বড় পরাজয়েও ব্যাটিংয়ে উন্নতির স্বস্তি বাংলাদেশ অধিনায়কের

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১০ উইকেটে হারলেও অস্ট্রেলিয়াকে দেখে শিক্ষা নেওয়ার কথা বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 March 2024, 11:47 AM
Updated : 31 March 2024, 11:47 AM

স্রেফ ১২৬ রানের পুঁজি। মাঝারি স্কোর বললেও বাড়িয়ে বলা হয়। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে অস্ট্রেলিয়া সামনে এটা কোনো চ্যালেঞ্জিং স্কোরই নয়, তা প্রমাণ হয়ে গেছে। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের এতটাই দুর্দশা ছিল যে টি-টোয়েন্টির এই ব্যাটিংয়েই প্রাপ্তির উপকরণ দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচেই একশর নিচে গুটিয়ে গিয়ে প্রতি ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে রোববার তারা ২০ ওভারে তোলে ৪ উইকেটে ১২৬ রান।

এ দিনও শুরুতে দুই রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল দল। এরপর মুর্শিদা খাতুন ও ফাহিমা খাতুনের সঙ্গে দুটি অর্ধশত রানের জুটি গড়েন নিগার সুলতানা।

২০ রান করে আউট হন মুর্শিদা, ২১ বলে ২৭ রান করেন ফাহিমা। নিগার অপরাজিত থাকেন ৬৪ বলে ৬৩ রান করে।

ম্যাচ শেষে তাই বাংলাদেশ অধিনায়কের কণ্ঠে স্বস্তির রেশ মিশে থাকল ওয়ানডে সিরিজের বিভীষিকা পেছনে ফেলতে পারায়।

“দ্রুত দুটি উইকেট হারানোর পর আমি ও মুর্শিদা চেষ্টা করেছি জুটি গড়ে তুলতে এবং থিতু হয়ে কিছু শট খেলতে। আমাদের জন্য এটি ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। কারণ, বাজে একটি সিরিজের পর অন্তত ব্যাটিংয়ে কিছুটা ভালো আমরা করতে পেরেছি।”

তবে সাদা চোখে এটি উন্নতি হলেও ম্যাচের প্রেক্ষাপটে এটির প্রভাব পড়েছে সামান্যই। ওয়ানডে সিরিজে উইকেটগুলোয় বল টার্ন ও গ্রিপ করেছে বেশ। ব্যাটিং করা ছিল চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু প্রথম টি-টোয়েন্টির উইকেট ছিল বেশ ব্যাটিং সহায়ক। অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারও ২২ গজে নেমে শটের পসরা সাজিয়েছেন মহানন্দে।

স্রেফ ১৩ ওভারেই ১২৭ রান করে ফেলেছেন অ্যালিসা হিলি ও বেথ মুনি। বাংলাদেশ হেরেছে ১০ উইকেট।

এখানে বাংলাদেশের বোলারদের দিকেই আঙুল তুললেন নিগার। পাশাপাশি তিনি বললেন অস্ট্রেলিয়ানদের দেখে শেখার কথাও।

“আমরা আরও ভালো বোলিং করতে পারতাম। অন্তত ওদেরকে আরও দুই-তিন ওভার বেশি খেলাতে পারতাম আমরা। তবে ওরা যেভাবে ব্যাট করেছে, তা ছিল দুর্দান্ত। অনেকটা চোখের শান্তি এমন ব্যাটিং দেখা। তাদের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছুই আছে আমাদের।”

“ওরা কখনও কখনও ভালো বলেও মেরে দেয়। আমাদের বোলাররা এখনও অনেক তরুণ, ওদের মতো ব্যাটারদের বিপক্ষে বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা খুব একটা নেই। পরের ম্যাচের আগে আরেকটি দিন আছে। আমরা চেষ্টা করব ভালো পরিকল্পনা সাজিয়ে মাঠে নামতে।”

ব্যাটিংয়ে উন্নতিতে সন্তুষ্টির কথা বললেন বাংলাদেশের কোচ হাশান তিলাকারাত্নেও। তবে সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক এটিও বললেন, দলের পুঁজি যথেষ্ট ছিল না।

“১৫-২০ রানের ঘাটতি ছিল আমাদের। পঞ্চাশটির মতো বলে আমরা রান নিতে পারিনি। এসব ছাড়া এমনিতে আজকের ব্যাটিংয়ে আমি কিছুটা খুশি। বিশেষ করে, জ্যোতি (নিগার) যেভাবে ব্যাট করেছে। ওয়ানডে সিরিজে সে কিছুটা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তাকে ঘুরে দাঁড়াতে দেখাটা দারুণ।”