে খেলা হয় ৭৯.৩ ওভার।
সিরিজের আগের দুই ম্যাচের মতো পেসারদের দাপট চলমান শেষটিতেও। অস্ট্রেলিয়ার সব উইকেট ভাগাভাগি করে নেন ক্যারিবিয়ান তিন পেসার শামার, সিলস ও জাস্টিন গ্রিভস।
ফ্লাডলাইটের নিচে পেসবান্ধব কন্ডিশনের কথা বিবেচনায় রেখে নাথান লায়নকে ছাড়া খেলতে নামে অস্ট্রেলিয়া। কোনো চোট সমস্যা ছাড়া ২০১৩ সালের পর এবারই প্রথম একাদশে নেই গ্রেট অফ স্পিনার।
উইন্ডিজ একাদশ থেকে জায়গা হারান আগের ম্যাচে একশ টেস্টের মাইলফলক পূর্ণ করা ক্রেইগ ব্রাথওয়েট। সবশেষ ২০ ইনিংসে মাত্র ২টি ফিফটি করা অভিজ্ঞ ওপেনারকে দলে রাখেনি স্বাগতিকরা।
দিনের আলোয় ব্যাটিং করার ইচ্ছায় টস জিতে আগে ব্যাটিং নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। গোলাপি বলের বিপক্ষে সাবধানী শুরু করেন দুই ওপেনার স্যাম কনস্টাস ও উসমান খাওয়াজা।
পঞ্চম ওভারে অবশ্য ফিরতে পারতেন কনস্টাস। সিলসের বলে তৃতীয় স্লিপে তার ক্যাচ ছেড়ে দেন অভিষিক্ত কেভলন অ্যান্ডারসন। প্রথম ঘণ্টায় আর বিপদ ঘটতে দেননি দুই ওপেনার। তবে রানও তেমন নেননি দুজন।
পানি বিরতির পর নিজের প্রথম বলেই কনস্টাসকে আউট করেন গ্রিভস। ৫৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন তরুণ ওপেনার। ২৫ ওভারের প্রথম সেশনে ১ উইকেটে ৫০ রান করে বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় সেশনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি খাওয়াজা। শামারের বলে উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে বাঁহাতি ওপেনারকে (৯২ বলে ২৩) ফেরান শেই হোপ।
পরে রানের গতি বাড়ানোয় মন দেন স্মিথ ও গ্রিন। দুজন মিলে ১০৬ বলে গড়েন ৬১ রানের জুটি। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটি বেশি বড় হতে দেননি সিলস। চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড হন ৪৬ রান করা গ্রিন।
দুই সেশনে এই ৩ উইকেট হারিয়ে শেষ বেলার খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। সেখানেই নামে ধস। দলকে দেড়শ পার করিয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন স্মিথ। শামারের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ২ রানের জন্য ফিফটি করতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
স্মিথের বিদায় থেকে মাত্র ৬৮ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পরের ব্যাটসম্যানদের কেউই তেমন কিছু করতে পারেননি।
ভালো শুরু করা ট্র্যাভিস হেডের বিদায়ঘণ্টা বাজে অ্যান্ডারসন ফিলিপের অসাধারণ এক ক্যাচে। মিড অফ থেকে ডান দিকে দৌড়ে শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে দুই হাতে বল লুফে নেন উইন্ডিজের বদলি ফিল্ডার।
পরে লেজের সারির ব্যাটসম্যানদের মুড়িয়ে দিতে বেশি সময় নেননি সিলস, শামার ও গ্রিভস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন শামার। সিলস ও গ্রিভসের ঝুলিতে জমা পড়ে ৩টি করে শিকার।
ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়ায় স্বাগতিকদের হয়ে ইনিংস সূচনা করতে পারেননি দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও মিকাইল লুইস। তাদের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিংয়ে নামেন ব্র্যান্ডন কিং ও কেভলন অ্যান্ডারসন।
স্লিপে ক্যাচ ছেড়ে দিন শুরু করা অভিষিক্ত কেভলনের শেষটাও ভালো হয়নি। স্টার্কের বলে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বোল্ড হন ২৪ বছর বয়সী টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান।
দিনের বাকি সময়ে আর উইকেট পড়তে দেননি কিং ও রোস্টন চেইস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৭০.৩ ওভারে ২২৫ (খাওয়াজা ২৩, কনস্টাস ১৭, গ্রিন ৪৬, স্মিথ ৪৮, হেড ২০, ওয়েবস্টার ১, কেয়ারি ২১, কামিন্স ২৪, স্টার্ক ০, বোল্যান্ড ৫*, হেইজেলউড ৪; সিলস ১৬-৩-৫৯-৩, শামার ১৭.৩-৪-৩৩-৪, আলজারি ৭-১-২৩-০ গ্রিভস ১৪-২-৫৬-৩, ওয়ারিক্যান ১২-৪-৩৩-০, চেইস ৪-০-১৩-০)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৯ ওভারে ১৬/১ (কিং ৮*, কেভলন ৩, চেইস ৩*; স্টার্ক ৪-১-৩-১, হেইজেলউড ২-০-৩-০, কামিন্স ২-০-৩-০, বোল্যান্ড ১-১-০-০)