Published : 17 Dec 2025, 03:46 PM
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ আরও একবার প্রকাশ্যে এলো। বুধবার দুপুরে পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মূল ফটকের সামনে আবারও বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে একটি দল। প্রায় ৫০–৬০ জন বিক্ষোভকারী বিভিন্ন স্লোগান, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিসিবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার পর এই নিয়ে দ্বিতীয় দফায় মিছিল হলো শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। তার দায়িত্ব ছাড়ার পরদিনই এক দফায় মিছিল হয়েছিল, যেখানে তিনিসহ বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদকে নিয়ে নানারকম স্লোগান দেওয়া হয়। বুধবারের মিছিলেও তাদের মধ্যে অনেককে দেখা যায় আবার।
নিজেদের ‘ক্রিকেটপ্রেমী জনগণ’ পরিচয় দেওয়া এই বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি, বর্তমান বোর্ড পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্রিকেট পরিচালনা করা।
আগের দফার প্রতিবাদ মিছিলের সঙ্গে এবারে মিছিলের স্লোগান ও প্ল্যাকার্ডের ভাষায় কিছু পরিবর্তন আছে। তবে মূল দাবিটা একই। সেদিনও বিসিবির বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে নতুন নির্বাচনের দাবি করেছিলেন তারা। এবারও সেই একই দাবিতে বিসিবির ভেতরে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অপসারণের দাবি করা হয়।
মিছিলে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে কিছু ছিল ‘বিসিবিতে কোনো জুয়ারির ঠাঁই নাই’, ‘ঋণখেলাপি ও দাগি আসামিদের জায়গা এই বিসিবিতে হবে না’, ‘যৌন নিপীড়কদের স্থান এই বিসিবিতে হবে না’, ‘সিন্ডিকেটের কালো হাত ভেঙে দাও’ এমন নানা বক্তব্য। কিছু প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও তীব্র ভাষারও ব্যবহার দেখা যায়।
মিছিলটি বিসিবির মূল ফটকে পৌঁছালে কিছু সময়ের জন্য সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার সদস্যরা দ্রুত মূল ফটক বন্ধ করে অবস্থান নেন। তবে বিক্ষোভকারীরা বিসিবি প্রাঙ্গণে ঢোকার কোনো চেষ্টা করেননি। কিছু সময় অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর তারা পুনরায় মিছিল নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
মিছিল শেষে বিসিবির সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তারা বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্বেচ্ছাচারী আচরণের মাধ্যমে বিসিবির নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “এই নির্বাচন কোনো স্বচ্ছ নির্বাচন নয়। আসিফ মাহমুদের নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের নির্বাচন হয়েছে। সেই সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা হবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, তাদের মিছিলের বিপরীতে পাল্টা মিছিল হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন লোকজন অংশ নিয়েছে। এ বক্তব্যে উপস্থিত অন্য বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান।
সমাবেশে আরও বলা হয়, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এত মানুষের প্রাণ ঝরেছে। আমরা যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পেয়েছি, তা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। ক্রিকেট বোর্ডের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে অবৈধ ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের জায়গা হতে পারে না।”
এর আগে গত শনিবারও বিসিবির সামনে আরেকটি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সকল খেলোয়াড়বৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের ক্রিকেটাররা। তাঁরা বিসিবির অধীন সব ধরনের ঘরোয়া লিগ দ্রুত চালুর দাবিতে স্মারকলিপিও জমা দেন।
গত কয়েক দিনে ধারাবাহিকভাবে হওয়া এসব ছোট ছোট মিছিল ও বিক্ষোভ বিসিবির প্রশাসনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিসিবির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ে বোর্ডের ভেতরে খানিক উদ্বেগও তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি তারা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।