Published : 21 Jun 2026, 11:17 PM
এমনিতে হারমানপ্রিত কৌর খেলেন ২৩ নম্বর জার্সি গায়ে। তবে এই ম্যাচের আগে তার হাতে একটি জার্সি তুলে দিলেন সতীর্থ স্মৃতি মান্ধানা, যেটিতে খোদাই করা আছে ‘২০০।’ এরপর তাকে একটি ক্যাপ উপহার দিলেন কোচ অমল মজুমদার, সেটিতেও লেখা আছে ‘২০০।’ বোঝাই যাচ্ছে, বিশেষ এক উপলক্ষ এটি!
শুধু বিশেষ বললেই যথেষ্ট নয়, ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত সেটি। ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেট মিলিয়েই প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার গৌরব অর্জন করলেন হারমানপ্রিত।
উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অনন্য এই মাইলফলকে পা রাখেন হারমানপ্রিত।
২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ দিয়েই এই সংস্করণে ভারতের হয়ে অভিষেক তার। দীর্ঘ সেই পথচলায় এবার এমন ঠিকানায় তিনি পৌঁছে গেলেন, যেখানে আগে পা পড়েনি কারও।
১৮৪ ম্যাচ খেলে দুইয়ে আছেন সুজি বেটস। এবারের বিশ্বকাপ দিয়েই অবসরে যাচ্ছেন নিউ জিল্যান্ডের এই গ্রেট। কাজেই এই ডাবল সেঞ্চুরি তার হচ্ছে না। সেই সম্ভাবনা জোরালভাবে আছে ড্যানি ওয়াট-হজের। ইংলিশ অলরাউন্ডার খেলেছেন ১৮৩ ম্যাচ।

ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড পল স্টার্লিংয়ের। আইরিশ ক্রিকেটার খেলেছেন ১৬৩ ম্যাচ। রোহিত শার্মার ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে ১৫৯ ম্যাচ নিয়ে।
হারমানপ্রিতের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ এই ম্যাচে স্রেফ একটি নয়, হয়েছে আরও একটি। তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২০০ ম্যাচে তিনি নেতৃত্ব দিলেন ভারতকে।
এখানে অবশ্য তিনি প্রথম নন। তার আগে পেরেছেন শার্লট এডওয়ার্ডস। ২২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন ইংল্যান্ডকে।
হারমানপ্রিতের বয়স যদিও ৩৭ পেরিয়ে হেছে, তবে অবসরের কোনো ভাবনা তার নেই। কদিন আগে এই প্রশ্নে বেশ বিরক্তিই প্রকাশ করেছেন। এডওয়ার্ডসের রেকর্ড ভাঙার হাতছানি তার থাকছেই।
আপাতত ২০০ ম্যাচ খেলার অর্জন নিয়েও তিনি দারুণ রোমাঞ্চিত।
“২০০টি ম্যাচ, আমার মনে হয়, সত্যি বলতে এটি অসাধারণ যাত্রা। কখনও ভাবিনি যে এতদূর আসতে পারব। কিন্তু আমার মনে হয় স্রষ্টা ছিলেন দয়ালু এবং আমি তার কাছে, আমার পরিবার, বন্ধু, বিসিসিআই ও সকল সতীর্থের কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে অনেক সমর্থন করেছেন।”
মাইলফলকের ম্যাচটি অবশ্য ভালো কাটেনি হারমানপ্রিতের। আউট হয়ে গেছেন তিনি ২২ বলে ২৪ রান করে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৬ উইকেটে হেরে গেছে ভারত।