Published : 01 Oct 2025, 07:21 PM
লক্ষ্য ছিল এমনিতেই ছোট। তা আরও অনায়াস হয়ে গেল মাহমুদুল হাসান জয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রামের জয় সঙ্গে নিয়েই ফিরলেন তিনি। খুলনা বিভাগের উত্তেজনাপূর্ণ জয়ে ব্যাটে-বলে অবদান রাখলেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান।
জয়ের জয়যাত্রা
এক ম্যাচ আগেই ৩৭ বলে ৭১ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। এবার তার ব্যাট থেকে এলো ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৮ বলে অপরাজিত ৭৮।
সিলেটে জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির ম্যাচে বরিশাল বিভাগকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ ধরে রাখল অপরাজেয় পথচলা।
অথচ বরিশালের শুরুটা ছিল বেশ ভালো। প্রথম তিন ওভারে ১৫ রান উঠলেও চতুর্থ ওভারে নাঈম হাসানকে টানা চার বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন ইফতেখার হোসেন ইফতি। ৪.২ ওভারে ৪০ রান উঠে যায় শুরুর জুটিতে।
রায়ান রাফসান রহমান (৮) আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে দলকে এগিয়ে নেন ইফতেখার ও ফজলে মাহমুদ। কে পর্যায়ে বরিশালের রান ছিল ১ উইকেটে ৭০।
২৬ বলে ৩৩ করে ইফতেখারের বিদায়ের পরই উল্টোযাত্রার শুরু। ফজলে মাহমুদ থামেন ২৬ রানে। পরে উইকেট হারায় নিয়মিত বিরতিতে। দল হারায় পথ।
শেষ দিকে সোহাগ গাজী ১৪ বলে ১৮ রান করলেও দল থেমে যায় স্রেফ ১২৮ রানেই।
রান তাড়ায় চট্টগাম ছুটে যায় দারুণ গতিতে। ৩.৩ ওভারেই ৪৩ রানের উদ্বোধনী জুটির পর বিদায় নেন মুমিনুল হক (১১ বলে ২২)। পরে শাহাদাত হোসেন ফেরেন ১০ রান করে।
তবে জয় ক্রিজে ছিলেন বলে জয় পেতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি চট্টগ্রামকে। সৈকত আলিকে (২৮ বলে ২৩*) নিয়ে তিনি দলকে নিয়ে যান জয়ের ঠিকানায়।
চার ম্যাচে চট্টগ্রামের এটি তৃতীয় জয়, পরিত্যক্ত হয়েছে এক ম্যাচ। বরিশাল চার ম্যাচে জিততে পারেনি একটিও।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বরিশাল বিভাগ: ২০ ওভারে ১২৮/৭ (রাফসান ৮, ইফতেখার ৩৩, ফজলে মাহমুদ ২৬, সালমান ৬, মইন ৭, জাহিদুজ্জামান ৮, সোহাগ ১৮*, মেহেদি ১, তানভির ১*; হাসান ৪-০-২৯-১, নাঈম ৪-০৩২-০, রুবেল ৪-০-১৮-১, মেহেদি রানা ৪-০-২২-৩, জয় ১-০-১১-০, মুরাদ ৩-০-১০-২)।
চট্টগ্রাম বিভাগ: ১৬.৩ ওভারে ১৩৩/২ (মুমিনুল ২২, জয় ৭৮*, শাহাদত ১০, সৈকত ২৩*; তানভির ৪-০-৩১-০, আরাফাত ১.৩-০-১৭-০, মেহেদি ১-০-১১-০, সোহাগ ৩-০-৩০-১, মইনুল ৪-০-১৭-০, ফজলে মাহমুদ ১-০-১১-০, মইন ২-০-১৬-০)।
ফল: চট্টগ্রাম বিভাগ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: মাহমুদুল হাসান জয়।
খুলনার জয়ে উজ্জ্বল জিয়া
