Published : 06 Oct 2025, 11:12 PM
এক দিনের মধ্যে তিন রূপে তিনবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। রোববার তার পরিচয় ছিল বিদায়ী বিসিবি সভাপতি, সোমবার সকালে বিসিবি পরিচালক পদপ্রার্থী। সোমবার রাতে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আবার মাইক্রোফোনের সামনে উপস্থিত তিনি। এবার তার পরিচয় নতুন মেয়াদে বিসিবি সভাপতি। দায়িত্ব নিয়েই বললেন, চার বছরের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন এখনই।
পরিচালক ও সভাপতি পদে নির্বাচনের পর নতুন পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভাও হয়ে যায় সোমবার রাতে। পরে সেই সভা মুলতুবি করা হয়, যা আবার শুরু হবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায়।
অনেকটা নাটকীয়ভাবে ফারুক আহমেদের বিদায়ের পর গত ৩০ মে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন আমিনুল। সেটি যতটা চমকপ্রদ ছিল, এবার নতুন বোর্ডে তার সভাপতি হওয়া ছিল আরও বেশি অনুমিত। বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর তিনিই যে আবার সভাপতি হচ্ছেন, এটা নিশ্চিত হয়ে যায় নির্বাচনের কদিন আগেই।
তার দায়িত্বের মেয়াদ চার বছরের। চার মাস আগেও এমন কিছু অভাবনীয় বলেই তিনি বার্তা দিয়েছিলেন। তখন জোর দিয়েই বলেছিলেন, স্বল্প মেয়াদে কাজ করতেই তিনি এসেছেন। তার সেই মনোভাব যে বদলে গেছে, তা এখন আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ অধিনায়ক ও প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান বললেন, দেশের ক্রিকেটে উন্নতির স্বপ্নকে হৃদয়ে ধারণ করেই তিনি দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে চান।
“এটাকে একটা জার্নির অংশ করে নিয়েছি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নের প্রেমে পড়ে গিয়েছি। হয়তো শর্ট টার্মের জন্য এসেছিলাম, স্বল্প মেয়াদে থাকাটাই সবসময় পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু যখন ট্রিপল সেঞ্চুরি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ছোট ছোট কাজ করা শুরু করলাম এবং সাফল্যগুলো দেখতে পেলাম, সেই লোভটা আমি ছাড়তে পারিনি। সেই লক্ষ্যেই রয়ে গেছি, টু সার্ভ মোর ফর মাই কান্ট্রি।”
স্বল্প মেয়াদে যখন বোর্ড প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন আইসিসির চাকরি ছেড়ে এসেছিলেন আমিনুল। সেসময় বলেছিলেন, আইসিসির চাকরিই তার জীবিকা। বিসিবি সভাপতির দায়িত্বে লম্বা সময় থাকার বাস্তবতা তার নেই, যেহেতু বোর্ড পরিচালকদের বা সভাপতির কোনো পারিশ্রমিক বা সম্মানী নেই।
তবে দীর্ঘমেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন বলছেন, জীবন-জীবিকার ব্যাপারটি নিয়ে এখন আর ভাবছেন না তিনি।
“ক্রিকেট বোর্ডের পদ অনারারি। প্রেসিডেন্টের পদ সবসময় অনারারি ছিল। সেটায় কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। সেই ব্যাপারটায় এখনও চিন্তা করি নাই। এখন ভেবেছি, ক্রিকেটটা একটা আমানত হিসেবে আমরা পেয়েছি। চাকরিটা যেহেতু আমি ছেড়ে এসেছি, ওই চাকরির ব্যাপারে এখন আর চিন্তা করছি না। এখন একটাই ফোকাস, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভিস দেওয়া।”
সরকারের হস্তক্ষেপ, অনিয়মসহ নানা অভিযোগে এই বিসিবি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ২১ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল, সদ্যবিদায়ী বোর্ডের পরিচালক ফাহিম সিনহা, সাবেক পরিচালক এসএম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবুসহ অনেক ক্রিকেট সংগঠক। আমিনুল বললেন, সভাপতি হিসেবে তিনি সবাইকে নিয়ে পথ চলার চেষ্টা করবেন।
"আমি একটা স্টেটমেন্ট দিতে চাই যে, আমরা সকলে একসাথে কাজ করতে চাই বাংলাদেশ ক্রিকেটে। যারা কেউ ক্রিকেট বোর্ডে আছে, কেউ ক্রিকেট বোর্ডে নেই, যারা সমস্ত স্টেকহোল্ডার, সবাইকে আহ্বান জানাব বাংলাদেশ ক্রিকেটে কাজ করতে এবং আমাদেরকে সহায়তা করতে। কে বোর্ডে আছে, কে বোর্ডে নেই, আমরা সকলকে আহ্বান জানাব আমাদের সাথে কাজ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। দরকার হলে আমরা তাদের কাছে যাব এবং যারা এই মুহূর্তে বোর্ডে নেই তাদেরও আমরা আহ্বান জানাব একসাথে এই পথ চলায় সহায়তা করে যেন।"
"আমরাই যাব উনাদের কাছে, অ্যাপ্রোচ করব বিভিন্নভাবে কীভাবে তারা আমাদেরকে সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশ তো সবার। নির্বাচন শুধু ছোট্ট একটা আনুষ্ঠানিক ব্যাপার। চেষ্টা করব সকলের কাছে গিয়ে একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে।"
আমিনুল যখন কথা বলছিলেন, তার পাশেই তখন ফারুক আহমেদ। চার মাস আগে এই ফারুককেও বিদায় নিতে হয়েছিল তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। এখন তিনিই ফিরেছেন বোর্ড পরিচালক ও সহ-সভাপতি হিসেবে। তবে পুরোনো হিসাব-নিকাশ, বৈরিতা সব পেছনে ফেলে দেশের ক্রিকেটের জন্য একই লক্ষ্যে একসঙ্গে ছোটার প্রত্যয় শোনালেন আমিনুল।
"আজকে যখন আমি সভাপতি হয়েছি, তখন প্রস্তাবক ছিলেন ফারুক ভাই এবং ফারুক ভাই যখন সহ-সভাপতি হয়েছেন, সেটার প্রস্তাবক ছিলাম আমি। এই কথাটা বলার মূল কারণ হচ্ছে যে, আমাদের সকলের আগে, নিজেদের পদের থেকে আগে হচ্ছে আমাদের ক্রিকেট। আমাদের এই ক্রিকেট আমরা কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, সেই লক্ষ্যে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।"
অতীত পেছনে ফেলে নতুন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা শোনালেন ফারুক আহমেদও। আরেক সাবেক অধিনায়ক, প্রথমবার বিসিবি পরিচালক হওয়া খালেদ মাসুদ বললেন, দেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় বয়ে নিতে চান তারা।