Published : 22 Dec 2025, 08:15 AM
জাহানারা আলমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেয়েছে বিসিবির গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি। এখনও আরও কিছু ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা ও তথ্য খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে এই কমিটি। তাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে আরেক দফায়।
বিসিবি রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছে তদন্ত কমিটি। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে চান তারা।
সংবদি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহানার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। ন্যায্য ও উপযুক্ত তদন্তের স্বার্থে আরও কজনের সঙ্গে কথা বলা ও তথ্য পরখ করার প্রয়োজনীয়তা দেখছে এই কমিটি।
গত মাসে ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে জাহানারা অভিযোগ করেন, নিউ জিল্যান্ডে ২০২২ বিশ্বকাপ চলার সময় তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। ছাড়াও মঞ্জুর বিরুদ্ধে নানা সময়ে মানসিক নির্যাতন, যৌন হেনস্তা ও সেসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণ করার অভিযোগও তুলেছেন এই পেসার। একইরকম অভিযোগ করেছেন তিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে, একসময় যিনি ছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী। এছাড়া টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের আরও কজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন ৩২ বছর বয়সী পেসার।
জাহানারার অভিযোগের পর মুখ খুলতে শুরু করেন আরও বেশ কজন ক্রিকেটার। তোলপাড় পড়ে যাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমকে। অন্য দুই সদস্য বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
এই কমিটির গঠন নিয়েও নানা সমালোচনার পর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয় দুজন। যোগ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নাইমা হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খানকে।
জাহানারাকে বলা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে। অস্ট্রেলিয়ায় থাকা এই ক্রিকেটার ১৫ দিন সময় চেয়ে অনুরোধ জানান। তাকে বলা হয় ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযোগ জানাতে। যা তিনি করেছেন। আপাতত অপেক্ষা এখন ৩১ জানুয়ারীর ।