Published : 09 Aug 2025, 04:58 PM
জ্যাকব ডাফির বলে শর্ট লেগ ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়লেন তানাকা চিভাঙ্গা। ম্যাচের শেষ বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছিল তখন। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা গেল, ওভারস্টেপ করেছিলেন বোলার, ‘নো’ বল! যদিও খেলা শেষ হতে খুব বেশি সময় লাগল না। নিজের পরের ওভারে এসে সেই চিভাঙ্গাকে আউট করেই নিউ জিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করলেন ডাফি।
বুলাওয়ায়োতে দ্বিতীয় টেস্ট আড়াই দিনেরও কম সময়ে ইনিংস ও ৩৫৯ রানে জিতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে নিউ জিল্যান্ড।
ইনিংস ব্যবধানে কিউদের সবচেয়ে বড় জয় এটিই। তাদের আগের বড় জয়টিও ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২০১২ সালে নেপিয়ারে ইনিংস ও ৩০১ রানে। সেটি ছাড়িয়ে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হারের রেকর্ডও লেখা হলো নতুন করে।
প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে নিউ জিল্যান্ডের চেয়ে বড় জয় আছে আর কেবল দুটি। ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গে ইনিংস ও ৩৬০ রানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া, ১৯৩৮ সালে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংস ও ৫৭৯ রানে জিতেছিল ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৫টিসহ ম্যাচে ৭৫ রানে ৯ উইকেট নিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের অভিষিক্ত পেসার জ্যাকারি ফোকস। টেস্ট অভিষেকে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটি। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হ্যামিল্টন টেস্টে উইল ও’রোকের ৯৩ রানে ৯ উইকেট ছিল আগের সেরা।
নিউ জিল্যান্ডের ৯৫ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এই দুজন ছাড়া অভিষেকে ৯ উইকেট নেই আর কারো।
ডেভন কনওয়ে, হেনরি নিকোলস ও রাচিন রাভিন্দ্রার দেড়শ ছোঁয়া ইনিংসে ৩ উইকেটে ৬০১ রান করে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল নিউ জিল্যান্ড। শনিবার তৃতীয় দিন আর ব্যাটিংয়ে নামেনি সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে এক সেশনেই ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। প্রথম দিন তারা অলআউট হয়েছিল ১২৫ রানে।
ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন ছিল না উইকেট। জিম্বাবুয়ের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান আউট হন আলগা শট খেলে। তিন নম্বরে নেমে ৭১ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত রয়ে যান নিক ওয়েলচ। বাকি ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত রান ৫৪! অতিরিক্ত থেকে আসে ১৬ রান।
ওয়েলচ ছাড়া দুই অঙ্কে যেতে পারেন আর কেবল অধিনায়ক ক্রেইগ আরভাইন (১৭)।
প্রথম ওভারেই চমৎকার ডেলিভারিতে ব্রায়ান বেনেটকে বোল্ড করে দেন ম্যাট হেনরি। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া পেসার পঞ্চম ওভারে ফিরিয়ে দেন ব্রেন্ডান টেইলরকেও।
কঠিন পথ পেরিয়ে প্রায় চার বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানের পর এবার ৭ রানে ফেরেন ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
ওয়েলচ এক প্রান্ত আগলে রাখলেও বাকিরা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। অভিজ্ঞ শন উইলিয়ামসকে ফিরতি ক্যাচে ফেরান অভিষিক্ত ডাফি। আরেক অভিষিক্ত পেসার ম্যাথু ফিশারের শিকার আরভাইন।
সিকান্দার রাজাকে দিয়ে শুরু করে পরের চার উইকেটের সবকটি নেন ফোকস। নিউ জিল্যান্ডের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্ট অভিষেকে ১০ উইকেট নেওয়ার সুযোগও এসে যায় তার সামনে। তবে ওই ওভারে তাকে টানা তিনটি চার মারেন ওয়েলচ। পরের ওভারেই ম্যাচের সমাপ্তি।
১৫৩ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা ওপেনার কনওয়ে। দুই ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে সিরিজের সেরা হেনরি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ১২৫
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৬০১/৩ ডিক্লে.
জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ২৮.১ ওভারে ১১৭ (বেনেট ০, টেইলর ৭, ওয়েলচ ৪৭*, উইলিয়ামস ৯, আরভাইন ১৭, রাজা ৪, সিগা ৫, মাসেকেসা ৪, গুয়ান্ডু ০, মুজারাবানি ৮, চিভাঙ্গা ০; হেনরি ৭-৩-১৬-২, ডাফি ৭.১-২-২৮-২, ফোকস ৯-২-৩৭-৫, ফিশার ৫-০-২২-১)
ফল: ইনিংস ও ৩৫৯ রানে জয়ী নিউ জিল্যান্ড
সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ নিউ জিল্যান্ড ২-০তে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভন কনওয়ে
ম্যান অব দা সিরিজ: ম্যাট হেনরি