Published : 06 May 2026, 01:31 AM
থাঙ্গারাসু নাটারাজানকে টানা তিন বলে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারার পর যখন দুই রান নিলেন সাঞ্জু স্যামসন, তার আরেকটি সেঞ্চুরি মনে হচ্ছিল নাগালেই। শতক থেকে তখন ২১ রান দূরে তিনি, জয়ের জন্য তার দলের প্রয়োজন ৩০ রান। জয় নিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেও, তিন অঙ্ক ছুঁতে পারলেন না স্যামসন।
তবে ৫২ বলে ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসেই দারুণ এক কীর্তি গড়ে ফেললেন স্যামসন। তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলের এক আসরে প্রাথমিক পর্বে কোনো একটি দলের বিপক্ষে দুই ম্যাচ মিলিয়ে দুইশ বা এর বেশি রান করলেন তিনি।
চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে এই স্বাদ পেলেন স্যামসন। গত ১১ এপ্রিল দলটির বিপক্ষে প্রথম দেখায় ১৫ চার ও চার ছক্কায় ৫৬ বলে অপরাজিত ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এবার সাত চার ও ছয় ছক্কায় করলেন ৫২ বলে অপরাজিত ৮৭।
এই দুই ম্যাচ মিলিয়ে স্যামসনের রান ২০২।
প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন ভিরাট কোহলি। ২০১৬ আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে দুই ম্যাচে তিনি করেন ২০৯ রান (১০০* ও ১০৯)।
২০২২ আইপিএলে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে লোকেশ রাহুল করেন ২০৬ রান (১০৩* ও ১০৩*)।
দিল্লিতে মঙ্গলবার ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতে সতর্ক ছিলেন স্যামসন। নবম ওভারে তার রান ছিল ২২ বলে ২২। নাটারাজানকে পরপর দুটি চারে ডানা মেলেন তিনি। স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভের টানা তিন বলে দুটি ছক্কা ও একটি চারের পর এক রান নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন ৩২ বলে।
একপর্যায়ে তার রান ছিল ৩৪ বলে ৫৮। পরে আবার রানের গতি কমে যায় কিছুটা। ফলে আসরে তৃতীয় সেঞ্চুরি তার হয়নি।
চেন্নাই ৮ উইকেটে জিতে যায় ১৫ বল হাতে রেখে।
আলোচনার ঝড় তুলে রাজস্থান রয়্যালস থেকে চেন্নাইয়ে যোগ দিয়ে এবারের আইপিএলের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না স্যামসনের। প্রথম তিন ম্যাচে ৭.৩৩ গড় ও ১১৬ স্ট্রাইক রেটে তিনি করতে পারেন কেবল ২২ রান। পরের সাত ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে ৯৫ গড় ও ১৭২ স্ট্রাইক রেটে তার রান ৩৮০! সেঞ্চুরি দুটি।
আরেকটি অদ্ভুত বৈপরীত্যও আছে স্যামসনের ব্যাটিংয়ে। এখন পর্যন্ত চেন্নাইয়ের জেতা পাঁচ ম্যাচে ১৮১ গড় ও ১৭৮.৩২ স্ট্রাইক রেটে তার রান ৩৬২। আর দলটির হারা পাঁচ ম্যাচে ৮ গড় ও ১০৮.১ স্ট্রাইক রেটে তার রান ৪০।
তাই সামনেও, চেন্নাইয়ের জয়ের জন্য স্যামসনের ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠা যেন খুব জরুরি!