ব্যাট হাতে যেন নিজের সেরা সময়ে ফিরে গিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। চার ছক্কায় তার ব্যাট থেকে এলো ১৬ বলে ৩৬ রান। পরে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি শেষ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরা এই ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সী অলরাউন্ডার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনার শুরুটা ছিল মন্থর। প্রথম সাত ওভারে মাত্র ৪২ রান তোলে তারা।
ওপেনিংয়ে ইমরানউজ্জামান ১৭ রান করতে বল খেলেন ২৫টি। আরেক ওপেনার এনামুল হক (বিজয়) ৩৫ রান করেন ৩৪ বল খেলে।
জাতীয় দলে ডাক পাওয়া সৌম্য সরকারকে হারিয়ে শক্তি কিছুটা খর্ব হয়ে যায় খুলনার ব্যাটিংয়ের। তিনে নেমে ভালো করতে পারেননি আফিফ হোসেন (১০ বলে ৫)।
পরে অধিনায়ক মোহাম্মাদ মিঠুন করেন ১৭ বলে ২৫, নাহিদুল ইসলাম অপরাজিত থাকেন ১৮ বলে ২০ করে। মুশফিক হাসানের করা শেষ ওভারে তিনটি ছক্কা মারেন জিয়াউর।
প্রথম ১২ ওভারে মাত্র ৬৮ রান তোলা খুলনা পরের ৮ ওভারে তোলে ৮১ রান।
রান তাড়ায় রংপুর বিভাগও এগোয় ধীরগতিতে। প্রথম ১০ ওভারে কেবল ১ উইকেট হারালেও রান ওঠে মাত্র ৬৪। ওপেনিংয়ে নামা তানবীর হায়দারের রান তখন ২৩ বলে ১৯।
আগের ম্যাচে ঝড়ো ফিফটি করা অনিক সরকার সেতু এ দিন ২৮ রান করেন তিন ছক্কা ও এক চারে। তাকে বিদায় করেন জিয়াউর।
অধিনায়ক আকবর আলি আউট হন ২০ বলে ১৯ করে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম বলে আউট হন আলাউদ্দিন বাবু।
রানের গতি একটু বাড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন তানবীর।
শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন পড়ে ২২ রানের। মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির করা ১৯তম ওভারে নাঈম ইসলাম টানা দুটি চার মারলেও ওভার থেকে আসে কেবল ৯ রান।
শেষ ওভারে ১৩ রানের সমীকরণে কোনো বাউন্ডারি দেননি জিয়াউর। এই ওভারেও কেবল ৯ রান নিতে পারে রংপুর।
২০ ওভার খেলে ৪৭ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন তানবীর। তবে দলের কাজে লাগেনি সেই ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
খুলনা বিভাগ: ২০ ওভারে ১৪৯/৪ (ইমরানউজ্জামান ১৭, এনামুল ৩৫, আফিফ ৫, মিঠুন ২৫, নাহিদুল ২০*, জিয়াউর ৩৫*; মুশফিক ৪-০-৪২-০, হাশিম ৪-০-২০-২, সাকলাইন ৪-০-৩১-০, জাভেদ ৪-০-১৮-১, নাসির ২-০-৭-১, আলাউদ্দিন ২-০-২২-০ )।
রংপুর বিভাগ : ২০ ওভারে ১৪৬/৬ (জাভেদ ১৫, তানবীর ৬০*, অনিক ২৮, আকবর ১৯, সাকলাইন ৫, আলাউদ্দিন ০, আল মামুন ১, নাঈম ১১*; টিপু ৪-০-২৫-০, নাহিদুল ৩-০-১৭-১, রবিউল ৩-০-৩২-৩, মৃত্যুঞ্জয় ৪-০-২৭-১, জিয়াউর ৩-০-১৯-১, জীবন ২-০-১৪-০, ইয়াসিন ১-০-১০-০)
ফল: খুলনা বিভাগ ৩ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: জিয়াউর রহমান।