Published : 04 Jul 2026, 09:06 PM
ঢাকার আদাবর এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় পাঁচ আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার এসআই হাফিজুর রহমান আসামি ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান পাঁচ আসামির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।
জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হলেন-নিরব, তার ভাই রিপন, সুমন মিয়া ও তাদের বাবা মজনু মিয়া, শহীদ।
প্রসিকিউশনের এসআই মিজান বলেন, ওই পাঁচ আসামির সঙ্গে আদালতে হাজির করা মিজান নামের আরেক আসামিকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার জামালপুর সুমনকে ও ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার বরাইল এলাকা থেকে শহীদকে আটকের তথ্য দিয়েছিল র্যাব।
অপর চার আসামিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার সাহেবনগর এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।
ওই দিন বাদশা খুনে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার সোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবির নামে দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার রাতে আদাবরে ফুটবল বিশ্বকাপে পছন্দের দলের জয় উদযাপন ঘিরে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা ও সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাদশাহ।
ঘটনার তিন দিন পর শনিবার তার স্ত্রী স্মৃতি আক্তার আদাবর থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামি হিসেবে মজনু ও তার তিন ছেলে এবং শহীদের নাম দেওয়া হয়। এছাড়া অচেনা আরো ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২৯ জুন রাত দেড়টার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল জয়লাভ করে। ব্রাজিলের জয়ের পর নিরব উচ্চস্বরে বাঁশি বাজাতে থাকে। হাবিবুর রহমান নামে একজন হৃদরোগী তাকে বাঁশি বাজাতে নিষেধ করেন, এতে নিরব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে আসেন।
হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি মীমাংসার জন্য আসামিদের মোহাম্মদপুর থানাধীন নবোদয় হাউজিংয়ে তার অফিসে ডাকেন। ৩০ জুন দুপুর ১২টার দিকে তিন আসামি সাদ্দামের টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পথরোধ করে। তখন তিনি হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে পরিচয় দিলে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কপালে আঘাত করে। এ ঘটনার পর বিরোধ মেটাতে আসামিদের নিয়ে হাসান মিয়া লেদু নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি নবোদয় হাউজিংয়ের কাঁচাবাজার এলাকায় একটি দোকানে সালিশের উদ্যোগ নেয়।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামিরাসহ স্থানীয় কিছু লোকজন দোকানে উপস্থিত হন। আসামিরা যখন জানতে পারে তাদের নিয়ে সালিস হবে তখন তারা কৌশলে বের হয়ে নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে গিয়ে ওঁৎ পেতে থাকে। সালিশের জন্য সাদ্দাম ও বাদশাও ওই দোকানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আসামিরা চলে যাওয়া দোকানো জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা চলে যায়।
রাত সাড়ে ৮ টার দিকে চার রাস্তার মোড়ে আসামিরা সাদ্দাম ও বাদশা ওপর হামলা করে। চাকু ও চাপাতি দিয়ে দুজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে বাদশার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত সাদ্দাম সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আগের খবর:
আদাবরে বিএনপি নেতা হত্যায় বাবা ও দুই ছেলেসহ আরো ৬ জন আটক
আদাবরে বিএনপি নেতা হত্যায় সন্দেহভাজন দুই আসামি কারাগারে
আদাবরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা: তিন সন্দেহভাজন আটক
বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ বলছে ‘ফুটবল বিশ্বকাপে সমর্থন’ নিয়ে বিরোধ