Published : 26 Mar 2026, 10:27 AM
আইপিএল শুরুর সময় সবচেয়ে কম মূল্যের ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল রাজস্থান রয়্যালস। প্রথম আসরে চমকপ্রদ শিরোপার পর আর কখনও ট্রফির ছুঁয়ে দেখতে পারেনি তারা। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের ব্র্যান্ড মূল্য ছুঁয়েছে আকাশ। সেটিই ফুটে উঠল মালিকানা বদলের পালায়। ১৬৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হেয়ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি, ভারতীয় মুদ্রায় যা ১৫ হাজার ২৯০ কোটি রুপির আশেপাশে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কাল সোমানির নেতৃত্বে একটি কনসোর্টিয়াম কিনে নিয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়া সোমানি আগে থেকেই এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বিনিয়োগকারীদের একজন। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর খবর, আরও দুজনের সঙ্গে মিলে তিনি রাজস্থানের সম্পূর্ণ মালিকানা গ্রহণ করেছেন।
এই নিয়ে পরপর দুই দিন আকাশচুম্বি দামে আইপিএলের দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বদলের খবর এলো। আগের দিনই জানা গিয়েছিল, গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মালিকানা বদল হয়েছে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে, ভারতীয় মুদ্রায় যা ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি রুপির আশেপাশে।
আইপিএল শুরুর সময় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল বেঙ্গালুরু, মূল্য ছিল ১১ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। সবচেয়ে কম দামি ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থানের মূল্য ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
প্রথম আসরে শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বে রূপকথার মতো শিরোপা জয়ের পর আর কেবল একবারই ফাইনালে খেলেছে রাজস্থান (২০২২)। গত আসরে ১০ দলের মধ্যে তাদের অবস্থান ছিল নবম। কিন্তু ব্র্যান্ড মূল্য বেড়েছে তরতরিয়ে।
আইপিএল শুরুর সময় এক মার্কিন ডলারের সমমান ছিল ৪০ ভারতীয় রুপি, যেখানে বর্তমানে তা ৯৪ ভারতীয় রুপি। রুপির হিসাবে এখন সোমানি নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের দর ২০০৮ সালের তুলনায় ৫৭ গুণ বেশি।
সোমানির সঙ্গে এই কনসোর্টিয়ামে সঙ্গী যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) দুটি দলের কর্ণধার- ডেনভার ব্রঙ্কোসের রব ওয়াল্টন এবং ডেট্রইট লায়ন্সের স্বত্বাধিকারী শিলা ফোর্ড হ্যাম্পের ছেলে মাইকেল হ্যাম্প।
আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের পাশাপাশি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির এসএ টোয়েন্টির দল পার্ল রয়্যালস ও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দল বারবাডোজ রয়্যালসের মালিকানাও এখন সোমানির নেতৃত্বে এই কনসোর্টিয়ামের।
হ্যাম্পস পরিবার, ওয়ালটন এবং সোমানির সাথে মিলে ডেট্রইটের মোটর সিটি গলফ ক্লাব ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা গোষ্ঠীরও অংশ, যেটি গলফ কিংবদন্তি টাইগার উডস এবং ররি ম্যাকিলরয়ের মালিকানাধীন এবং ২০২৭ সালে ইনডোর গলফ লীগ টিজিএল-এ যোগ দিতে চলেছে।

জানা গেছে যে, একাধিক দফা নিলামের পর গত ২০ মার্চ বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয় সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামটি, যার মধ্যে একাধিক চূড়ান্ত পর্যায়ের বাধ্যতামূলক দরপত্রও ছিল। মালিকানার লড়াইয়ে এই কনসোর্টিয়ামটি যাদেরকে পেছনে ফেলতে পেরেছে, তাদের মধ্যে ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-স্বত্বাধিকারী ও ল্যান্সার ক্যাপিটালের প্রধান অ্যাভ্রান গ্লেজার, সেইসঙ্গে ক্যাপ্রি গ্রুপ, আদিত্য বিরলা গ্রুপ এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপ।
আদিত্য বিরলা গ্রুপ এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপ পরে একসঙ্গে জুটি গড়ে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে কেটি কনসোর্টিয়াম গড়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু কিনে নিয়েছে।
সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম রাজস্থানের জন্য এতটা আগ্রাসীভাবে দর হাঁকানোর কারণ মনে করা হচ্ছে, প্রযুক্তি-সচেতন এই বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীটি আইপিএলের বিকাশের সম্ভাবনা এবং বিশ্ববাজার হিসেবে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির ওপর বিশ্বাসী ছিল। চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য এই কনসোর্টিয়াম এখন ফ্র্যাঞ্চাইজির বর্তমান কর্ণধার মানোজ বাদালের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এরপর ভারতীয় বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আলোচনা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০০৮ সালে সবচেয়ে কম মূল্যায়িত ফ্র্যাঞ্চাইজি হলে প্রয়াত শেন ওয়ার্নের জাদুকরি নেতৃত্বে রাজস্থান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অভাবনীয়ভাবে। আইপিএলের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে তারা নিজেদের অংশীদারিত্ব বিক্রি করে ২০০৯ সালে। বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি ও তার স্বামী রাজ কুন্দ্রা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ১১.৭ শতাংশ অংশীদারিত্ব কিনে নেন। পরে অবশ্য তারা সরে দাঁড়ান। ২০২১ সাল নাগাদ প্রধান বিনিয়োগকারী হয়ে ওঠেন মানোজ বাদালে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিটি প্রকাশ করে যে, ততদিনে তার অংশীদারিত্ব ৬৫ শতাংশর বেশি হয়ে গেছে।
এর পেছনে ছিল তার একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান, যেখানে তিনি বহু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীকে যুক্ত করেছিলেন। এই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিলেন ইয়ান ম্যাককিকন (শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া ও বিনোদন সংস্থা টিম৮-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার এবং লেভার কাপের স্রষ্টা), বিটি-এর সাবেক প্রধান নির্বাহী ফিল জ্যানসেন, ফিউচারলার্ন ও নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান রন কালিফা এবং বেটফেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা এড রে। এছাড়াও সোমানি, সিমির মায়ো এবং মিহির প্যাটেলের মতো একদল প্রযুক্তি উদ্যোক্তাও এতে যুক্ত হন।
২০২১ সালে যুক্ত হওয়া আরেকজন বড় মাপের বিনিয়োগকারী হলো রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স, যাদের লিভারপুল ও বস্টন রেড সক্সের মূল সংস্থায় অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং রাজস্থান রয়্যালসেও তাদের ১৫ শতাংশ শেয়ার আছে। এছাড়াও আরেক বড় বিনিয়োগকারী এবং মূল মালিকানা গোষ্ঠীর অংশ ছিলেন মিডিয়া টাইকুন রুপার্ট মারডকের বড় ছেলে ল্যাকলান মারডক।
মালিকানা বদলের এই প্রক্রিয়া অবশ্য রাজস্থান রয়্যালসের মাঠের পথচলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। আগামী সোমবার চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের আইপিএল অভিযান শুরু হবে।