Published : 01 Jun 2026, 07:38 PM
আইসিসির সদস্যপদের শর্তাবলীর ‘গুরুতর লঙ্ঘনের’ কারণে ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ স্থগিত করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা। লাল বলের টেস্ট ম্যাচে গোলাপি বলের ব্যবহার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করাসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আইসিসির বোর্ড সভায়।
ভারতের আহমেদাবাদে রোববার হয় এই সভা। আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে আসা বেশ কিছু সুপারিশ অনুমোদন করেছে আইসিসি বোর্ড। সেগুলো সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইসিসি।
ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ স্থগিত করা হলেও আইসিসি জানিয়েছে, কানাডার জাতীয় দলগুলো আগের মতোই আইসিসি ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তারা আইসিসির তত্ত্বাবধানে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তহবিল পাবে, যাতে প্রশাসনিক সমস্যার কারণে ক্রিকেটারদের ওপর বিরূপ প্রভাব না পড়ে।
আইসিসি আরও জানিয়েছে, ক্রিকেট কানাডাকে সদস্যপদ পুনর্বহালের জন্য কিছু শর্ত দেওয়া হবে, যার লক্ষ্য হবে প্রশাসনিক ঘাটতিগুলো পূরণ করা। আইসিসির ‘নর্মালাইজেশন’ কমিটি এই শর্তগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
লাল বলের টেস্ট ম্যাচে আলোকস্বল্পতা থাকলে উভয় দলের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে গোলাপি বলের ব্যবহার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। এটিসহ আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটির কয়েকটি সুপারিশের খবর আগেই প্রকাশ করেছিল ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ।
এতদিন শুধু দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচে গোলাপি বল ব্যবহার করা হতো।
আলোকস্বল্পতার কারণে টেস্ট ম্যাচে যেন সময় নষ্ট না হয়, সেজন্য গবেষণারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। যেখানে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করবে তারা।
প্লেয়িং কন্ডিশনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে প্রধান কোচ বা তাদের মনোনীত প্রতিনিধিরা নির্ধারিত পানি পানের বিরতির সময় মাঠে নেমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দুই ইনিংসের মাঝের বিরতির সময় ২০ মিনিট থেকে কমিয়ে ১৫ মিনিট করা হয়েছে। সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের ক্ষেত্রে, কোনো বোলারকে রিপোর্ট করা হবে কি না, তা বিবেচনা করার সময় মাঠের আম্পায়ারদের ‘হক-আই’ প্রযুক্তির ডেটা ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
এমসিসি ক্রিকেট আইনের বাকি সব পরিবর্তন আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে আইসিসি।
নারী ক্রিকেট নিয়েও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত এসেছে। ২০২৭ আইসিসি উইমেন’স চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জুন-জুলাই থেকে সরিয়ে ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে পাঁচটি পূর্ণ সদস্য ও পাঁচটি সহযোগী দেশকে নিয়ে ১০ দলের একটি উইমেন’স ইমার্জিং নেশন্স ট্রফি চালু করা হবে।
২০২৮ সালের উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন কীভাবে হবে, সেটিও চূড়ান্ত হয়েছে। আসরটি হবে পাকিস্তানে, হাইব্রিড মডেল চুক্তির অংশ হিসেবে ভারতের ম্যাচগুলো হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। ১২টি দলের মধ্যে ১০টি দল সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে, যার মধ্যে থাকবে ইংল্যান্ডে এই মাসে অনুষ্ঠেয় আসরের শীর্ষ আটটি দল। স্বাগতিক দেশ আগেই যোগ্যতা অর্জন করে ফেললে ২০২৬ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ের পরের শীর্ষ দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। বাকি দুটি দল আঞ্চলিক বাছাইপর্ব এবং এরপর ১০ দলের একটি বৈশ্বিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে আসবে।
বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসি বোর্ড। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে কীভাবে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।