Published : 24 Jun 2026, 03:26 PM
সেই ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন স্যার রিচার্ড হ্যাডলি। তখনও তিনি ছিলেন টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার। কিংবদন্তির বিদায়ের পর নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের ওই জায়গাটিও থমকে ছিল। ড্যানি মরিসন, ড্যানিয়ল ভেটোরি, ক্রিস কেয়ার্নস, ক্রিস মার্টিন, টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, নিল ওয়্যাগনারের মতো অনেকেই রাঙিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেট। কিন্তু কোনো কিউই বোলার পারছিলেন না চূড়ায় পা রাখতে। অবশেষে হ্যাডলির ৩৬ বছর পর পারলেন ম্যাট হেনরি।
আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বোলার এখন এই পেসার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভাল টেস্টে ১১ উইকেট নিয়ে এক লাফে ছয় ধাপ এগিয়ে এক নম্বরে উঠে গেছেন তিনি। এককভাবে অবশ্য নয়, যৌথভাবে শীর্ষে তিনি জাসপ্রিত বুমরাহর সঙ্গে।
পরিবর্তন আছে টেস্ট ব্যাটসম্যানরদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষেও। সেখানে অবশ্য চেনা এক মুখই ফিরেছেন নতুন করে। আবার এক নম্বরে উঠে এসেছে জো রুট। দুইয়ে নেমে গেছেন তার সতীর্থ হ্যারি ব্রুক।
হেনরির টেস্ট ক্যারিয়ার প্রস্ফূটিত হয়েছে একটু দেরিতেই। ২০১৫ সালে অভিষেক হলেও এখনও পর্যন্ত খেলেছেন কেবল ৩৫ টেস্ট। মূলত বোল্ট-সাউদি-ওয়্যাগনারের মতো পেসাররা থাকায় তার সুযোগ ছিল সীমিত। তবে গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতই খেলছেন এবং পারফর্ম করছেন।
ক্যারিয়ারের প্রথম ছয় বছরে ১৪ টেস্ট খেলে তার উইকেট ছিল ৩৭টি। গত চার বছরে ২১ টেস্ট খেলে নিয়েছেন ১১৫ উইকেট। সেই ধারাবাহিকতার পথ ধরে পৌঁছে গেলেন শীর্ষে।
নিউ জিল্যান্ডের সুদীর্ঘ ক্রিকেট ইতিহাসে আর মাত্র দুজন বোলার পেয়েছেন এই সাফল্য। ১৯৪৭ সালে পেরেছিলেন জ্যাক কাউয়ি, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নানা সময়ে ছিলেন হ্যাডলি।
হেনরির রেটিং পয়েন্ট এখন ৮৭০। নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান-বোলার মিলিয়ে এর চেয়ে বেশি রেটিং পয়েন্ট ছিল মাত্র দুজনের। তারা দুজনই দেশটির সর্বকালের সেরা দুই ক্রিকেটার। ১৯৮৫ সালে ৯০৯ রেটিং পয়েন্ট পর্যন্ত গিয়েছিলেন হ্যাডলি, ২০২১ সালে ৯১৯ ছুঁয়েছিলেন কেন উইলিয়ামসন।
সাত থেকে এক নম্বরে ওঠা হেনরিকে জায়গা দিতে এক ধাপ করে নিচে নেমে গেছেন মিচেল স্টার্ক (৩), প্যাট কামিন্স (৪), মার্কো ইয়ানসেন (৫), স্কট বোল্যান্ড (৬) ও নোমান আলি (৭)।
বাংলাদেশের সেরা বোলার তাইজুল ইসলাম আগের মতোই আছেন ১২ নম্বরে।
হেনরি ১১ উইকেট নেওয়ার টেস্টেই ৪৬ ও ৭৭ রানের ইনিংস খেলে শীর্ষে ফিরেছেন রুট। ওই টেস্টে ২৪ ও ৫৮ রান করে ব্রুক নেমে গেছেন দুইয়ে।
গত দেড় বছরে রুট ও ব্রুকের মধ্যেই শীর্ষস্থান হাতবদল হয়েছে ছয় দফায়।
ওভালে ৩৩ ও ৭৬ রানের ইনিংস খেলে দুই ধাপ এগিয়ে দশে উঠেছেন রাচিন রাভিন্দ্রা। ৪৪ ও ৬৮ রান করে পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১৬ নম্বরে এসেছেন ড্যারিল মিচেল, ক্যারিয়ারের টেস্ট সেঞ্চুরিতে আট ধাপ এগিয়ে ৩১তম স্থানে এখন গ্লেন ফিলিপস এবং দলে ফেরার টেস্টে সেঞ্চুরি করে ১৩ ধাপ এগিয়ে ৪০ নম্বরে হেনরি নিকোলস।
বাংলাদেশের খেলা না থাকলেও এক ধাপ এগিয়ে ১৪তম স্থানে উঠেছেন মুশফিকুর রহিম, এক ধাপ এগিয়ে একুশে লিটন কুমার দাস।
অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে আগের মতোই শীর্ষে রাভিন্দ্রা জাদেজা, দুইয়ে মার্কো ইয়ানসেন, তিনে মেহেদী হাসান মিরাজ।