Published : 23 Aug 2024, 10:52 AM
দুই প্রান্তে তখন দারুণ বোলিং করছেন ড্যানিয়েল ওরাল ও জর্ডান ক্লার্ক। ল্যাঙ্কাশায়ার দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলেছে দ্রুতই। তবে সবার দৃষ্টি তখন নতুন ব্যাটসম্যানের দিকে। গ্যালারির দর্শকেরা তুমুল করতালিতে স্বাগত জানালেন সেই ব্যাটসম্যানকে। দর্শকদের মধ্যে হসপিটালিটি বক্সে ছিলেন অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফও। তবে স্রেফ খেলা দেখার জন্যই নয়, সাবেক ইংলিশ অলরাউন্ডার মাঠে ছিলেন রক্তের টানেও। নতুন এই ব্যাটসম্যান যে তারই ছেলে!
বেশ আলোড়ন তুলেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পা রাখলেন অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফের ছেলে রকি ফ্লিন্টফ। গোটা প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার ল্যাঙ্কাশায়ারে খেলেছেন অ্যান্ড্রু। ছেলে রকির অভিষেকও হলো একই কাউন্টির হয়ে। সারের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার ওভালে খেলতে নামলেন তিনি ১৬ বছর ১৩৭ তিন বয়সে। ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টির দীর্ঘ সমৃদ্ধ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার রকিই।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের আগে ৭টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন রকি। সেখানেও সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে গড়েছেন রেকর্ড। সপ্তাহ দুয়েক আগে ৮৮ রানের ইনিংস খেলেছেন মিডলসেক্সের হয়ে। তাকে মনে করা হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে ইংলিশ ক্রিকেটের সেরা প্রতিভাদের একজন।
সেই প্রতিভার ছাপ কিছুটা রেখেছেন লাল বলে অভিষেক ইনিংসেও। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ের পর চার নম্বরে নেমে ৩২ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি।
প্রথম বলেই দুই রান নিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। ইনিংসে চার মারেন তিনটি। ১৩ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও অবশ্য রক্ষা পান। শেষ পর্যন্ত ৭৯ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে তিনি ক্লার্কের বলে ক্যাচ দেন সারের ভারতীয় ক্রিকেটার সাই সুদার্শানকে।

ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন ম্যাথু হার্স্ট। গুটিয়ে যায় তারা ২০৪ রানে। সারে প্রথম দিন শেষ করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮৩ রান নিয়ে।
২০০৮ সালের এপ্রিলে জন্ম নেওয়া রকি ইংলিশ ক্রিকেটে আলোচনায় আছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেন তিনি গত এপ্রিলে। ১৬ বছর বয়সেই ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক পান তিনি গত জুনে। দুদিন পরই প্রথম পেশাদার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে।
গত মাসে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে যুব টেস্টে সেঞ্চুরি উপহার দেন রকি। ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী সেঞ্চুরির কীর্তি সেটি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পা রাখলেন তিনি।
অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফের বড় ছেলে ও রকির বড় ভাই কোরি ফ্লিন্টফও ক্রিকেটার। ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় একাদশে নিয়মিতই খেলছেন ১৮ বছর বয়সী কোরি। বাবার মতো তিনিও পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় একাদশে দুই ভাইয়ের জুটি হয়েছে নিয়মিতই।
অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফকে নতুন করে পরিচয় করে দেওয়ার আছে সামান্যই। ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন তিনি। ২০০৫ ও ২০০৯ অ্যাশেজ জয়ের নায়ক ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ৭৯ টেস্ট ও ১৪১ ওয়ানডে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৭ হাজারের বেশি রান করেছেন তিনি, উইকেট নিয়েছেন ৪০০টি।