ওয়েস্ট ইন্ডিজ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
Published : 26 Jul 2025, 04:33 PM
সেন্ট কিটসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটির আগে টিম ডেভিড খেলে ফেলেছিলেন ২৮২ টি-টোয়েন্টি। কিন্তু তার নামের পাশে ছিল না কোনো সেঞ্চুরি। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে অচেনা সেই স্বাদ এবার অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে পেয়ে গেলেন তিনি। তাতে যেন আনন্দের শেষ নেই মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যানের।
ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান ডেভিড। ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় পাঁচ নম্বরে নেমে ১০২ রান করে দলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৩৭ বলের খুনে ইনিংসটি সাজান ১১ ছক্কা ও ৬টি চারে।
তার নৈপুণ্যে ২৩ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেট হাতে রেখে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত করে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ জয়।
ডেভিড যখন ক্রিজে যান তখন ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে অস্ট্রেলিয়া। কিছুক্ষণ পর ক্যামেরন গ্রিনের বিদায়ে বিপদ আরও বাড়ে সফরকারীদের। কিন্তু দলকে পথ হারাতে দেননি ডেভিড। প্রতিপক্ষের বোলারদের তুলাধুনা করে তুলে নেন রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি।
সপ্তদশ ওভারের প্রথম বলে রোমারিও শেফার্ডকে চার মেরে দলকে জেতানোর পাশাপাশি ৩৭ বলে নিজের সেঞ্চুরিও পূরণ করেন ডেভিড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যা দ্রুততম সেঞ্চুরি। ইনিংসটির পথে তার ১৬ বলের পঞ্চাশও দেশটির হয়ে দ্রুততম ফিফটি।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ২৮৩তম ম্যাচে এসে তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন ডেভিড।
২০ ওভারের এই সংস্করণে অবশ্য মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরি পাওয়া কিছুটা কঠিন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪৯ টি-টোয়েন্টি ইনিংসের ২৭টিতেই ৬ নম্বরে ব্যাটিং করেন ডেভিড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়ে ষষ্ঠবার নামেন পাঁচে। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে পাঁচ বা এর নিচে নেমে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান ডেভিড।
ঝড়ো ইনিংসে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ শেষে ডেভিড বললেন, সেঞ্চুরি ধরা দেবে তার ব্যাটে, ভাবনাতেও ছিল না।
“আমি রেকর্ডের জন্য খেলি না, তবে সত্যিই ভাবিনি সেঞ্চুরি করার সুযোগ পাব। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সেঞ্চুরি করা সবারই শৈশবের একটা স্বপ্ন। তাই এটা অবশ্যই আমার মাথায় ছিল।”
“যে পজিশনে আমি খেলছি, এখন পর্যন্ত অনেক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছি, কখনও সেঞ্চুরি করতে পারিনি। তাই এটা আমার জন্য কিছুটা নতুন এক অভিজ্ঞতা। তবে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ যে মিচেল ওয়েনকে পাশে পেয়েছি, যে সম্প্রতি দুটি সেঞ্চুরি (বিগ ব্যাশে) করেছে। সে আমার তরুণ সতীর্থ, তবে নিশ্চিতভাবেই তার অভিজ্ঞতা আমাকে সাহায্য করেছে।”
যে ব্যাট দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ডেভিড, ব্যাটটি সদ্য অবসরে যাওয়া আন্দ্রে রাসেলের কাছ থেকে বছরখানেক আগে উপহার পেয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটের জন্য নয়, এমন ইনিংস খেলতে পারার পেছনে কঠোর পরিশ্রমের কথা বলেছেন ২৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
“আমি অনেক অনুশীলন করি এবং সত্যি বলতে, গত ছয় মাস ধরে করা প্রচুর অনুশীলন আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।”
“মূল বিষয়টা আসলে শট নির্বাচনের, আসলে খুব জোর দিয়ে মারার বিষয় নয়। আজ রাতে মনে হয়েছে, আমি জোরে মারার চেষ্টা করছি না। তারপরও সম্ভবত শতকরা বেশ ভালো পরিমাণ বলই বাউন্ডারির ওপারে পাঠাতে পেরেছি।”
বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
রাসেলের ব্যাট দিয়ে উইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে ১১ ছক্কার সেঞ্চুরিতে রেকর্ড চুরমার ডেভিডের
ডেভিডের দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরির দিনে রেকর্ড বইয়ে আরও যত আঁকিবুকি